বিবর্ণ প্রাণ
এখন আর স্বপ্ন দেখে না দু চোখ
কেবল অনুভুতিহীন একটা দেহ নিয়ে ঘুরে বেড়াই।
ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের স্বাদ ভুলেছি বহুকাল
ফিনফিনে বাতাসেও আজকাল ঝড়ো হাওয়ার মতোই গতিবেগ,
ঘণ্টায় ঘণ্টায় বেজে ওঠে বিপদ সংকেত!
উঠোনে ছড়িয়ে আছে পরিত্যাক্ত স্মৃতি ।
পুরনো সে জলহীন কুয়োর ভেতর একমাত্র পিপাসার জল ছিলো রাখা !
এখন এক ফোঁটা জল ও নেই আর
এই খটখটে তৃষ্ণার্ত দিনে শুকিয়ে যাচ্ছে শরীর ,তপ্ত হৃদয়।
বাড়ছে শত যুগের অভিশাপ মেশানো আর্তনাদ
বিবর্ণ মৃতপ্রায় উঠোনের এই গাছটায়
যদি একটা দোয়েল এসে বসতো
যদি শিস দিয়ে গান ধরতো !
হয়তো গাছ ফিরে পেতো কিছু নতুন পাতা
আর আমি পেতাম কিছু স্বপ্ন দেখার সাহস ।
তা আর হলো না !
তাইতো দু’পা ফেলে বসে আছি উঠোনের এক কোণে
ঘরে যাবো? সে যে এখন আর ঘর নেই,
আছে লক্ষ কোটি মৃত হৃদয়ের হাহাকার ।
ওরা শুধু হাহাকার নয়!
ওরা কথা বলে, ওরা ভীষণ নির্দয়
ওরা আমার টুটি চেপে ধরে আমার বুকের ভেতর থেকে নিঃশ্বাসটুকু কেড়ে নিতে চায় ।
বিশ্বাস কর আমি ওদের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাই , একবার নয় বহুবার!
দুহাত জোর করে বলি !
আমি তো স্বপ্ন দেখা ভুলে গেছি
ভুলে গেছি বেঁচে থাকার ইচ্ছে।
তোমরা আমাকে শাস্তি দিওনা
এই সুন্দর পৃথিবীতে তোমরা আমাকে কিছু নাই বা দিলে
শুধু তোমাদের মাঝে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের মতো ,
পরে থাকা জঞ্জালের মতো তোমাদের মাঝেই একটু জায়গা দিও ৷


