বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ বাঙালি সাংস্কৃতিক জীবনে সবচেয়ে বড় উৎসব। একটা সময় পহেলা বৈশাখ ছিল শুধুই মেলাকেন্দ্রিক বিষয়। গ্রাম্যমেলা, বটমূল আর চারুকলার আয়োজনেই ছিল যার সীমাবদ্ধতা। তারপর ধীরে ধীরে তা নিজের রঙ ছড়িয়েছে সবখানে। এই বিশেষ দিনটিকে উপলক্ষে করে বৈচিত্র্য এসেছে পরিবারের টেবিল থেকে চলচ্চিত্রের পর্দা – সবখানেই।
গ্রামীণ সংস্কৃতিতে বৈশাখ কতখানি গভীরে শিকড় গেড়েছে তার গভীরতা উপলব্ধি করা যায় গাজী রাকায়েতের ‘মৃত্তিকা মায়া’ দেখলে। রেকর্ডসংখ্যক ১৭টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া ছবিটির গল্প কুমার সম্প্রদায়ের সুখ-দুঃখ ঘিরে। গল্পে একটি বটগাছের ভূমিকা রয়েছে, যে গাছের নিচে প্রতিবছর বৈশাখী মেলা হয়। সেই বটগাছটি কেটে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন ছবির অন্যতম চরিত্র রাইসুল ইসলাম আসাদ। তাঁর এই মেলাকে রক্ষার চেষ্টা, বটবৃক্ষটিকে বাঁচানোর চেষ্টা সংস্কৃতির শিকড় বাঁচিয়ে রাখার লড়াই বলেই ধরে নিতে হয়।
‘মৃত্তিকা মায়া’র মতো আরো অনেক চলচ্চিত্রেই বৈশাখের আবহ, বৈশাখের চেতনা উঠে আসতে পারত, এমনকি চলচ্চিত্রের গল্পও হতে পারত। হয়তো আগামী দিনে হবে।


