◾পংকজ পাল
’দম’ সিনেমাটি কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষের টিকে থাকার অদম্য ইচ্ছার এক জীবন্ত দলিল। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত । এক বাংলাদেশি যুবক (আফরান নিশো) চরমপন্থীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। ধু ধু মরুভূমি, রুক্ষ পাহাড় আর মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তার পরিবারের কাছে ফিরে আসার যে মানবিক আকুতি, সেটিই এই সিনেমার মূল উপজীব্য।
অভিনয়:নিশো ও চঞ্চলের ম্যাজিক
সিনেমাটির প্রাণভোমরা হলেন আফরান নিশো। জিম্মি জীবনের শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক যন্ত্রণা এবং বাঁচার আকুতি তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা এক কথায় অনবদ্য। তার অভিনয়ের গভীরতা দর্শককে প্রতি মুহূর্তে শিহরিত করে।
বিশেষ চমক হিসেবে ছিলেন চঞ্চল চৌধুরী। নিশো এবং চঞ্চলের স্ক্রিন শেয়ারিং সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এছাড়া পূজা চেরী তার স্বল্প পরিসরের চরিত্রে আবেগ আর ভালোবাসার নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখেছেন।
নির্মাণ ও লোকেশন: এক নতুন অভিজ্ঞতা
পরিচালক রেদওয়ান রনি বড় পর্দার জন্য এক মাস্টারপিস উপহার দিয়েছেন। সিনেমাটির একটি বড় অংশ কাজাখস্তানের দুর্গম এলাকায় চিত্রায়িত হয়েছে। ক্যামেরার কাজ এবং লোকেশন বাছাই এতই নিখুঁত যে, দর্শকদের মনে হবে তারা নিজেরাই আফগানিস্তানের সেই রুক্ষ পাহাড়ের খাঁজে বন্দি হয়ে আছেন। ভিএফএক্স এবং সাউন্ড ডিজাইনের কাজ বাংলা সিনেমার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
আবেগের জয়গান
সিনেমার চিত্রনাট্য এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, বিরতির আগের অংশ আপনাকে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় রাখবে এবং শেষভাগ আপনার চোখে জল আনতে বাধ্য করবে। পরিবারের সাথে বিচ্ছেদ এবং পুনরায় মিলিত হওয়ার আকুতি দর্শকদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে।
ভালো লাগার দিকসমূহ:
- বাস্তবসম্মত মেকআপ ও কস্টিউম: নিশোর জীর্ণ শীর্ণ চেহারা জিম্মি অবস্থার প্রকৃত রূপ তুলে ধরেছে।
- টানটান উত্তেজনা: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চিত্রনাট্যের গতি কোথাও ঝিমিয়ে পড়েনি।
- পরিচালনা: অনেক বছর পর রেদওয়ান রনির এই প্রত্যাবর্তন সত্যিই রাজকীয়।
উপসংহার
যারা মানসম্পন্ন বাংলা সিনেমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাদের জন্য ‘দম’ একটি অবশ্যপাঠ্য গল্পের মতো। এটি কেবল বিনোদন নয়, বরং সাহসিকতা আর দেশপ্রেমের এক অনন্য সংমিশ্রণ। এই ঈদে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো সেরা সিনেমা এটিই।
এক কথায়: ‘দম’ দেখার সময় আপনার দম বন্ধ হয়ে আসবে উত্তেজনায়, আর শেষে মিলবে এক বুক প্রশান্তি।


