ভালোবাসার বিদায়
প্রদীপখানা যখন ভেঙে যায়,
আলো তার ধুলিতে লুটায়।
মেঘটা যখন ছড়িয়ে পড়ে হায়,
রংধনুর রং কোথায় মিলে যায়!
ভাঙে যখন সুর তোলা সেই বেনু।
তেমনই তোমার কথা যখন শুনি,
প্রেমের কথায় সব ভুলি তখনই।
গান এবং দীপ্তি যেমন করে বাঁশি এবং দীপের সাথে মরে,
আবেগ যখন বাক্যহীন হয় হৃদয়ে তার সঙ্গীত না রয়।
গানে বাজে শোকের করুণ সুর,
ভাঙা ঘরের ভেতর দিয়ে বাতাস বহে দূর।
নয়তোবা সে গান বিলাপ ভরা,
ঘণ্টাধ্বনি নাবিক মরা।
মন ভোমরা মিললে এক সাথে,
প্রেম পালাবে সুখের নীড় হতে।
দুর্বল চিত্ত একাকীত্বের যন্ত্রণায় বিরহ আর অশ্রু নিয়ে দিন কাটায়।
ওগো প্রেম! হেথায় তোমার শোক,
কারণ সবে অবিশ্বাসী লোক।
তবু কেন হালকা, ভঙুর ওইখানে বানাও তোমার দোলনা বাড়ি কে জানে?
আবেগ তোমার দিচ্ছে তোমায় নাড়া,
ঝঞ্ঝা যেমন শিকার করে তাড়া।
উজাল চিন্তা করবে তোমায় তিরস্কার,
রবি যেমন পায় তিরস্কার শীতের কুয়াশার।
তোমার নীড়টা খালি হবে জান,
খুড়কুটা সব পড়বে ঝরে, মান?
নগ্ন হাসি দিয়ে তোমায় ছেড়ে যাবে,
শীতের বাসাত এসে সকল পাতা ঝরাবে।
অনুবাদ : মনির তালুকদার
শেলী। পুরো নাম পার্সি বিশি শেলী। কবি শেলী জন্মগ্রহণ করেন ইংল্যান্ডের নিকটবর্তী ফিল্ড প্লেস-এ, ১৯৭২ সালের ৪ আগস্ট। শিল্প-সৌকর্যপূর্ণ সৌম্যসুঠাম, ঝাঁকড়া চুলের দীঘলদেহী এক সুদর্শন পুরুষ শেলী। রাজনীতি ও ধর্মের প্রচলিত প্রথাবিরোধী, সামাজিক শৃঙ্খলবিরোধী, ক্ষ্যাপা দুর্বাসা দুর্বিনীত, জীবন্ত আগ্নেয়গিরির অগ্নি উত্তাল গর্জনে ফেটে পড়া কবি শেলী। শেলীর বয়স যখন আট বছর তখন থেকেই তার লেখালেখি শুরু। ১৮২২ সালের ৮ জুলাই তিনি প্রয়াত হন।


