বসন্তময় হাসি!
কুয়াশায় দাঁড়িয়ে থাকা-
গাছের অস্পষ্টতা বুঝতে চাইলাম!
ও শিশির ভিজা মাটির দিকে তাকিয়ে বলল-
“আমি কখনও চাই নি-
কেউ আমাকে বুঝুক!
তুমি কেন এলে?-
এত কেন আগ্রহ-
আমাকে নিয়ে?”
আমি বললাম-” জানি না!”
ওর মৃতপ্রায় সিক্ত বাকলে হাত দিয়ে:
তোমার শরীরের খাঁজে এত হিম!
কিছুটা রৌদ্র বিলাস হোক?-
এসো আমার সাথে!-
ধরো আমার হাত!”
সে বলল,” হিমে ডুবে যদি বিষাদ ভুলতে পারি- তবে হিমই শ্রেয়, রৌদ্রময়ী!
তুমি যাও!
রোদে ওম নাও!”
ওর কথার বিষাদকে গ্রহণ করলাম!
রৌদ্রময় সবুজ পাতার হাসি ভুলে!
ওর সাথে দাঁড়িয়ে ভিজলাম কুয়াশায়!
পুড়লাম ওর নিষ্প্রভ হাসিতে!
খুব বলতে ইচ্ছে করছিল-
তুমি একবার হাসবে?-
সেই বর্ষার হাসি?
বললাম না!-
বলাও হবে না!
হয়ত বলবো-
অন্য আরেক জন্মে!
খানিক বাদে:
গাছটি একগাল হেসে বললো-
” তোমার ঠাণ্ডা লাগবে তো!-
ওঠো না এবার!-
ফিরে যাও তোমার সূর্যালোকে!-
কেন মিছে কষ্ট পাচ্ছ?”
আমি নীরব থাকলাম-
বোকা গাছটিকে যদি বলতাম?-
আমিও ওর মতন হতে চাই-
ওর হতে চাই! –
ঠিক যেমন বিষাদ হয়েছে ওর!
ও হয়ত আমাকে বোকাটিই ভাবতো!
কিন্তু তা ভাবতে দিলে তো চলবে না!
চলে এলেম হিম- শীতের দেশের-
সমস্ত কুয়াশা নিয়ে!
এখন আমি দিব্যি ভালো আছি!-
সূর্যালোকে কুয়াশা- স্নান নিয়ে!
কিংবা বর্ষণময় চোখের-
বসন্তময় হাসি নিয়ে!


