দুর্গা-উপাখ্যান
নদীর তীরে কাশ ফুটেছে।
শুভ্রগুচ্ছ কাশের মতো
আকাশজুড়ে মেঘ ছুটেছে।
এরই মধ্যে ঢাক-গুড়গুড়
মহামায়ার অকাল-বোধন,
দুর্গা আসছেন বাপের বাড়ি।
শুনে কোথায় খুশি হবেন,
পিতৃ-বদন বেজায় ভারী।
দুর্গা তো আর একেলা নন,
সঙ্গে যজ্ঞভঙ্গকারী-
জটাধারী শিব-বাবাজি।
তার ওপরে কার্তিক-গণেশ,
মেয়ে লক্ষ্মী-সরস্বতী;
এবং তাঁদের স্ব স্ব বাহন।
বাবা বললেন, ‘আচ্ছা মা রে-
ফি-বছরই আসতে হবে,
এমন দিব্যি কে দিয়াছে?
আমি তোমার গরিব বাবা,
সেই কথা কি তোমার মনে
পড়ে না একবারও?
সময় বুঝে মাঝে-মধ্যে
গ্যাপ দিলেও তো পারো।’
দুর্গা বলেন, ‘শোনো কথা?
ধর্মে কি হয় এর অন্যথা?
আমি যদি না আসি এই মর্ত্যে,
মর্ত্যজনে পারবে পূজা করতে?’
বাবা বলেন, ‘শোনো মা রে,
বাড়ি-ভাড়ার অত্যাচারে
ঢাকার ঢাকেশ্বরী ছেড়ে,
আমি এসেছি কামরাঙ্গীর চরে।
চাল মিলে ত ডাল মিলে না,
তাল মিলে ত তেল মিলে না।
লবণ আনতে পান্তা ফুরায়,
লো প্রেসারে মাথা ঘোরায়।
তাই তো আমি বলি কি মা,
অক্ষমেরে করো ক্ষেমা-
তুমি বছর-বছর বাপের বাড়ি
আসার অভ্যাস ছাড়ো।’
কন্যাকে কেউ এমন কথা কয়?
বাপের এসব কথা শুনে-
কন্যা ফেরার প্রহর গোনে;
তাঁর ত্রিনয়নে অশ্রুধারা বয়।
পিতা-কন্যার কথকথার মাঝে,
দেবী দুর্গার বোধনধ্বনি বাজে।
দুর্গা তখন চক্র হাতে
অসুর বধের প্রতিজ্ঞাতে,
পিতৃগৃহে পট বিছিয়ে
জেঁকে বসলেন আরও।
দেবী মূর্তি দেখে দক্ষ,
নিলেন দ্রুত মেয়ের পক্ষ।
হেসে বললেন, ‘এলেই যদি,
থেকে গেলেই পারো।’


