বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

মৌ সাহার কবিতা

দেবীপক্ষে

চিরন্তন এ শহরে-
ভোরগুলোর নিকষ নির্জনতা মিশেছে-
শিউলির শিশির- শুভ্র স্বচ্ছতায়।
চিরন্তন এ শহরে-
সকালগুলোর সোনালি প্রদীপ্ততা ঠিকরেছে-
অদূরের ঐ বিষণ্ন অথচ সম্ভাবনাময়-
সাদা- রেখাময় কাশের ঝোপায়।
অম্বলী- ঘাস কিংবা স্বর্ণলতারা পুরোদস্তুর হয়ে উঠেছে-
শুভ্র সৌন্দর্য দর্শনের সবুজ- সাবলীল দর্শক!

অথচ বেলা গড়ালেই পিচের রাস্তার ধুলো বাড়বে-
ঘর্ষণ- শব্দ কিংবা যান্ত্রিক বিল্পবের সাথে।
বেলাশেষে খেটেখুটে খাওয়া মানুষের-
অাক্ষেপের ঘামে জমবে-
সেসব পরিত্যক্ত অথচ পরিণত ধূসর ধুলো!
আমরা কেউ কারোর চোখ- তাকাবার-
অবকাশটুকুনও পাবোনা!
আচ্ছা আমরা কি সত্যিই খুব- ই ব্যস্ত?
সত্যিই নিজের সময়টুকুন দিয়েই-
সমগ্র জীবনকে সত্ত্ব ভুলে-
রজো কিংবা তমো গুণে বাঁধছি?-
ঈশ্বরই জানেন!

দেবীপক্ষে-
এ শহরে নিযুত শতাব্দীতেই-
চিন্ময়ী এসেছেন মৃন্ময়ী হয়ে-
অদৃশ্য অথচ কল্পময়ী এসেছেন-
নানান রঙের দৃশ্যমান তরঙ্গদৈর্ঘ্য নিয়ে!
একই রূপে- একই ছন্দে- একই মাহাত্ম্যে-
একই বাহনে- একই অস্ত্রে- একই অলংকারে!
তবুও কি দেখবার সাধ মেটে – এ অন্বেষী চোখের?
বছরের পর বছর আমরাও তাঁকে স্মরেছি-
একই আবাহনে-
বিদায় দিয়েছি-
একই চিন্তনে-
‘ আসছে বছর আবার হবে!’

লেখক পরিচিতি

মৌ সাহা
মৌ সাহা
প্রকৃতিপ্রেমী মৌ সাহার জন্ম ০৩ ফেব্রুয়ারি মাগুরায়। পিতা: মনোরঞ্জন সাহা, মাতা: পপি সাহা। কুয়েট থেকে বি এস সি ইঞ্জিনিয়ারিং ইন ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইন্জিনিয়ারিং শেষ করে বর্তমানে বসবাস করছেন লালনের শহর কুষ্টিয়ায় ৷ তিনি প্রকৃতির ছবি তুলতে আর লিখতে ভালোবাসেন ৷

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা