শুদ্ধ বলি শুদ্ধ লিখি
আমরা অনেকেই ‘পরা’ আর ‘পড়া’ ক্রিয়াপদ দুটোকে গুলিয়ে ফেলি। কিন্তু ‘পরা’ আর ‘পড়া’ এক নয়। কেবল কোনো কিছু পরিধান করা অর্থে ‘পরা’ এবং বাকি সব ক্ষেত্রে ‘পড়া’। একটু উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলি
পরা
১. আমি পাঞ্জাবি ‘পরি’। ২. বাবা চশমা ‘পরেন’। ৩. মা শাড়ি ‘পরেছেন’। ৪. নানি চাদর ‘পরতেন’। ৫. সেদিন নীল পাঞ্জাবি ‘পরেছিলাম’, আজ লাল পাঞ্জাবি ‘পরব’। ৬. মেয়েটি টিপ ‘পরতে’ পছন্দ করে। ৭. কোনোমতে খেয়ে-‘পরে’ বেঁচে আছি। ৮. আমি কারওটা খাইও না, ‘পরি’ও না। ৯. সেদিনের ওই শাড়ি-‘পরা’ বালিকাটিকে আর কোথাও দেখিনি। ১০. আমি চাই বন্ধুটি আজ নীল শাড়ি ‘পরুক’। ১১. সে খাওয়া-‘পরা’র চিন্তায় অস্থির।
উল্লিখিত প্রতিটি বাক্যেই ‘পরা’ কিন্তু কোনো কিছু পরিধান করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
পড়া
১. বই ‘পড়ছি’। ২. বৃষ্টি ‘পড়ছে’। ৩. গাছ থেকে আম ‘পড়ল’। ৪. লোকটা রিকশা থেকে ‘পড়ে’ গেল। ৫. বাজারে আলুর দাম ‘পড়ে’ গেছে। ৬. বেজায় গরম ‘পড়েছে’। ৭. ভারি বিপদে ‘পড়েছি’। ৮. দাদিজান নামাজ ‘পড়ছেন’।
এবার ‘পরা’ আর ‘পড়া’ একই বাক্যে রেখে কিছু উদাহরণ দিই: ১. শাড়ি ‘পরে’ সিঁড়ি বাইতে গিয়ে মেয়েটি ‘পড়ে’ গেল। ২. স্কুল ড্রেস ‘পরে’ সে ‘পড়তে’ গেল। ৩. সংবাদ ‘পড়া’ শেষ করে সংবাদপাঠিকা সাধারণ পোশাক ‘পরলেন’। ৪. ‘পড়া’টা শেষ করো, তারপর তোমাকে পাঞ্জাবি ‘পরিয়ে’ দেব। ৫. নামাজ ‘পড়বে’ বলে সে টুপি ‘পরেছে’। ৬. চশমা না ‘পরলে’ তিনি ‘পড়তে’ পারেন না। ৭. কাজল ‘পরতে’ গিয়ে মেয়েটির চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে ‘পড়ল’। ৮. মেয়েটি কখনো রাবীন্দ্রিক পোশাকও ‘পরেনি’, রবীন্দ্রনাথের কোনো লেখাও ‘পড়েনি’। ৯. জুতো ‘পরার’ সময়ে মেঝেতে ধুলা ঝরে ‘পড়ল’। ১০. আগামীকাল পরীক্ষা; এটা তোমার মেকআপ ‘পরাপরির’ সময় না, বই ‘পড়াপড়ির’ সময়।
এই হচ্ছে ‘পরা’ আর ‘পড়া’র পার্থক্য। ‘বৃষ্টিতে ভেজার পরে ওর জ্বর এসেছে’ এই ‘পরে’ বানানে কিন্তু ‘র’। এই ‘পরে’ অবশ্য ক্রিয়াপদ নয়। আজ এ পর্যন্তই। তোমরা যারা চশমা ‘পরো’, তারা এবার চশমা ‘পরে’ ক্লাসের ‘পড়া’ ভালো করে ‘পড়ো’। আর যারা চশমা ‘পরো’ না, তারাও ‘পড়তে’ বসো। ঠিক আছে?


