অভিশপ্ত
রিনার হাসির ছটায় যেন ঝনঝনাঝন শব্দে কাঁচ ভাঙছে। মুক্তোঝরা হাসিতে ফেটে পড়ছে সে। দূর থেকে ওর হাসির শব্দ আমার কানে অাসছে। ওর মায়াময় মুখশ্রীটাও দৃষ্টিগোচর হচ্ছে আমার। খুব ইচ্ছে করছে কাছে গিয়ে ওকে তাক লাগিয়ে দেই। তবে আমি জানি, আগের মতো আমাকে দেখে আনন্দে উদ্বেলিত হবে না সে। বরং ভড়কে যাবে নিশ্চিত।
ওর পাশে সুদর্শন একজন পুরুষ বসে আছে। তার সাথে রিনাকে মানিয়েছে বেশ। ভাবতে ভালোই লাগছে, রিনা মনের মতো একজন মানুষ পেয়েছে। পোশাক-আশাকে ভদ্রলোককে বেশ অর্থকড়ির মালিক বলেই মনে হচ্ছে। যাক্, শেষ পর্যন্ত রিনার ভাগ্যে একজন বড়লোক স্বামী জুটেছে।
কাছে গিয়ে ওকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার ইচ্ছেটা বহুকষ্টে দমন করলাম। দমন করলাম রিনাকে খুব কাছ থেকে দেখার ইচ্ছেটাকেও। বলা যায়, গলা টিপে একপ্রকার হত্যা করলাম। যে রিনাকে একদিন না দেখে আমি থাকতে পারতাম না। রিনার মিষ্টি কণ্ঠটা একদিন না শুনলে আমার ঠিকমতো ঘুম হতো না। সেই রিনা আজ আমার বেশ কিছুটা দূরে বসে আছে। ওকে আমি কাছে গিয়ে প্রাণভরে চাইলেও দেখতে পারছি না!
যে রিনার হওয়ার কথা ছিল আমার সহধর্মিনী। সে আজ অন্য কারো অধিকারে চলে গেছে। বর্তমানে সে অন্য একজনের বিয়ে করা স্ত্রী। এখন তো আর ওকে আগের মতো মনভরে দেখার অধিকার আমার নেই। হয়তো এর সাথে-সাথে ওর কণ্ঠস্বর শোনার অধিকারটাও হারিয়ে ফেলেছি!
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমি। যে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ার অপরাধে রিনাকে এই জীবনে আপন করে পাওয়া হয়নি আমার। অপরাধ না করেও কেউ কেউ অপরাধী হয়। আমিও সেই দলের। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়ার পরপরই যে অপরাধের বোঝা চেপে বসেছে আমার কাঁধে।
তাই তো চুপিচুপি রিনার অগোচরে ওর কাছ থেকে দূরে সরে এসেছিলাম আমি। ওকে অনেক অনেক এবং অনেক বেশি ভালোবাসার পরও, নিজ থেকেই পর করে দিয়েছিলাম ওকে। বেচারীর কোনো দোষই নেই। সব দোষ আমার। আমি যে অপরাধী!
রিনাকে ফিরিয়ে দিয়ে আমি শপথ নিয়েছি, নিজেকেই নিজে ‘মধ্যবিত্ত’ হওয়ার অভিশাপ থেকে মুক্তি দেব। সেই মোতাবেক কাজ করে চলেছি। যে বেদনা বুকে ধারণ করে আমি পথ চলছি, সেই একই বেদনা যেন আমার পরিবারের কাউকে ভোগ করতে না হয়।
আমার ছোট ভাই-বোন দুটো যেন মধ্যবিত্ত হওয়ার অপরাধবোধ বুকে নিয়ে ওদের ভালোবাসাকে স্বেচ্ছায় বিসর্জন না দেয়। অভিশাপের বোঝা সরিয়ে আমি ওদের স্বপ্নপূরণের বোঝা স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিয়েছি। যে অভিশাপে আমি অভিশপ্ত, সেই অভিশাপের বিষাক্ত ছোঁয়া যেন ওদের শরীরে না লাগে।
ওর পাশে সুদর্শন একজন পুরুষ বসে আছে। তার সাথে রিনাকে মানিয়েছে বেশ। ভাবতে ভালোই লাগছে, রিনা মনের মতো একজন মানুষ পেয়েছে। পোশাক-আশাকে ভদ্রলোককে বেশ অর্থকড়ির মালিক বলেই মনে হচ্ছে। যাক্, শেষ পর্যন্ত রিনার ভাগ্যে একজন বড়লোক স্বামী জুটেছে।
কাছে গিয়ে ওকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার ইচ্ছেটা বহুকষ্টে দমন করলাম। দমন করলাম রিনাকে খুব কাছ থেকে দেখার ইচ্ছেটাকেও। বলা যায়, গলা টিপে একপ্রকার হত্যা করলাম। যে রিনাকে একদিন না দেখে আমি থাকতে পারতাম না। রিনার মিষ্টি কণ্ঠটা একদিন না শুনলে আমার ঠিকমতো ঘুম হতো না। সেই রিনা আজ আমার বেশ কিছুটা দূরে বসে আছে। ওকে আমি কাছে গিয়ে প্রাণভরে চাইলেও দেখতে পারছি না!
যে রিনার হওয়ার কথা ছিল আমার সহধর্মিনী। সে আজ অন্য কারো অধিকারে চলে গেছে। বর্তমানে সে অন্য একজনের বিয়ে করা স্ত্রী। এখন তো আর ওকে আগের মতো মনভরে দেখার অধিকার আমার নেই। হয়তো এর সাথে-সাথে ওর কণ্ঠস্বর শোনার অধিকারটাও হারিয়ে ফেলেছি!
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমি। যে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ার অপরাধে রিনাকে এই জীবনে আপন করে পাওয়া হয়নি আমার। অপরাধ না করেও কেউ কেউ অপরাধী হয়। আমিও সেই দলের। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়ার পরপরই যে অপরাধের বোঝা চেপে বসেছে আমার কাঁধে।
তাই তো চুপিচুপি রিনার অগোচরে ওর কাছ থেকে দূরে সরে এসেছিলাম আমি। ওকে অনেক অনেক এবং অনেক বেশি ভালোবাসার পরও, নিজ থেকেই পর করে দিয়েছিলাম ওকে। বেচারীর কোনো দোষই নেই। সব দোষ আমার। আমি যে অপরাধী!
রিনাকে ফিরিয়ে দিয়ে আমি শপথ নিয়েছি, নিজেকেই নিজে ‘মধ্যবিত্ত’ হওয়ার অভিশাপ থেকে মুক্তি দেব। সেই মোতাবেক কাজ করে চলেছি। যে বেদনা বুকে ধারণ করে আমি পথ চলছি, সেই একই বেদনা যেন আমার পরিবারের কাউকে ভোগ করতে না হয়।
আমার ছোট ভাই-বোন দুটো যেন মধ্যবিত্ত হওয়ার অপরাধবোধ বুকে নিয়ে ওদের ভালোবাসাকে স্বেচ্ছায় বিসর্জন না দেয়। অভিশাপের বোঝা সরিয়ে আমি ওদের স্বপ্নপূরণের বোঝা স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিয়েছি। যে অভিশাপে আমি অভিশপ্ত, সেই অভিশাপের বিষাক্ত ছোঁয়া যেন ওদের শরীরে না লাগে।


