শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

বিনয় কর্মকারের ৩টি কবিতা

১.
নষ্ট ঘড়ির ডায়েরি  
খুঁড়িয়ে হাঁটলেই পায়ের সমস্যা
এমনটা নাও হতে পারে,
গল্পটা কোথাও হতে পারে ছেঁড়া চপ্পলের।
শোরুমের বাহুল্য বাদ দিলেও;
কাঁচাবাজার পেরিয়ে তবেই-না চর্মকারের দোকান
পণ্যের যা দাম!
পাকাবাজার নাম দেয়াটা এখন অভিজাত সময়ের দাবি।
 ২.
স্থবিরতার গল্প 
ট্রেন ভ্রমণে দূরের গাঁ-কে দৌঁড়াতে দেখে বিস্ময়ে বাবার চোখে-চোখে রাখতেই,
বাবা বললেন তোমার শিশু চোখ।
যাজকের দুই-ই থাকতে পারে ভয় কিংবা ব্যবসা,
যেখানে যিশুর চেয়ে ক্রুশের বাজার মূল্য বেশি।
কোপার্নিকাস!
লুকিয়ে রাখলেও তেরোটা বছর পৃথিবী কি-আর থেমে থাকে?
ক্যালেন্ডারের পাতায় কী-করে গড়িয়ে চলে সময়ের চাকা সেটা জানতে মন্দিরের ঘন্টা নয় ঘড়ির আবিষ্কার জরুরি।
৩.
খাঁচা
ঝাঁপি থেকে বেরিয়ে দাঁতভাঙ্গা সাপটা ফণা তুললো, আর এ-সব  অসহায়ত্ব দেখে ফিক করে হেসে উঠলো মজমার ভীতু লোকটাও।
ভেঙ্গে ফেলো চিড়িয়াখানার খাঁচা  এমন প্লেকার্ড বুকে নিয়ে রাজপথের মাঝে দাঁড়াতেই আমাকে রক্তাক্ত করলো প্রিজনভ্যানের ধারালো নখ।
অবৈধ গর্ভধারণের বার্তা ছাপাতে; কোথাও ছাপা হলো না, কাঁটাবনের পাখির খাঁচা অ্যাকুরিয়াম—-
আর তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে পাশকাটিয়ে হেঁটে গেল একটা লোক, হাতে তার গলায় শেকল পরানো বানর।

লেখক পরিচিতি

বিনয় কর্মকার
বিনয় কর্মকার
মানিকগঞ্জ জেলার পদ্মানদীর পাড়ঘেঁষা হরিরামপুর উপজেলার এক শান্ত ছায়ানিবিড় এক গ্রাম যাত্রাপুর, সে-গ্রামেই ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন কবি বিনয় কর্মকার।  শৈশব থেকেই স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে বেড়ে ওঠা এক সংগ্রামী জীবনের বাহক হয়ে কবি প্রতিক্ষণ মিশেছেন প্রকৃতির সাথে, মানুষের সাথে। জীবনের ছোট-বড় নানারকম সঙ্গতি-অসঙ্গতি অনুভব করেছেন প্রাণের গভীর থেকে। কবির শিক্ষা বলতে প্রকৃতি, মানুষ ও জীবন পাঠ। জীবনবোধে ঋদ্ধকবি বিনয় কর্মকার লিখে চলেছেন শৈশব থেকেই।  কবির প্রকাশিত কবিতা গ্রন্থ : সুবর্ণ বন্দর (২০১৭), পরগাছা বা রোদসকাল (২০১৮), চেনা কোনো সংকেত নেই (২০২১) এছাড়াও গীতিকাব্য, অণুগল্প, ছোটো গল্প, রম্যরচনা নিয়মিত লিখে চলেছেন...

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা