শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

শ্রদ্ধায় স্মরণ: কামিনী রায়

কামিনী রায় ছিলেন একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী, নারীবাদী লেখিকা ও ব্রিটিশ ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রীধারী ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন পেশায় ছিলেন একজন বিচারক। পাশাপাশি ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক হিসেবেও তাঁর বেশ নামডাক ছিল।কামিনী রায় ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী, ভাবুক ও কল্পনাপ্রবণ। তিনি কলকাতার বেথুন ফিমেল স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৮০), বেথুন কলেজ থেকে এফএ (১৮৮৩) এবং সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ (১৮৮৬) পাস করেন। একই বছর তিনি বেথুনে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে অধ্যাপক হন। ১৮৯৪ সালে কেদারনাথ রায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়মূলত কেদারনাথ কামিনীর কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপশি তিনি সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর, বিশেষত নারীকল্যাণমূলক কাজেও আত্মনিয়োগ করেন। তিনি নারীশ্রমিক তদন্ত কমিশনের অন্যতম সদস্য, বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সহসভাপতি ছিলেন।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’ প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

১৯০৯ সালে কামিনী রায়ের স্বামিবিয়োগ ঘটে। স্বামীর এ অকালমৃত্যু তাঁর ব্যক্তিজীবনের মতো সাহিত্যিক জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাঁর কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব সর্বাধিক।

তিনি যেহেতু সংস্কৃতে পণ্ডিত ছিলেন, সেহেতু সংস্কৃত সাহিত্যের বিষয় অবলম্বনে রচিত তাঁর কবিতাগুলো অপেক্ষাকৃত উত্কৃষ্ট মানের। তাঁর কবিতায় জীবনের সাধারণ ঘটনাবলি হৃদয়ের সুকুমার অনুভূতির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

কামিনী রায়ের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো : ‘নির্মাল্য’, ‘পৌরাণিকী’, ‘গুঞ্জন’ (শিশুকাব্য), ‘ধর্ম্মপুত্র’ (অনুবাদ), ‘মাল্য ও নির্মাল্য’, ‘অশোকসঙ্গীত’ (সনেট), ‘অম্বা’ (নাটক), ‘বালিকা শিক্ষার আদর্শ’, ‘ঠাকুরমার চিঠি’, ‘দীপ ও ধূপ’, ‘জীবনপথে’ (সনেট) প্রভৃতি।

বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন। শেষ জীবনে কবি কামিনী রায় ঢাকার হাজারীবাগে বাস করতেন। ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

লেখক পরিচিতি

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা