(১)
মেয়ের হাসি
মাঝরাতে না একেবারে ভরদুপুরে বিভৎস এক স্বপ্ন দেখলাম
যে আমি মারা যাচ্ছি
আর মেয়ে আমার হাত ধরে আছে
হাসছে
কিন্তু ব্যাপারটা তো অতি স্বাভাবিক
আমার বিস্মিত বা আতঙ্কিত হবার দরকার ছিল না
মৃত্যু তেমন আহামরি কোন ঘটনা তো না
বলা যায় বস্তুজগতে জৈবপরস্পরায় এটা একটা প্রক্রিয়া
আর এই প্রক্রিয়ার ভেতর
শংকা ও সংকোচ এড়িয়ে
খানিকটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও
দরকারী কাজগুলো আমরা সারি
হ্যা একটা ব্যাপার বেশ ভাববার মতো
যে দরকারী কাজ কোনগুলো
সেটা ঠিকঠাক আমরা জানি কি না
আর যদি আমরা মারাই যাই
তাহলে মেয়ের হাসিটুকু কোথায় রেখে যাবো
কার কাছে।
(২)
আগুনের ফেরা
তাহলে সবাইকে সাবধান করে দিই আগুন বিষয়ে কোন কথা আমরা বলবো না
আগুনের ধারেকাছে ঘেসবো না
দেখবো বাচ্চারা যেন আগুনে হাত না দেয়
(আগুন নিয়ে খেলতে বাচ্চারা ভালবাসে)
কিন্তু আগুন হাতে করে যারা মরেছে তাদের কীভাবে আমরা এড়িয়ে চলবো
আগুনের পাশে যারা ঘুরঘুর করেছে
আগুন যারা খেয়েছে
দাউ দাউ আগুনের চূড়ায় দাঁড়িয়ে যারা কবিতা পড়েছে
তারা তো একদিন ফিরে আসবে
হ্যা ফিরে আসবে
তারা আমাদের নাম ধরে ডাকবে।
(৩)
ক্র্যাক প্যারালাল
গঙ্গাফড়িঙের লগে দেখা হবার আগে না পরে
বুঝো নাই
তোমার মুন্ডু চইলা গেছে অন্যের হাতে
সারি সারি সবুজ হেলমেট তোমার লাইগা
ভাবো
এক্ষুনি ভাইবা লও
মাছিদের রমরমা জীবনী লইয়া
পার্কে ভিজবা
না পর্যাপ্ত সময় দিবা
হ্যাঙ্গারগুলারে
আত্মহত্যায় প্ররোচিত হইতো।
(৪)
চায়ের কেতলি
আমরা উপভোগ করি ওর সার্বক্ষণিক চোখ রাখা
নিজেকে জ্বালানো
উন্মুখ সেবাপরায়নতা।
নিজেকে নিয়ে বিদ্রুপ করা ছাড়া
ওর সবকিছুই আমাদের জন্য স্বস্তিকর।
(৫)
বোতাম
একটার পর একটা বোতাম
খুলতে থাকে মেয়েটি
বোতাম
একটার পর একটা
আমি জানতাম
প্যারিস থেকে আনানো বোতামগুলো দামী
হ্যা
বোতামগুলো আরও দামী হয়ে ওঠে
যখন
একটার পর একটা
সেগুলো খুলে ফেলা হয়
আর জামাসমেত ছুঁড়ে ফেলা হয়
শক্ত মেঝেয়।


