এক টুকরো শেকড়ের গান
ভূমি, তুমি কি কেবলই মাটি?
নাকি এক টুকরো শেকড়ের আকুলতা,
নাকি নখের ভেতর লেগে থাকা ধুলো—
যা কাঁপে না, কাঁদে না, তবু রক্তের মতো গাঢ়?
নাকি এক জীর্ণ ক্যানভাস,
যেখানে অদৃশ্য হাত লিখে যায়
সীমানার ইতিহাস?
একটা রেখা টানলেই হয়ে যায় দেশ ৷
তুমি কি দখলের গল্প?
নাকি স্মৃতির স্তূপ,
যেখানে আগুনের ভাষা জমে আছে?
যেখানে পায়ের ছাপগুলো পুরোনো,
কিন্তু দাবিগুলো নতুন—
আমার! আমার! আমার!
নামহীন হাত তোমাকে কেটে নেয়,
সীমানা টানে, পতাকা গেড়ে বলে—
“এটা আমার!”
কিন্তু তুমি কি কারও হও?
তুমি কি জানো মালিকানা কাকে বলে?
তুমি জানো শুধু গ্রহণ করতে,
হাজার হাজার পায়ের স্পর্শ,
লাঙলের ধার, বীজের প্রতীক্ষা,
রক্তের দাগ, ঘামের গন্ধ।
এই ভূমির তলায় চাপা পড়ে আছে—
কত হারিয়ে যাওয়া নাম,
কত ইতিহাসহীন হাত,
কত রক্ত, যা কারও পতাকা পায়নি!
তুমি কি কাঁদো,যখন
ট্র্যাক্টরের দাঁতে ছিঁড়ে যায় তোমার বুক?
তুমি কি হাসো,যখন
শিশুরা তোমার বুকে দৌড়ায় বৃষ্টির দিনে?
তবু একদিন,
যারা তোমাকে ভেঙেছে,
যারা তোমাকে বেঁধেছে,
তারাও তোমার গভীরে হারিয়ে যাবে,
তুমি আবার সবুজ হয়ে উঠবে,
একটা নতুন গল্পের জন্য…


