রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

রহস্য গল্প—অতৃপ্ত অজানা

অতৃপ্ত অজানা

রাস্তার ওপাশে চোখ পড়তেই দৃষ্টি স্তম্ভিত হয়ে গেলো। হঠাতই দীপ্তির কথা মনে পড়ে গেলো। অবিকল দীপ্তির মতই দেখতে এক তরুনি হেঁটে যাচ্ছে। সেই একই রকম চলার ভঙ্গি, একই রকম নীল শাড়ি। দীপ্তিকে উপহার দেওয়া সেই বাদামি রঙের চেনা পরিচিত একটি ভ্যানিটি ব্যাগ তরুনির কাঁধে ঝুলছে। আমি আরো ভালো করে তাকালাম তার দিকে আরে এইতো আমার নীলাম্বরি। আজ পাঁচ মাস হয়ে গেলো তোমার কোন খোঁজ নেই। কি দোষ ছিলো আমার! কেনো ছেড়ে চলে গেলে আমায়! সুখেইতো ছিলাম আমরা। সব কিছুতো ঠিকই ছিলো। তাহলে হঠাৎ কেনো এমন করলে! সেদিন কোন উত্তর দাওনি। কিছু না বলে চলে গিয়েছিলে। একবার যোগাযোগ করারও কোন সুযোগ দাওনি। ফেসবুকে কালো হয়ে গেলো তোমার নাম। আমার নাম্বারের জায়গা হলো তোমার ব্লেকলিস্টে। অবশেষে তুমি সিম চেঞ্জ করে ফেললে। হয়তো মন থেকেও মুছে ফেলেছো আমাদের সব স্মৃতি। কিন্তু কেন করলে এসব! আমার কি অপরাধ ছিলো! আজ তোমায় ছাড়ছিনা জবাব তোমাকে দেতেই হবে।
রাস্তার ওপর দ্রুত পাঁ বাড়িয়ে চলতে লাগলাম, রাস্তা প্রায়ই শেষ। আর মাত্র কয়েক মূহর্ত পরই জানতে পারবো আমার সেই কাঙ্খিত প্রশ্নের জবাব। হঠাৎ ধুপ করে কিসের একটা শব্দ হলো, মনে হলো শরীরে সামান্য বৈদ্যুতিক শক খেলে গেলো। মাথাটাও সামান্য ঝিম ঝিম করছে। কিন্তু এখন থামলে চলবেনা সামনে এগিয়ে যেতেই হবে।
এখন আমি দীপ্তির পিছুপিছু হাঁটছি। কিছুক্ষণ নিঃশব্দে হাঁটার পর। আমি মৃদু কন্ঠে ডাকলাম দীপ্তি। না, মনে হয় দীপ্তি শুনতে পাইনি। আমি আবার ডাক দিলাম দীপ্তি। এবার সে থামলো এক মূহুর্ত পর পিছনে তাকালো আমার দিকে। এভাবে কিছুক্ষণ অন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়ে রইলো আমার দিকে। আমি ভাবলাম পুরোনো স্মৃতি হয়তো তাকে গ্রাস করেছে। তারপর মুখে খানিকটা বিরক্তির ছাপ নিয়ে আমার থেকে চোখ নামিয়ে, আমার বামদিকের গলিটায় দৃষ্টিপাত করলো। হঠাৎ তার মুখে মৃদু খুশির আভাস ফুটে উঠলো। উচ্ছাসিত দেখালো তাকে। তারপর এক নীল পাঞ্জাবী পরা সুদর্শন যুবক এসে তার ডান হাত ধরলো। তার পরের বাক্যটি আমার অতি চেনা ও প্রিয় বাক্য দীপ্তি অভিমানের সুরে বললো ‘আজকেও লেট’। আমার চারিদিক কেমন ঘোলাটে লাগতে শুরু করলো। দৃষ্টি অস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে আসছে, মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি। না, এটা সত্য হতে পারেনা। সী ইজ অনলি মাইন। আমি তাকে ধরার চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না। আমি আবার তাকে আটকানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু এবারো পারলামনা। তারা দুজন হাতে হাত রেখে হেঁটে চলেছে অবিরাম। পিছন থেকে কিছু লোকের হট্টগোলের শব্দ শুনা যাচ্ছে। আমি পিছন ফিরে তাকালাম কিছুদূরে রাস্তার উপর রক্তাক্ত শরীরে পড়ে রয়েছে অবিকল আমারি মতই দেখতে এক যুবকের নিথর দেহ। যার দৃষ্টি এখনো সুদূরপানে ঐ নীলাম্বরির দিকে চেয়ে আছে, যার দৃষ্টি এখনো একটি প্রশ্নের জবাব জানতে চাইছে ।

লেখক পরিচিতি

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা