সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই জন্মভূমি বাংলাদেশ। নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত এ বাংলায় বারমাসে ছয়বার বিচিত্ররূপের পসরা নিয়ে চক্রাকারে ছয়টি ঋতু আবর্তিত হয়। ঋতুতে ঋতুতে এখানে চলে সাজ বদলের পালা। নতুন-নতুন রঙ- রেখায় প্রকৃতি আল্পনা আঁকে মাটির বুকে, আকাশের গায়ে, মানুষের মনে। তাই ঋতু বদলের সাথে সাথে এখানে জীবনেরও রঙ বদল হয়।
দিগ্বিজয়ী যোদ্ধার বেশে বর্ষার আবির্ভাব। মেঘের গুরুগম্ভীর গর্জনে প্রকৃতি থেমে থেমে শিহরিত হয়। শুরু হয় মুষুল ধারায় বৃষ্টি। মাঠ-ঘাট জলে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রকৃতিতে দেখা দেয় মনোরম সজীবতা। জন জীবনে ফিরে আসে প্রশান্তি। বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকেরা মাঠে ফসল তোলার কাজে ব্যস্ত থাকে। নদীতে নানা রঙ্গের পাল তোলা নৌকা চলে। নদী পথে মাঝি-মাল্লার কণ্ঠে জেগে ওঠে মন মাতানো ভাটিয়ালি গান। কলাগাছের ভেলায় শিশুরা আনন্দে মেতে ওঠে। নানা রকম ফুল ও ফলে সমৃদ্ধ হয় বাংলা।
মানব মনে বর্ষার প্রভাব অপরিসীম। বর্ষা মানব মনকে সহজ, সরল ও সৃষ্টিশীল করে তোলে। বর্ষাই বাংলা কাব্য-সাহিত্যকে রসসমৃদ্ধ করেছে। এ দেশের লেখক-কবিগণ বর্ষার রূপ-মাধুর্যে বিমোহিত হয়ে লিখেছেন শত শত গল্প কবিতা।
অতিরিক্ত বর্ষণে বন্যার সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বন্যার ভয়াবহতা আমরা দেখেছি ৷ স্মরণকালের এই ভয়াল বন্যায় জান মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে ৷ খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে প্রচুর সমস্যার সৃষ্টি হয়। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা চরমে ওঠে। তবে আশার কথা নতুন জেনারেশনসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই দুর্যোগ মোকাবিলা করে যাচ্ছি ৷
বর্ষা না হলে আমাদের দেশ মরুভূমিতে পরিণত হতো। বর্ষার জন্যই এ দেশ রূপ-রসে পরিপূর্ণ। তাই বর্ষাকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে প্রকাশিত হলো পলিমাটি সাহিত্য পরিষদের নিয়মিত প্রকাশনা মাসিক ‘পলিমাটি। আমাদের এই প্রকাশনায় যে কোন ভুল ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। যারা অত্যন্ত মূল্যবান লেখা ও পরামর্শ দিয়ে আমাদেরকে সাহায্য করেছেন তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
সম্পাদক ৷


