বাংলার শরৎ
নীলিমার বুকে ভাসে সাদা সাদা মেঘের পাল,
কাশবনে দোলে হাওয়া, বাজে শিউলির তাল।
ভোরের শিশির ঝরে ঘাসের পাতায় নীরব,
মাটির গন্ধ ফুলের সৌরভ মিশে বাতাসে সব।
ধানের ক্ষেতে সোনালী আভা খেলে উজ্জ্বল,
গ্রামীণ মাঠে জেগে ওঠে ফসলের মধুমঙ্গল।
দূরের বাঁশবনে বাজে বাতাসের সুমধুর সুর,
পাখির কূজনে মুখরিত শান্ত সকাল-দুপুর।
শিউলি-গন্ধ মিশে থাকে উঠোন জুড়ে ছায়া,
স্নিগ্ধ প্রাতে শিশুর হাসি বাজে খেলার মায়া।
নদীর জলে সূর্যের কিরণ ঝলমল করে নাচে,
ডিঙি নৌকা ভেসে চলে পালের ডানায় আঁচে।
গোধূলি আসর নামলে রাঙা আভা ছড়ায়,
গৃহস্থ ঘরে ধূপের ধোঁয়া নীরবে ভেসে যায়।
আকাশভরা চাঁদের আলো ঢেকে দেয় গ্রাম,
রাতের বুকে শরতের গান হয় ধ্রুপদী নাম।
বাংলার মাটি, বাংলার প্রাণ, বাংলার শরৎকাল,
তোমার রূপে হৃদয় ভরে,বাজায় বাঁশি রাখাল।
তুমি আনো শান্তি,আনো প্রেম,আনো অনন্ত আশা,
তোমার কোলে বাঙালির প্রাণ খুঁজে পায় ভাষা।
হে শরৎ, তুমি বাংলারই স্নিগ্ধ আলোক রেখা,
তোমার ছোঁয়ায় ভোরের আকাশ স্বপ্ন দিয়ে লেখা।
তুমি এলে ভুবন জুড়ে হাসি ফুটে উঠে প্রাণে,
তুমি দিলে সৌন্দর্যের জয় চিরকাল নব গানে।


