অজানা ভয়
বুকের ভিতর একটা অজানা ভয়
আমায় আস্টেপিষ্ঠে বেধে রেখেছে।
আমি খেতে পারিনা, ঘুমাতে পারিনা
নিঃশ্বাস নিতেও ভয় লাগে।
এ কেমন কঠিন বাস্তবতার মাঝ দিয়ে
হেঁটে যাচ্ছি আমরা।
কোন আশা নেই, ভরসা নেই
সাহস করে সত্য বলতে পারার সাহসও নেই।
কতক্ষণ বেঁচে থাকবো,বেঁচে থাকতে পারবো কিনা?সন্মান নিয়ে চলতে পারবো কিনা?
কিছুই বলতে না পারার একটা কঠিন সময় পার করছি।
মানুষ মরণশীল, জন্মেছি মরতে হবে
কিন্তু যে সময়ের হাত ধরে হেঁটে চলেছি তাতে ভয় আর ভয়।
নিজের জীবনের চেয়ে সন্তানের জীবন অনেক বড়।
সেই সন্তানদের চোখের সামনে
আগুনে ঝলসে মরে যেতে দেখেছি ৷
স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারাটে খুনিদের হাতে আমাদের সন্তানদের টুকরো টুকরো হয়ে ঝরে পরতে দেখেছি,
নদী ঝিলে প্রিয় সন্তানের লাশ ভাসতে দেখেছি।
যে সন্তান এখন বাবা মায়ের হাতের লাঠি হয়ে দাঁড়াবে,
সেই বাবা মাকে দেখেছি সন্তানের রক্তাক্ত লাশ বুকে নিয়ে নিঃস্ব হতে।
সর্বস্ব দিয়ে যে সন্তানকে প্রতিষ্ঠার দোরগোরায় পৌছিয়েছিলেন বাবা মা
তারা সব হারিয়ে এই বয়সে চির এতিম।
খুব ভয় লাগে খুব ভয় লাগে
কোথাও শান্তি নেই, নিশ্চিন্তে দুদণ্ড বসে থাকার অবকাশ নেই।
রাতেও ঘুম আসেনা
সকাল হলেই সন্তানেরা ছুটবে স্কুল কলেজে,
ভয় শুধু ভয়,ফিরবে তো আমার নয়নের মনিরা?
কি এক কঠিন জীবন!
এমনতো চাইনি মাবুদ
একটু স্বস্তি চাই একটু শান্তি চাই
একটু নিরাপদ জীবন চাই।
একটু নির্ভয়ে হাসতে চাই
স্বামী সন্তান নিয়ে একটু সুখে শান্তিতে
জীবন যাপনের অধিকার চাই।
একটু নিরাপত্তা চাই,একটু নিরাপত্তা
প্রাণখুলে হাসার নিরাপত্তা,
নিশ্চিন্তে একটু ঘুমানোর নিরাপত্তা ,
একটু নিরাপত্তা চাই একটু নিরাপত্তা।
আমাদের কলিজার টুকরো সন্তানদের
জীবনের নিরাপত্তা চাই।
দুহাত করজোড় করে বলছি,হে আল্লাহ
আমাদের নিষ্পাপ ফুলের মত সন্তানদের
জীবনের নিরাপত্তা চাই
শুধু একটু নিরাপত্তা, স্বস্তিতে নিশ্বাস ফেলার শুধু একটু নিরাপত্তা।


