শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

দেশভাগের সময়কালের তৎকালীন সময়ের প্রতিচ্ছবি’চিত্রা নদীর পাড়ে’

চিত্রা নদীর পাড়ে (১৯৯৯)

পলিমাটি

চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট ১৯৪৭ সাল, স্থান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের ছোট্ট জেলা নড়াইল। শশীভূষণ সেনগুপ্ত নামের এক উকিল (মমতাজউদ্দিন আহমেদ) থাকতেন তার বিধবা বোন অনুপ্রভা (রওশন জামিল) এবং দুটি ছোট ছেলে-মেয়ে মিনতি ও বিদ্যুৎকে নিয়ে। বাড়ির পাশেই বয়ে চলা নদী চিত্রা। সময়টাতে পূর্ব পাকিস্থান থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দেশ ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এ অবস্থায় শশীভূষণের উপরেও দেশত্যাগের চাপ আসতে শুরু করে, কিন্তু তিনি বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে পরদেশে পাড়ি না জমানোর সিন্ধান্তে অনড়। হিন্দু মুসলিমের দাঙ্গায় অবশেষে কে জয়ী হয়, উত্তর মিলবে এই ছবিতে। বাংলাদেশর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল তার সুনিপুন হাতে নির্মাণ করেছেন এ ছবিটি।

প্রতিমা বিসর্জন, মুড়ির টিন বাস, মার্শাল’ল বিরোধী  আন্দোলনের প্ল্যাকার্ড, উত্তম-সুচিত্রার ছবির রিকশাযোগে প্রচারণা, চিত্রা নদীর বুকে পালতোলা নৌকা এসব কিছুই আমাদেরকে দেশ বিভাগের পরের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রধান চরিত্র সমূহে স্বভাবজাত পাগলাটে ধাঁচের মঞ্চ কাঁপানো অভিনেতা মমতাজউদ্দিন আহমেদের নির্লিপ্ত অভিনয় ছিল দেখার মত। সাথে এক পশলা বৃষ্টির মত ছবিতে স্নিগ্ধতা ছড়াবে তৌকীর আহমেদ এবং বিশেষত আফসানা মিমি। ছবিটি নিশ্চিতভাবে আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে দেশভাগের সময়কালের তৎকালীন বাংলাদেশ থেকে।

লেখক পরিচিতি

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা