প্রতীক্ষা
শিশির ভেজা,শিউলী ঝড়া ধুসাভ সকাল
মৃদু সমীরণ,
শুভ্র কাশফুলের চামর দোলানো অঙ্গভঙ্গি
নীলাকাশেল বক্ষলগ্ন ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ,
যেন মাতৃক্রোড়ে ছোট্ট শিশুটির মত
নিঃশ্চিন্তে মুখে বিভোর;
শুনি কার আগমনী গীত!
যাঁর প্রতীক্ষায় উন্মুখ গিরিরাজপুরী,
যার স্পর্শটুকু মেখে প্রাণবন্ত বিশ্বচরাচর-
সৃষ্টি- স্থিতি-লয়, ন্যায়-অন্যায়, জয়-ক্ষয়
যার ইচ্ছা নির্ভর;
সেই বিশ্ব জননী- শক্তিরূপিনী-দুর্গপ্রহরিনী
দেবী দুর্গা মৰ্ত্তলোকে মন্ডপে মন্ডপে করেছেন আগমন । ভক্তি পূত পুষ্পাঞ্জলী পাদপদ্মে করে অর্পণ
তমাবৃত অর্ন্তলোক দিব্য জ্ঞানে হবে জ্যোতিষ্মান,
জঞ্জলাকীর্ণ বিশুষ্ক চিত্ত পরিশ্রুত হয়ে
সত্য-সুন্দরের পানে হবে আগুয়ান,
প্রত্যয়ী সত্ত্বায় প্রার্থনা আশীর্বাদ।
কিন্তু কোথায় তোমার অবস্থান;
দিশেহারা আমি খুঁজে ফিরি মন্দিরে মন্দিরে
এ কিসের আয়োজন?
প্রবেশ পথে একদল সশস্ত্র প্রহরী
নিরাপত্তা প্রহরায় ।
চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জা
ডেক সেটে, হিন্দী গানের উত্তাল সুরতরঙ্গ
হৃদকম্প
একদল উন্মুক্ত তরুণ তরুণী নৃত্যরত
যেন ঋত্বিক কারিনা-র দোসর:
ঢাক আছে ঢাকী কই?
সুরেলা সানাই বাকরুদ্ধ
পড়ে আছে অনাদরে
ধুপ আছে ধোঁয়া নেই,
দীপ আছে আলো কই?
নিওনের ব্যাদিত গ্রাসে নিষ্কম্প শিখা অপহৃত
ভোগ আছে প্রসাদ নেই,
বিফল মনোরথ ভক্ত ফিরে যায় শূন্য হাতে
বিচিত্র এ লীলা ।
বিস্ময়ে বিহবল অন্তর
শরবিদ্ধ মরালের মত যন্ত্রনাকাতর ।
করপুটে আবদ্ধ পুস্প অর্ঘ্য নিবেদন করি
অদৃশ্য পাদপদ্মে, লক্ষ্যহীন ভাবে;
ম্নিত হাসি খেলে যায় অসুর ললাটে,
আমি নিরুদ্ধ অসহায়;
এ তামসিক প্রবৃত্তির নিবৃত্তি হবে কবে
আসবে আবার জ্যোতির্ময়ী রূপে
নয়ন ভরে দেখবো তোমায় সাত্ত্বিক আয়োজনে ।


