রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি
কিহাচি ওজাকি
আমি আপনার কাছ থেকে পান করি।আপনি পর্বতের ঝরনাধারা, আপনি ফুঁসে উঠে নিচে নেমে আসেন দ্রুত
মর্মর প্রস্তর, বাঁক ও শ্যামলিমা ধুয়ে দেন।। (আপনার স্বচ্ছ পুষ্পমাল্য, আপনার ফেস্টন! ও সৌর-আভার একটি মুহূর্ত!)।
সারা দিনের ঢের কাজের শেষে আমার কাঠামো নুইয়ে আনি তৃষ্ণায় অতিশয় আকুল ওষ্ঠ আপনাতে সিক্ত করি আপনার গোধূলিবেলার জলে ডুবে আছে
খ্যাতির শীর্ষ বিন্দু” আপনার পর্যাপ্ত জলধারা সুস্বাদু, পরিষ্কার ও স্বচ্ছ। আপনার পূর্ণ স্রোতের ওপর
ভেসে থাকে ঝড়ের পরের প্রশান্তির বিবর্ণ সোনা আর গোলাপি শিরোদেশ থেকে শিরোদেশে বহু দূরে, ঈশ্বরের অস্ত্রবিরতির পতাকার চিহ্ন দেখা যায়। হাজারো পূর্ব ধারণা আপনার হৃদয় স্ফীত করে, বিশেষ পরে দিনের শেষ বেলায়।
আপনি নিজেকে দান করেন রাতের পবিত্র আঁধার। আপনার গানের প্রতিধ্বনি নিয়ে আগামী দিনের প্রত্যাশায়। ভরে যায় সন্ধ্যা
আমি আপনার কাছ থেকে পান করি সাঁঝের আলোর
উপাদেয় ঝরনাধারা
আপনারা যারা আগামীকালের প্রভাতের কথা ভেবেছেন মলিন ও কোমল শৈবালের ওপর হাঁটু গেড়ে বসেছেন আমি পান করি এবং লোভীর মতোন আপনার জীবনের স্পন্দন প্রত্যাশা ও জন্মে পরিপূর্ণ সৃষ্টিতে মায়ের যে আনন্দ, সেই আনন্দে ভরে আছে।
সৃষ্টিতে মায়ের যে আনন্দ, সেই আনন্দে ভরে আছে।
ভারতের আদিম আত্মা
লিউ ইয়েন হোন
ময়ূর রানি গৌরবময় ভারত থেকে তিনি এসেছেন ভারত তাঁকে দিয়েছে আত্মার সৌন্দর্য। তিনি পবিত্র ভূমি থেকে এসেছেন,
বুদ্ধের মাতৃভূমি আর বোধিবৃক্ষ তাকে দিয়েছে সর্বোচ্চ বুদ্ধি ও জ্ঞান। তিনি মেঘ চুমো দেওয়া হিমালয়ের বাতাসে নিশ্বাস নেন আর গঙ্গার পবিত্র জলে করেন অবগাহন তাঁর স্পর্শ ভারতের আদিম আত্মা জাগিয়ে তোলে। বেদ, উপনিষদ ও ব্রহ্মা তাঁর পাশে দাঁড়ায়। -আঁধার রাতে আমাদের স্বপ্ন এভাবে থেমে যায়। সত্য জ্বলে উঠে আর মানুষ বলে ‘এটাই আমি’, এভাবেই সুগন্ধ ফুল বাতাসে পাপড়ি মেলে। সাঁতার কাটা মাছ স্বাধীনভাবে এদিক-ওদিক সাঁতরে যায়
হাজার নদী ধীরে ধীরে সাগরে মিশে যায়। পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে জোয়ার এবং ভাটা হয়। আমাদের কবি-দার্শনিকের মাধ্যমে প্রাচ্যের পুনর্জন্ম হয় তিনি যেন চিরকাল বেঁচে থাকেন।
অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী
আন্দালিব রাশদী গল্পকার ৷


