শ্রাবণরাগ
শ্রাবণ এলো, বাজে বাঁশি,
মাঠে নামে জলের হাসি।
ঘন মেঘে ঢাকে গগন,
বুক ভিজে যায় শ্রাবণ মন।
ধানের শিষে নাচে হাওয়া,
বৃষ্টিজলে নতুন নাওয়া।
নদী ঘুমায় ঘোলা জলে,
তরী দুলে দুলে চলে।
কাঁদামাটি, গন্ধ মাতি
হাটের পথে ভিজে ছাতি।
চাষার মুখে রোদ-জল-ছায়া,
ঘামে-ভেজা প্রেমের মায়া।
নাম না জানা মেয়ে একা,
পথের ধারে চুপটি থাকা,
চুড়ির শব্দ, চোখে জল,
কে যে দিলো হৃদয় ছল?
তার চুল ভেজে বৃষ্টির ছোঁয়ায়,
নথটা কাঁপে নীরব মায়ায়।
ভেজা আঁচলে গোপন ব্যথা,
শ্রাবণ শুধু জানে কথা।
গ্রামের ঘাটে ঢেউয়ের ছটা,
নুড়ি কুড়িয়ে ছোট্ট পটা।
মাঠে বাজে কাস্তের সুর,
মন পলাশ — রঙে ভরপুর।
এই বর্ষা, এই ধরণী,
প্রেমে লেখা জলভরা পণী।
কখন যেন চোখে জল,
শ্রাবণ গানে মিশে চল!


