সকাল বেলা স্বাধীনের ফোন। তার বাবা ভোর থেকে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। অছিয়ত একটাই। তার লাশটা দেশে পাঠাতে হবে। কালাম চাচা কান্নার মানুষ না। শক্ত মানুষ। জ্যাকসন হাইটসের প্রথম দিককার ট্যাক্সি চালকদের একজন। এখন অবসরে। সেকারণে বেশি ঘাবড়ে গেছেন। তার দুই বন্ধু একদিনেই সিটি হসপিটালে ভর্তি হয়েছিলেন। দুজনকে মর্গেও রাখা যাচ্ছে না। প্রচুর চাপ। নিউইয়র্কে জানাযা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কবর তো দূরের কথা। যদিও কালাম চাচার কিছু হয়নি। তার কাশি সামান্যই।
তবু আমি গুগল করে দেখলাম। কোনো ফ্লাইট চালু নেই দেশে নেয়ার। তবু চাচার দাবি একটাই। কাঁঠালীতলার কবরস্থানেই যাতে তার দাফন হয়, মেঘনা নদীর পাড়ে।
আবার ফোনটা বাজছে, স্বাধীনের ফোন।
মামুন অর রশীদ, লেখক ও শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।


