রিয়াদ ভাই কল দিয়ে বললেন,

– ফরহাদ ঘটনা তো ঘটে গেছে।

– কী হইছে ভাই ?

-তোর মামা মানে আমার বাপ, আমার হবু শাশুড়িকে নিয়ে পালিয়েছে।

– কী বলেন ভাই? কবে? কখন?

– প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না। তুই যেভাবে হোক আমাকে বিয়েটা করানোর ব্যবস্থা কর।

– আচ্ছা আমি বিষয়টা দেখছি।

দু’দিন আগের কথা, মামা, নানা এবং রিয়াদ ভাই পাত্রী দেখতে গিয়েছেন। সবার পাত্রী পছন্দ হয়েছে। দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে আগামী মাসের ৭ তারিখ বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে মামা এমন অঘটন ঘটিয়েছেন! রিয়াদ ভাইয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে বাংলাদেশের আইন-কানুন অনুযায়ী ১০ বছর আগে। ৩২ বছর বয়সে বিয়ে করতে এসে উল্টো আরেকজনের বউ নিয়ে পালিয়েছে বাপে। বাপের এমন কর্মকাণ্ডে রিয়াদ ভাই বিষ কিনে এনেছেন ঠিকই কিন্তু খাচ্ছেন না।

আমি এখন রিয়াদ ভাইয়ের সামনে। তিনি এসেছেন আমার কাছ থেকে সমাধান নিতে। আমি উনাকে কী সমাধান দেব সেটাই বুঝতেছি না। উনাকে সমাধান দিতে পারলে এতদিনে আমার ঘরেও বউ থাকত। রিয়াদ ভাইয়ের মা নেই, পাঁচ বছর আগে একটা দুর্ঘটনায় মামি মারা গেছেন। রিয়াদ ভাইয়ের হবু শ্বশুর নেই। তিনিও কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছেন। এখন বেয়াই-বেয়াইন দু’জন পালিয়েছে।

– সমাধান দিবি কিনা বল? নাকি বিষ খেয়ে মরব।

– কী সমাধান দেব সেটাই ভাবছি। একটা আইডিয়া মাথায় এসেছে।

– কী আইডিয়া ?

– তুমি তোমার হবু বউরে নিয়ে পালিয়ে যাও, এই কাজ করলে কেমন হয়?

– খুবই খারাপ হয়।

– খারাপ হবে কেন?

– গাধা, মেয়ে আমার সঙ্গে রাগ করে কথা বলছে না। এদিকে বাপে আমার কল ধরছে না।

– তোমার হবু বউ এখন কোথায়?

– আমার নানি শাশুড়ির বাড়িতে।

– নানি শাশুড়ির নাম্বার থাকলে কল দাও। নানিরে বলবে, যেভাবে হোক আপনার নাতনিকে রাজি করান। আমরা পালিয়ে বিয়ে করব। মানসম্মান যা গেছে তা গেছে। এটা ভেবে আর লাভ নেই। নানিরে রাজি করাতে পারলে হবে।

– আইডিয়াটা খারাপ না।

রিয়াদ ভাই নানি শাশুড়িকে কল দিলেন। কল ধরলেন রিয়াদ ভাইয়ের হবু বউ।

– কে বলছেন ?

– মিতু আমি রিয়াদ, নানু কোথায়, নানুকে একটু দাও, জরুরি কথা আছে।

– হারামজাদা তোর পরিবারের সবাই কি চোর? পালিয়ে বিয়ে করে কেন?

– আরে গালাগালি করছ কেন? বাবা একটা কাজ করে ফেলছে। এর সমাধান তো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তুমি নানুকে দাও, আমি একটু কথা বলি।

– তোর দাদা আমার নানুকে নিয়ে পালিয়েছে।

রিয়াদ ভাই সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান। তারে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর জ্ঞান ফিরেছে। তারে বললাম,

– ভাই, ভাবি কী এমন কথা বলল, যা শুনে আপনি জ্ঞান হারালেন!

– দাদা আমার নানি শাশুড়িকে নিয়ে পালিয়েছে।

এ কথা শোনার পর আমার নিজের জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা।

– বলো কি? নানা তোমার নানি শাশুড়িকে নিয়ে পালিয়েছে?

– হ্যাঁ।

এমন সময় আম্মু কল দিলেন।

-শুনছিস? তোর বড় ভাই ফরিদ রিয়াদের হবু বউ মিতুরে নিয়ে পালিয়েছে।

এ কথা শোনার পর আমার আর হুঁশ ছিল না। কয়েক ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিস্কার করলাম।

– কীরে ফুফু তোকে এমন কী কথা বলেছে, সঙ্গে সঙ্গে তুই অজ্ঞান হয়ে গেলি ?

-ফরিদ ভাই মিতু ভাবিরে নিয়ে পালিয়েছে।

– নাআআআআআ, আমি বিশ্বাস করি না। এ হতে পারে না।

বাপ্পারাজের ডায়ালগ দিয়ে রিয়াদ ভাই দেয়ালে মাথা ঠুকতে লাগলেন। ঘটনা যা হওয়ার হয়ে গেছে। এবার বাড়িতে চলো। রিয়াদ ভাইকে নিয়ে আসলাম আমাদের বাড়িতে, লোকটার ওপর অনেক ধকল গিয়েছে। রিয়াদ ভাই এখন ঘুমাচ্ছে। আম্মুর সঙ্গে আলাপ করে জানলাম, নানার ক্লাসমেট ছিলেন রিয়াদ ভাইয়ের হবু নানি শাশুড়ি, মামার ক্লাসমেট ছিলেন রিয়াদ ভাইয়ের হবু শাশুড়ি, আমার বড় ভাইয়ের ক্লাসমেট ছিলেন মিতু ভাবি!