শুভাশিস গোস্বামী
বাংলা বছরের শেষ দিনটি চৈত্র সংক্রান্তি নামে পরিচিত। আবহমান বাংলার এক চিরায়ত উৎসব এই চৈত্র সংক্রান্তি। কথিত আছে এ দিনটিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ, বর্ষবরণ উদযাপনের এত আয়োজন। তবে নতুনের আগমনী বার্তা আর পুরোনো বছরের বিদায় বেলায় থাকে উৎসবের রঙ।
৩০ শে চৈত্র, ঋতুরাজ বসন্তেরও তাই শেষ দিন। বসন্তকে বিদায় জানিয়ে আসবে নতুন বছর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘ফোটে যে ফুল আঁধার রাতে/ঝরে ধুলায় ভোর বেলাতে/আমায় তারা ডাকে সাথে- আয় রে আয়।/সজল করুণ নয়ন তোলো, দাও বিদায়…।’
চৈত্র সংক্রান্তি বাংলার বিশেষ এক লোক উৎসব। সনাতনী সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ দিন হলেও চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক বাঙালির কাছে চৈত্রসংক্রান্তি এক বৃহত্তম লোক উৎসবে পরিণত হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ দিনটিকে অত্যন্ত একটি পুণ্য দিন হিসেবে পালন করে আসছে। এছাড়াও এই বসন্তকালে বাসন্তী দেবী ও অর্ন্নপূর্ণাদেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। চৈত্রসংক্রান্তির আরেকটি বড় উৎসব নীলপূজা এবং চড়কপূজা। বিভিন্ন স্থানে এসময় হয় মেলার আয়োজন। চৈত্রজুড়ে সন্নাসীরা উপবাস, ভিক্ষান্নভোজন- সহ প্রভৃতি নিয়ম পালন করেন। ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হয় ভাই ছাতু উৎসব। বোনেরা তাদের ভাইকে ছাতু, মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করে। আগামীকালের ভোরের সূর্য জানান দিবে নতুন এক বছরের, পুরাতনকে পেছনে ফেলে সবাই বরণ করে নিবে নতুন বছরকে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা, পৃথিবীর সবাই সুস্থ্য থাকুক, সুখে শান্তিতে বসবাস করুক। রোগ শোক জরা ব্যধিমুক্ত, মঙ্গলময় হোক সকলের জীবন।শুভ চৈত্র সংক্রান্তি।


