রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

অজয় রায়ের গল্প -সেঁজুতি

রাত বারটা ৷ একতলার খোলা ছাদে ইজি চেয়ারে দেহ এলিয়ে শুয়ে আছে ঋতু ৷ শরতের আকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া সাদা মেঘ ৷ অগনিত নক্ষত্রের মিটি মিটি হাসি ৷ নবমীর চাঁদ আসন্ন বিচ্ছেদ যন্রণায় বিরহ কাতর ৷ রাত পোহালেই বিসর্জনের আয়োজন ৷ বাতাসে শিউলি সুবাস ৷ ক্ষণস্থায়ী
জীবনে আর মাত্র কিছুক্ষণ বাকী ৷ শিউলি ভাগ্যবতী ৷ ঝরে যাবার পরও তার গুণের কত গভীর মূল্যায়ন ৷

মনটা ভালো নেই ৷ দুরন্ত ঝড়ের তান্ডবে ক্ষতবিক্ষত অন্তর ৷ অপলক দৃষ্টিপাত ৷ অদূরে হরিজন পল্লীর মন্দিরে জনতার ঢল ৷ আরতীর আনন্দ উল্লাস ৷ গন্ধভরা ধূপের ধোঁয়া ৷ আলোকিত প্রাঙ্গণ ৷ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মিলেছে উৎসব আয়োজনে ৷

অপেক্ষার অবসান ৷ ঋতুর মনে খুশীর বন্যা ৷ চোখ মুদে একটা প্রশান্তির দীর্ঘশ্বাস ৷ মহাপ্রাপ্তির এইক্ষণে তার ঠোঁটের কোনে বিজয়িনীর এক চিলতে স্মিত হাসি ৷

অহংকার নয় কর্মজীবনের একটি অধ্যায়ের সফল পরিনতি ৷ সময় গড়িয়ে যায় নিঃশব্দে, নিভৃতে ৷ হরিজন পল্লী আজ আলোকিত মানচিত্রের অংশীদার ৷
কত সময় ? দীর্ঘ দশটি বছর ৷ তবুও অতীত পিছু ডাকে ৷ ঋতুর মনে পড়ে যেদিন সেবাশ্রমের একজন কর্মী হিসাবে কর্তৃপক্ষ তাকে এখানে নিয়োজিত করেছিল ৷ তখন এখানে ছিল নিকষ কালো অন্ধকার ৷ জোনাকীরাও জ্বলতে ভয় পেত ৷ অচ্ছুত এই পল্লী ছিল সমাজ বিচ্ছিন্ন ৷ এর উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া কোন পাখীকেও যেন জবাবদিহি করতে হতো ৷ অচেতচিও লোকগুলি বিধাতার বিধান শিরোধার্য্য জেনেই পথ চলছিল ৷ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ৷ এখানকার নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোরদের জীবনধারার গতি-প্রকৃতি ঋতুর মনকে ভারাক্রান্ত করেছিল ৷ পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসাবে যারা সমাজকে সেবা দিয়ে আসছে , তাদের এই হাল ! হতবাক হয়ে ঋতু তার দায়িত্ব সম্পাদনের কাজ শুরু করেছিল ৷

প্রথম কিছুদিন ওদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা শুরু ৷ ওদের সংকোচ শঙ্কা ভয়কে দূর করে নিবিড় সম্পর্ক তৈরী করতে ঋতুর খুব বেশী সময় লাগেনি ৷
এত সরল হ্নদয়বান লোকগুলি অথচ সমাজে অস্পৃস্য !
এ অধ্যায় অমানবিক ৷ এ অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতেই হবে ৷ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে ঋতু পরিকল্পনা তৈরী করেছিল ৷

ওদের নিয়ে ওঠাবসা করায় তথাকথিত আলোকিত সমাজের কাছে ঋতু অবাঞ্চিত হয়ে গিয়েছিল ৷ দু’ একজন বোঝানোর চেষ্টা করেছিল ঋতুর আচরণ দৃষ্টিকটু ৷ তারা ক্ষুদ্ধ বিরক্ত ৷ ঋতু যখন তাদের বিরক্তির বিষয়ে পাত্তা না দিয়ে নিজের মত কাজ করে যাচ্ছিল, ওরা তাকে বয়কট করেছিল ৷

দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে শুরুতেই সেবাশ্রমের অর্থায়নে একটা স্কুল স্থাপন করা হলো ৷ কিন্তু শিক্ষক জুটল না ৷ হরিজন পল্লীতে স্কুল —এখানে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষকতা হলেও সমাজ বিচ্ছিন্ন হবার ভয় ৷

প্রাথমিক পর্যায়ে ঋতুকে বিদ্যালয়ের হাল ধরতে হলো। দিনে শিশু-কিশোর, রাতে বয়স্কদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকলো। ঋতু বিস্মিত হলো- আলোকিত হবার কি যে ব্যাগ্রতা ওদের !

শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, পাশাপাশি ওদের অধিকারবোধ জাগ্রত করা, সংস্কৃতি চর্চা, অর্থনৈতিক দিক নিয়েও স্বচ্ছলতা অর্জনের দিকনির্দেশনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ঋতু কাজ করে যাচ্ছিল ।

এমন সময়ে ঋষিকে খুঁজে পেল ঋতু । ছেলেটি যেন প্রকৃতির এক অগাধ রত্ন ভান্ডার । নানামুখী প্রতিভায় সজ্জিত একখণ্ড হীরক । যেমন দরাজ গলা, সুর তাল-লয়বোধ, প্রতিষ্ঠিতকে নকল করার অস্বাভাবিক দক্ষতা ৷ ছাত্র হিসাবে প্রথম স্থানের, বিনয়ী, সত্যবাদী, পরোপকারী ৷

ঋতুর ভাবনায় তখন কিভাবে ছাই চাপা আগুনকে জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায় ।

ঋতু ঋষিকে ডাকলো ৷ তাকে উদ্বুদ্ধ করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হলো । কাছ থেকেই জানলো-ওদের একটা নিজস্ব গানের দল আছে । সেখানে বয়স যা-ই হোক ঋষিই দলনেতা । দলের হারমোনিয়াম, খোল, বাঁশি প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করা আছে । সপ্তাহে একদিন রাতে ওদের জলসার আয়োজন হয় ৷ সীমাবদ্ধ গন্ডীর মধ্যেই নিজেদের মনের খোরাক মিটানোর ব্যবস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সামনেই শিক্ষা সপ্তাহ । শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি বহির্ভূত শিক্ষা কার্যক্রম । ঋতু তার বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ঋষিকে সংগীতের সর্বোচ্চ তিনটি ইভেন্টেই অংশ গ্রহণের নির্দেশ দিল । ঋষি অপ্রতিভ হয়ে ম্যামকে বোঝানোর চেষ্টা করলো- তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই ৷ তারা যে নিষিদ্ধ ৷

ঋতুর মনে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ । মুহূর্তকাল স্তম্ভিত থেকে ওকে আশ্বস্ত করল- সে দায়িত্ব তার ।
তিন শ্রেণীর তিনটি গান নির্বাচন করে সেই মুহূর্ত থেকেই রিহার্সেলের আদেশ দিল ।

ঋষি গানের কথাগুলি লিখে ম্যামের কন্ঠ থেকে সুরের ধারণা নিল । সে বিস্মিত হয়ে ঋতুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো ৷ এত সুন্দর… !

ঋতু বিষয়টা বুঝতে পেরে তার সংগীত চর্চার ইতিহাস ওকে খুলে বলল ৷

ঋষির নাম প্রতিযোগিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো । পাশাপাশি মহড়া চলতে থাকলো। ঋতু নিজে গিয়ে ওর বাদ্যযন্ত্র দিয়ে গাওয়া গানগুলি শুনলো । বিস্মিত হয়ে গেল সে, কিভাবে সম্ভব !এমন নিখুঁত পরিবেশনা ।

নির্ধারিত দিন । ঋষির বুকটা কাঁপছে ৷ পরিবেশনে ভয় নয় অংশগ্রহণের শঙ্কা ।
শঙ্কা সত্যে পরিনত হলো । রক্ষণশীল শ্রেণীর নাক সিটকানি এবং আয়োজক কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল ।

ঋতুর শক্ত অবস্থান । কয়েকজন যুবকের বলিষ্ঠ প্রতিবাদে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ঋষির পক্ষেই এসেছিল ।

যা হবার তাই হলো । প্রত্যেকটা ইভেন্টে প্রতিযোগিদের কেউ ঋষির ধারে কাছেও যেতে পারলো না । উপস্থিত সবাইকে রীতিমত অবাক করে দিয়ে ঋষি প্রথম হয়ে জেলায় অংশগ্রহণের অনুমতি পেলো।

ঘোষণা শুনে ঋষি দৌড়ে এসে ম্যামের পায়ে হাত দিয়ে সম্মান জানাতেই ঋতু ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করেছিল । দু’চোখে জলের ধারা- আনন্দাশ্রু । আশেপাশে তাকিয়ে দেখল জোড়া জোড়া চোখের কটাক্ষ দৃষ্টি । তাকে যেন পুড়িয়ে মারবে । ঋতুর উল্লাস আর ধরে না । ঋষিকে জড়িয়ে ধরে বেরিয়ে এসেছিল ।

একটি ধাপের উত্তরণ । ঋষির জন্য একজন ভালো ওস্তাদের সন্ধানে ঋতু । কিন্তু সব অংক মিলে না । গরমিল থাকতেই পারে ৷ তাতে হতাশ হবার কিছু নেই । ঋষিকে ডেকে নিজেই ওস্তাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো সে । তাকে বোঝাল প্রতিভাকে শানাতে হয় । সাধনায়ই সিদ্ধি । মনে করিয়ে দিল—তার জয় মানে ম্যামের বিজয় । ঋতু ভাল করেই জানতো ম্যামের ইচ্ছাপূরণ ও সম্মান রক্ষায় ঋষি তার সবটুকু সক্ষমতা উজার করে দিতে এতটুকুও পিছ পা হবে না ।

ঋষির অভাবনীয় অগ্রগতি ঋতুকে অবাক করে দিলো । জেলা, বিভাগ, জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সর্বোচ্চ সম্মানের শিরোপা অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছে ঋষি ।
কি আনন্দ ঋতুর ! পৃথিবী জয়ের চেয়েও যেন বেশী । পুরস্কার বিতরণী মঞ্চ থেকে ঋষির সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান প্রায় সবগুলি চ্যানেলে লাইভ প্রচার হয়েছে । জাতীয় দৈনিকগুলো সচিত্র খবর প্রকাশ করেছে ।

কি অদ্ভুত ছেলে । সে তার জাত-পাত, সামাজিক অবস্থান, বাধা-বিপত্তির কথা সবিস্তারে ব্যক্ত করেছে । কোথাও কোন রাখ-ঢাক নাই । হাজার লোকের সমাগম পুর্ণ অডিটোরিয়াম পিন-পতন নিরবতার মাঝখান দিয়ে তাকে হৃদয়াঙ্গম করেছে। করতালির মাধ্যমে তাঁকে সংবর্ধনা জানিয়েছে ।

ঋষি তার এই বিজয় ম্যামকে উৎসর্গ করেছে । নিজের প্রতিভাকে অস্বীকার করে ম্যামের প্রচেষ্টাকে ঢালাও করে প্রচার করেছে ।

ঋতু কেঁদে ফেলেছিল । রক্তপ্রবাহে এক অস্বাভাবিক চঞ্চলতা ৷ মাথা থেকে পা পর্যন্ত শিরশির করে নেচে বেড়াচ্ছিল আনন্দানুভূতি । ভাবনায় এক বিশাল প্রশ্নবোধক সঙ্গে আশ্চর্যের যতিচিহ্ন । এতটুকু ছেলে না হয় একটু বেশী বয়সে লেখাপড়া শুরু করেছে, জন্ম নিবন্ধনে যাই হোক প্রকৃত বয়স তো পনেরর বেশী নয় । সাজানো-গোছানো ভাব-ভাষা শব্দ চয়ন মিরাক্কেল উপস্থাপনা । নিজেকে প্রকাশ করার অভিনব সক্ষমতা ।

অনুষ্ঠান থেকে ফিরেই ঋতুর দরজায় কড়া নেড়েছিল ঋষি । সম্মাননা স্মারক ম্যামের হাতে তুলে দিয়ে মাথা নীচু করতেই, ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে চিবুক স্পর্শ করে ঠোঁটে ছুঁইয়েছিল ঋতু । ঋষির মধ্যে এক বলিষ্ঠ সত্তার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করেছিল । কত কথা—সেদিনের অনুষ্ঠানের পুরো ধারা বর্ণনা ৷ সেই মুহূর্তে তার অনুভূতির ব্যাখ্যা ।

ভাবনায় মাতাল হাওয়া । স্মৃতি রোমন্থনের মাধ্যমে অতীত বর্তমানের তুলনামূলক আলোচনায় ব্যাপৃত ঋতু । হরিজন পল্লী পেয়েছে তাদের আত্মমর্যাদা, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, আত্ম নিয়ন্ত্রণাধিকার । প্রমাণ করেছে মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবে কোন শ্রেণীভেদ নাই । দীর্ঘ সংগ্রামের উপজাত পাওয়া ঋষি পেয়েছে প্রতিভার স্বীকৃতি । আর ঋতু ? ঋতু পেয়েছে ঋষিকে ৷ কঠোর সাধনার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ।

ঋষি অনেকটা পথ অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছে নির্ধারিত লক্ষ্যের পানে । উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে সে এখন শহরবাসী ।

কিন্তু ম্যামকে সে ধ্রুবতারা করে রেখেছে মনের গহনে ৷ ইতিমধ্যে ঋষির দুটি রেকর্ড বাজারে এসেছে ৷ অভাবনীয় সাফল্য ৷ প্লে-ব্যাক কন্ঠ দেবার জন্য সংগীত পরিচালকদের অনুরোধসূচক প্রস্তাব ৷

