আপদ-বিপদ
ইংরেজ শাসনামলের প্রথম বাঙালি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়। ম্যাজিস্ট্রেট হতে গিয়ে আর সবার মতো তাকেও ইন্টারভিউর মুখোমুখি হতে হয়েছিল। স্বভাবতই পরীক্ষক ছিলেন একজন ইংরেজ। ইংরেজ মহাশয় ইন্টারভিউর এক পর্যায়ে বঙ্কিমচন্দ্রকে প্রশ্ন করলেন,
– হোয়াট ইজ দ্য ডিফারেন্স বিটুইন আফদ (আপদ) অ্যান্ড বিফদ (বিপদ)?
বঙ্কিমচন্দ্র উত্তর দিলেন,
– ধরুন, আমি নৌকায় চড়ে নদী পার হচ্ছি এমন সময় প্রচণ্ড ঝড় উঠল, এটা হচ্ছে বিপদ। আর এই যে আমি একজন বাঙালি হয়েও ইংরেজের কাছে বাংলার পরীক্ষা দিচ্ছি এটা হচ্ছে আপদ।
মৃত’র চিঠি
নোবেল বিজয়ী ইংরেজ লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিং যে পত্রিকাটির গ্রাহক ছিলেন সেখানে একবার ভুলবশত কিপলিং এর মৃত্যু সংবাদ ছাপা হল। সংবাদটি পড়ে তৎক্ষণাৎ কিপলিং পত্রিকা সম্পাদককে চিঠি লিখলেন- আপনার পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম যে আমার মৃত্যু হয়েছে। তাই দয়া করে আপনাদের গ্রাহক তালিকাটা থেকে আমার নামটি বাদ দিয়ে দিবেন!
ধীরগতির ট্রেন
অনেক বছর আগের কথা। সে সময় আমেরিকান ট্রেনগুলো বেশ ধীরগতিতে চলত। দেরী করত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সকাল ৮টার ট্রেন রাত ৮টায় আসবে কী-না সে বিষয়ে সবাই থাকত সন্দিহান।
এমনই এক সময়ে বিখ্যাত রম্যসাহিত্যিক মার্ক টোয়েন একবার কোথাও যাওয়ার জন্য ট্রেনে চেপে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর কামরায় উঠল টিকিট চেকার। মার্ক টোয়েন গম্ভীর মুখে চেকারের দিকে একটা ‘হাফ টিকিট’ বাড়িয়ে দিলেন। বুড়ো মানুষের হাতে ‘হাফ টিকিট’ দেখে টিকিট চেকার অবাক! তাঁর প্রশ্ন,
– কী মশাই, আপনি হাফ টিকিট কেটেছেন কেন? গোঁফ-মাথার চুল সবই তো সাদা। আপনি কী জানেন না চৌদ্দ বছরের বেশি হলে তার বেলায় আর হাফ টিকিট চলে না?
মার্ক টোয়েনের সোজা জবাব,
– যখন ট্রেনে চড়েছিলাম, তখন তো বয়স চৌদ্দই ছিল। কে জানত, ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছতে এত দেরী করবে!
দাড়ি কামানো রেজার
খ্যাতনামা আইরিশ সাহিত্যিক, সমালোচক ও নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ‘র মুখের লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল তার দাড়ি। একবার একটি ইলেকট্রিক রেজর নির্মাতা কোম্পানির কর্তারা বাজারে আসা তাদের নতুন রেজরের প্রচারণায় শ’র এই দাড়িকে নিশানা করল। শ’কে তারা এই নতুন রেজার দিয়ে দাড়ি কামানোর অনুরোধ করল। বিনিময়ে দেয়া হবে লোভনীয় অঙ্কের টাকা। শ তাদের হতাশ করে বললেন,
– তার বাবা যে কারণে দাড়ি কামানো বাদ দিয়েছিলেন তিনিও ঠিক একই কারণে এ জঞ্জাল ধরে রেখেছেন।
কোম্পানির কর্তারা কারণটি জানতে আগ্রহী হলে বার্নার্ড শর বললেন,
– আমার বয়স তখন পাঁচ বছর। একদিন বাবা দাড়ি কামাচ্ছেন। আমি তাকে বললাম, ‘বাবা তুমি দাড়ি কামাচ্ছ কেন!’ তিনি এক মিনিট আমার দিকে নীরবে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘আরে তাই তো, আমি এ ফালতু কাজ করছি কেন?’ এই বলে তিনি সেই যে জানালা দিয়ে রেজার ছুঁড়ে ফেললেন জীবনে আর কখনও তা ধরেননি।


