পূজো এলে মনে পড়ে
প্রিয় বিপ্রদা,
শিউলি ফুলের সুবাস মেখে
কাশফুলের ভেলায় চড়ে
শারদীয় দূর্গোৎসব যখন আসে-
তোমায় ভীষণ মনে পড়ে।
হারিয়ে যাই সেই কিশোরী বেলায়
মা- বাবা, ভাই- বোনেরা মিলে
মহাঅষ্টমীতে পূজো দেখতে যেতাম
তোমাদের বারোয়ারি মন্দিরে।
এক পূজায়-
মা দূর্গাকে প্রণাম করে ফিরছিলাম।
গেটে প্রসাদ বিতরণে ব্যস্ত
যুবকদের সাথে ছিলে তুমি
অপরিচিত তোমার চোখে চোখ পড়তেই
অপলক চেয়ে রইলাম দুজন।
মন বলল, তুমিই আমার স্বপ্ন পুরুষ।
মা-বাবার কাছে আবদার করে
নবমী-দশমীতেও
পূজা দেখার ছলে
তোমায় দেখতে গেলাম।
সবার অলক্ষে
তোমার-আমার হৃদয় বিনিময় হলো।
জীবনের প্রথম প্রেম-পত্রখানি
পেলাম তোমার কাছ থেকে।
আমার ষোড়শী মন
বাঁধা পড়ে গেলো তোমার কাছে।
বিপ্র দা, তুমি আমার কাছে
পরের পূজোয় তোমার প্রেম-পত্রের
প্রতিত্তোরের আশা করেছিলে
আমি বছর জুড়ে লিখে গেছি তোমায়
এক ডায়রি কথামালা
তোমার জন্য নিয়ে
পরের পূজোয় তোমাদের সেই মন্দিরে উপস্থিত হলাম।
আমি তো ভেবেছিলাম
অনেক কথার ফুলঝুরি সাজিয়ে
আমাদের প্রথম দৃষ্টিবিনিময়ের স্থানটিতে
আমারই অপেক্ষায় রবে তুমি
আমার জন্য এত নিষ্ঠুর কিছু অপেক্ষা করছে
কে জানতো বলো?
তোমাকে খুঁজে পেলাম শোক সংবাদের ব্যানারে।
সড়ক দুর্ঘটনায় তুমি চলে গেছ বড় অকালে!
আমি নিজেকে সামলানোর কোন চেষ্টাই
করিনি সেদিন, কেঁদেছিলাম অঝোরে।
তোমার ঐটুকু বয়সে অনন্তলোকে
পাড়ি দেওয়ার খবরে অশ্রুসিক্ত ছিল অনেকেই
বিপ্রদা. জানতো তুমি
তারপর থেকে আর কোনদিনই
তোমাদের বারোয়ারি মন্দিরে
যাওয়া হয়নি আমার।
যেখানেই থাকি না কেন
আমার দেবীপক্ষের শুরু হয়
অনন্তলোকে তোমার শান্তি প্রার্থনায়।