ঋতুর সবকিছু কেমন যেন গোলমাল হয়ে যায় । ঋষি কি তার ব্যক্তি সম্পদ ? তবে ঋষি বিকশিত পদ্মের দৃষ্টান্ত ।

অহংকার ধেয়ে আসে তীব্র গতি নিয়ে । অঘোষিত যুদ্ধে টালমাটাল ঋতু । বড় ক্লান্ত । হোঁচট খেতে খেতে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে ভাবে অহংকার অন্যায় । এ সবই তো ঋষির প্রতিভার যোগ্য পুরস্কার । একটি অযাচিত শঙ্কার সুরসুরি । ঋষি পারবে তো- নিজেকে ধরে রাখতে ? একই বৃন্তে দু’টি সত্ত্বার কথোপকথন । সেতো ঋষির ব্যাপার । পারা-না পারার সাফল্য-ব্যর্থতায় ঋতুর কি-ই বা আসে যায় ৷

এলোমেলো ভাবনার স্রোতে হাবুডুবু খাচ্ছে ঋতু ।নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়াল । ছাদে পায়চারি করতে করতে ভাবলো ৷ যোগ-বিয়োগের মাঝখানেই তো জীবন । কখনও তৃপ্তি কখনও কখনো বিষাদ । কখনও হাসি— কখনও কান্না । ঋতু তো এখানে এসেছে দায়িত্ব পালন করতে, সম্পর্কের জালে আবদ্ধ হতে নয় । নিজে নিজেই প্রবোধ নিল ।
ঋষি জানে না । কেউ জানে না । উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরোয়ানা এসে গেছে । এখানকার কার্যক্রম শেষ । চলে যেতে হবে । আবার হয়তো অন্য কোথাও বহুদূরে অথবা অন্য দেশে ।

উদাস দৃষ্টি দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে ঋতু । চোখ দুটি ঝাপসা ।

সহসা দরজায় গভীর শব্দ । ভেঁপু বেজে উঠলো ।নীচে নেমে এলো ঋতু । শাড়ীটা ঠিকঠাক করে নিতে যেটুকু সময় । এর মাঝেই ঘর ফাঁকা হয়ে গেল । সময়ক্ষেপণের সুযোগ নাই । সে দ্রুত পায়ে বাইরে বেরিয়ে এলো । গাড়িতে উঠে বসলো ।

ভোরের আলো ফুটতে আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত । চোখ বন্ধ করে বসে আছে ঋতু । কোন দিকে তাকাবে না তার প্রতিজ্ঞা । গাড়ী চলতে থাকলো ।
চোখ বন্ধ করলেই প্রলয় বন্ধ হয়ে যায় না । কোন অদৃশ্য শক্তি জোর করে ঋতুর ঘাড়টা পিছনে ঘুরিয়ে দিল । চোখ মেলে দেখলো ঋতু । ঐ তো হরিজন পল্লীর আলোকসজ্জা । হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছে ঋষি । বিসর্জনের বিষাদ যন্রনায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে সে ৷

ঋতুর চোখ দিয়ে টপটপ করে জল ঝরে পড়ছে ।টিস্যু দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে একটা দীর্ঘশ্বাস বাতাসে মিলিয়ে গেল । হাতজোড় করে উর্ধ্বে তুলে বললো সে, ‘হায় ঈশ্বর….!,

লেখক পরিচিতি

অজয় কুমার রায়
অজয় কুমার রায়
কবি গল্পকার ও প্রাবন্ধিক অজয় কুমার রায় মানিকগঞ্জ জেলায় ঘিওর উপজেলার নারচি গ্রামে ১৯৪৮ সালের ৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-প্রয়াত অক্ষয় কুমার রায়,মাতা-দিভা রায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে ২০০৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা,সাময়িকীতে ও যৌথ গ্রন্থে কবিতা,গল্প,নাটক প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর অসংখ্য ফাইলবন্দী লেখা থেকে প্রথম গল্পগ্রস্থ ‘শতাব্দীর ক্ষুধা’ একুশে বইমেলা‘১৫ তে প্রকাশ হয়েছে। পরবর্তী বছর একক কাব্যগ্রন্থ 'রংধনু' প্রকাশিত হয়েছ ৷ তিনি অন্তরঙ্গ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ৷ তিনি শিল্প সাহিত্য ও মননের অনলাইন মাসিক'পলিমাটি'র উপদেষ্টা সম্পাদক ৷ এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। বিভিন্ন সংগঠন হতে বহু সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন ।

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা