রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

বই নিয়ে আলোচনার উপায়সমূহ

বই পর্যালোচনা লেখার উদ্দেশ্যটা হলো বই সম্পর্কে অন্য পাঠকদের সংক্ষেপে কিছু ধারণা দেওয়া। যেমন ধরুন – উপন্যাস হলে সেই উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ কী, নন-ফিকশন হলে সেই বইয়ের বিষয়বস্তু কী, ভাষাশৈলী কেমন, বইয়ের শিক্ষণীয় ব্যাপারগুলো কী, কোন বিষয়গুলো ভালো লেগেছে, কোন বিষয়গুলো নিয়ে ভিন্নমত আছে ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর বইয়ের পর্যালোচনায় থাকা উচিত। পর্যালোচনায় সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হতে হবে।

পর্যালোচনা লেখার সময় আমি একটা বাঁধাধরা ছক অনুসরণ করি।

  1. কাহিনী সংক্ষেপ/সারসংক্ষেপ : মূলত উপন্যাসের পর্যালোচনাই বেশি লেখা হয়েছে। তো লেখার শুরুতেই উপন্যাসের সার-সংক্ষেপ লিখি। সার-সংক্ষেপে কিছু বিষয় অবশ্যই লিখি, যেমন – মুল চরিত্রেগুলোর অংশগ্রহণে কাহিনী কীভাবে এগিয়েছে। সম্পুর্ন কাহিনীই সার সংক্ষেপে লেখা উচিত কিনা সেই সম্পর্কে অনেকেই দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন। তবে আমি মনে করি উপন্যাস হলে সেই উপন্যাসের টুইস্টটুকু না লেখাই উত্তম।
  2. চরিত্র : এটা লেখা বাধ্যতামূলক না। তবে মুল চরিত্রগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা লেখা যেতে পারে।
  3. পাঠ প্রতিক্রিয়া : সম্পুর্ন বই পড়ে আপনি কী মন্তব্য করবেন? সেটাই লিখবেন মতামত এর জায়গায়। কেন ভালো লেগেছে বা কেন ভালো লাগে নি। পরের সংস্করণে এ কেমন পরিমার্জন করা উচিত ইত্যাদি ইত্যাদি লিখবেন।
  4. বই সম্পর্কিত তথ্য : বইয়ের লেখক কে, প্রচ্ছদ কার তৈরি, কত পেজের বই, মূল্য কত, বাধাই কেমন, কবে প্রকাশিত হয়েছে, কোণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে ইত্যাদি তথ্য লিখবেন। এই তথ্যগুলো গুরুত্বপুর্ন।

এই চারটে জিনিস পর্যালোচনায় থাকলে আমি সেই লেখা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকি। পাঠকের বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় এ ধরনের পর্যালোচনায়।

যারা ভালো পর্যালোচনা লিখেন তাদের লেখা নিয়মিত পড়তে হবে। তাহলে ভাষাশৈলী এবং লেখার গঠন সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাবেন। পর্যালোচনাগুলো অনেকটাই ফেসবুক কেন্দ্রিক, রকমারি ডটকম এর মন্তব্য সেকশনেও অনেকসময় ভালো পর্যালোচনা পাওয়া যায়। পত্রিকাতেও প্রায় সময় ছাপা হয়।

লেখক পরিচিতি

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা