সংকলনে: চঞ্চল মন্ডল
শ্রী বলাইচাঁদ, লোক মধ্যে তিনি বনফুল নামেই অধিক পরিচিত। তাঁর এক ছোট ভাই ছিল। তাঁর ছোট ভাই বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা করার জন্য শান্তিনিকেতনে গমন করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অন্যদের কাছে বিস্তারিত জানছিলেন। তখনই কেউ একজন তাকে বলে যে, রবীন্দ্রনাথ কানে কম শোনেন। এরপর তিনি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাকে দেখে রবীন্দ্রনাথ মুচকি হেসে বললেন- “কী হে, তুমি কি বলাইয়ের ছোট ভাই কানাই নাকি?” তখন বলাইচাঁদ-এর ভাইয়ের মাথায় চলে আসে যে, রবীন্দ্রনাথ কানে কম শোনেন। তাই তিনি জোরে চেঁচিয়ে বললেন-“ আজ্ঞে না, আমি অরবিন্দ।“ রবীন্দ্রনাথ হেঁসে বলে উঠলেন- “ না কানাই নয়, এ যে দেখছি একেবারে শানাই।
“রবীন্দ্রনাথের লেখা- “আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী, তুমি থাকো সিন্ধুপারে….”গানটি আমরা সবাই শুনেছি। এই গানটির সঙ্গে একটি দারুন মজা লুকিয়ে রয়েছে। ইংল্যান্ডের মরিস সাহেব শান্তিনিকেতনে ইংরেজী এবং ফরাসি পড়াতেন। তিনি প্রায়ই রবীন্দ্রনাথের গান গুন গুন করতেন। একদিন তিনি তাঁর তৎকালীন ছাত্র প্রমথনাথ-কে ডেকে বললেন- “আমাদের গুরুদেব চিনির( তিনি খবার চিনির কথা ভেবেছিলেন) উপর একটি দারুন গান লিখিয়াছেন, গানটি দারুন মিষ্টি” এরপর তিনি গানটি গাওয়া শুরু করে দিলেন-“আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী, তুমি থাকো সিন্ধুপারে” এই কথাটি শুনে প্রমথনাথ মনে মনে হেঁসে বললেন- “চিনির গান তো মিষ্টি হবেই, কিন্তু এরকম ব্যাখ্যা আপনাকে কে দিয়েছে?” মরিস সাহেব বলে উঠলেন_ “স্বয়ং গুরুদেব আমাকে এই গানের ব্যাখ্যা দিয়াছেন”



