বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস “পুতুলনাচের ইতিকথা”। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ উপন্যাস লেখেন মাত্র ২৬ বছর বয়সে। কথাশিল্পী আনিসুল হক লিখেছেন, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা আমি যতবার পড়েছি, প্রতিবার এই উপলব্ধি হয়েছে যে আমি আর আগের মানুষটি নেই।’
.
পুতুলনাচের ইতিকথার একটি শ্রেষ্ঠ সম্পদ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা। এই ভাষা একই সঙ্গে স্বাদু, মধুর, সহজপাঠ্য; তেমনি সৌন্দর্যময় এবং ইঙ্গিতময়।’ এ উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য নারী-পুরুষের সম্পর্ক। শশী ডাক্তারের সঙ্গে কুসুমের সম্পর্কই আসল। কুসুম-শশীর সম্পর্কের মধ্যেই কত অন্ধসন্ধি! কুসুম-শশীর সেই বিখ্যাত সংলাপ : কুসুম বলে, আপনার কাছে দাঁড়ালে আমার শরীর এমন করে কেন ছোটবাবু …? শশী বলে, শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?
.
শশী ডাক্তারই এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। অনবদ্য চরিত্র কুসুম। যে-কুসুম বলে, সইতে পারি না ছোট ছোটবাবু। এমনি চাঁদনি রাতে আপনার সঙ্গে কোথাও চলে যেতে সাধ হয় ছোটবাবু।’ সেই কুসুমই আবার বলে, মানুষ কি লোহায় গড়া যে চিরকাল সে একরকম থাকবে, বদলাবে না? বলতে বসেছি যখন কড়া করেই বলি, আজ হাত ধরে টানলেও আমি যাব না’
.
ফরাসি সাহিত্যরসিক পিয়ের ফালোঁ এস জে বাংলা শিখেছিলেন, পড়েছিলেন বঙ্কিম থেকে তিরিশের কথাশিল্পীদের। তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল পুতুলনাচের ইতিকথা। এক প্রবন্ধে পিয়ের লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুলনাচের ইতিকথা বইখানির মধ্যে আমরা তাঁর শিল্পী-মনের উৎকৃষ্টতর ও গভীরতর অভিব্যক্তির নিদর্শন পাই।’
.
পাঠক, পুতুলনাচের ইতিকথা যতবার পড়বেন, মনে হবে নতুন বই পড়ছি!
.
পুতুলনাচের ইতিকথা- যতবার পড়বেন, মনে হবে নতুন বই পড়ছি!
লেখক পরিচিতি
আরও লেখা


