শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

ভাসিল আলেকজান্দ্রির কবিতা

শীতের মাঝামাঝি ( mijlocul iernii ) 

দ্যাখো অরণ্যের ভিতর চকচক করছে ওকগাছগুলি!

এ এক তিক্ত, ভয়াবহ হিমঝড়!

নক্ষত্রগুলোকে হিমায়িত মনে হয়, আকাশকে মনে হয় নিথর,

দূরে ঝকঝকে সমভূমিতে স্ফটিক তুষার

দ্যাখো অনন্ত পায়ের তলায় হীরের শিকল ছটফট করে

ঝকঝকে বাতাসে সাদা ধোঁয়া উড়ছে

মহিমান্বিত মন্দিরের লম্বা সারির মতো ধোঁয়া,

তাদের মাথার উপর পরিষ্কার আকাশের খিলান

এখানে চাঁদ তার রহস্যময় আলোয় বাতিঘর আলোকিত করে।

এই দৃশ্যে ভেসে ওঠে চমৎকার ছবি… হাজার হাজার রূপোলি তারা

সীমাহীন মন্দিরে মশাল জ্বলে প্রতিবেশীর মতো।

পাহাড় তার বেদী, অরণ্য-শব্দ অঙ্গ

সবকিছু স্থির, প্রাণহীন, কণ্ঠহীন;

বায়ুমণ্ডলে পেরিয়ে যাচ্ছে কোনও দৈবযান,

নিম্নে তুষার- কোনো পদক্ষেপ নেই;

কিন্তু আমি কি দেখতে পাচ্ছি

চাঁদের মলিন জ্যোৎস্নায় দ্রুতগামী ছায়াদের?

একটি নেকড়ে তাড়া করে যায় তার ভীত শিকারকে!

[ কাব্যগ্রন্থ- “Doine și Lăcrămioare”, ১৮৫৮ ]


স্ট্রুঙ্গাই অরণ্য* ( pădurea Strungai ) 

স্ট্রুঙ্গাই অরণ্যে অন্ধকার হচ্ছে

যাদের হাতে লম্বা রাইফেল আছে

আমি তাদের খুঁজে চলেছি!

যারা চাঁদের দিকে গুলি চালায় আমি তাদের একজন,

যা রাত্রির পাতায় বাজে,

তেমন সংগীত এখানে নেই

একপাশে দাঁড়ান, বলে চেঁচিয়ে ওঠে খ্রিস্টান পাদ্রী,

এভাবে আদেশানুসারে বেঁচে গেলে

নিজের মধ্যে বেঁচে থাকা যায়!

তারপর সূর্যহীন উপত্যকায়

তারা তোমার জন্য অপেক্ষা করে

তোমাকে শিকার করবে বলে,

তোমাকে হত্যা করবে বলে…

প্রতিবেশী গ্রোভে,

যেখানে রাত্রি কঠিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে,

তুমি কি সেখানে আলো দেখেছ?

চওড়া পিঠসহ শক্তিশালী পেশি

ঘর্মাক্ত আস্তিনে

আমি ভর্তি রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি-

তিনটি পবিত্র ক্রুশ চুম্বন করে,

খাঁচার ভিতর তিনজন মানুষ কঠিন লড়াই করছে

বাইরে একজন হাসছে, একজন গেয়ে যাচ্ছে গান।

আমার রাইফেল ভেঙে গেছে।

নিথর হয়ে পড়ছে হাত,

আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে বনজ অন্ধকারে।

ভাষান্তর: রূপায়ণ ঘোষ

—————————————————————–

পলিমাটি

ভাসিল আলেকজান্দ্রি, রোমানিয়ান উচ্চারণে [ vaˈsile aleksanˈdri ]; ২১ জুলাই ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী সাহিত্যিক তথা দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। একাধারে কবি, নাট্যকার, রাজনীতিবিদ এবং কূটনীতিক হিসেবে ভাসিল ছিলেন প্রসিদ্ধ। ১৮৪৮ সালে মোলদাভিয়া এবং ওয়ালাচিয়ার গণ-উত্থানের সময় তিনি ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। 

১৮৫৬ সালে ভাসিল “হোরা ইউনিরি” [ Hora uniiri ] লিখে এবং আলেকজান্দ্রু ইওন কুজার পক্ষে মোলদাভিয়ার রাজপুত্রের জন্য তাঁর প্রার্থিত পদ ছেড়ে দিয়ে রোমানিয়ান প্রিন্সিপালিটিগুলির একীকরণের জন্য লড়াই করেন। তিনি রোমানিয়ার প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রী হন এবং রোমানিয়ান সাহিত্য আকাদেমির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন। আলেকজ়ান্দ্রি ছিলেন সেই বিশিষ্ট লেখক- যিনি রোমানিয়ান সাহিত্যে কবিতা, গদ্য, বেশ কয়েকটি নাটক এবং রোমানিয়ান লোককাহিনির সংগ্রহে একক অবদান রেখেছিলেন। মিহাই এমিনেস্কুর সঙ্গে বিবেচনায়, ভাসিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোমানিয়ান লেখকদের একজন এবং তিনি নিজেও তাঁর লেখনী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। মূলত উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আলেকজ়ান্দ্রির কাব্যপ্রতিভা সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়। তবে দীর্ঘদিন সাহিত্য রচনার সঙ্গে যুক্ত থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। ভয়াবহ কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৬৯ বছর বয়সে রোমানিয়ার মিরসেতি শহরে ভাসিল আলেকজ়ান্দ্রির মৃত্যু ঘটে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল- Argeșului”, “Novac și Corbul” এবং “Doine și Lăcrămioare” – যা কবি হিসেবে তাঁর খ্যাতিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। 

লেখক পরিচিতি

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা