ষড়ঋতুর চতুর্থ ঋতু হেমন্তের পরই আগমন ঘটে শীতের। শীতের সকালের রয়েছে অনন্য সৌন্দর্য ও মাধুর্য। শীতের সকাল মানেই এক অন্যরকম অনুভূতি। ভোরে ঘন কুয়াশার আবরণ আর হাড় কাঁপানো কনকনে শীতের অনুভূতি। শীত আসলেই ঝরে যায় বৃক্ষের পত্রপল্লব। প্রকৃতিতে নামে শুষ্কতা, রিক্ততা।এজন্যই কবি আহসান হাবীব শীতকে বলেছেন, বৈরাগ্যের ঋতু। শীতে জবুথুবু হলেও মূলত মানবজীবনে শুরু হয় শীতের সাথে লড়াইয়ের নতুন এক প্রতিযোগীতা। শীতকে উপেক্ষা করে লোকজন বেরিয়ে পড়ে তার আপন কাজে। শীতকে মানিয়ে নিতে মানুষ খুঁজে নেয় গরম অনুভূতির নানা উপায়। গায়ে জড়িয়ে নেয় নানা রকম শীতবস্ত্র। শীতের দিনে গ্রামে গ্রামে হয় নানা মেলা। জনজীবনে উৎসবের আমেজ শুরু হয়। ঘরে ঘরে পিঠা, পায়েস তৈরির ধুম পড়ে। শীতে পাওয়া যায় খেজুরের রস। আর মাঘ মাস নিয়ে শীতকাল হলেও শীত অগ্রাহায়ণ মাস থেকেই পড়তে শুরু করে। ইংরেজি নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে তীব্র হাঁডকাপানো শীত পড়ে আমাদের দেশে। মাঘ মাসের শীতের তীব্রতা বোঝাতে আমাদের দেশে একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে”মাঘের শীতে, বাঘও কাঁপে”। তবে শীতের আশীর্বাদ হচ্ছে প্রকৃতিতে নানারকম ফসলের আগমন। শীতকালীন সবজি সবচেয়ে মজাদার। শীতের শুরুতে বাংলাদেশের খাল বিল, হাওরে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা আসতে শুরু করে। ঝিলের পানিতে তাদের কলকাকলিতে প্রকৃতিতে এক অপরুপ দৃশ্যের দেখা মেলে। তবে শীত মানে যে শুধু আনন্দ আর সৌন্দর্য্যের উপভোগ তা নয়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনে শীত আসে অভিশাপ হয়ে। উপযুক্ত শীত বস্ত্রের অভাবে তারা মানবেতর জীবনযাপন করে। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেশু তাদের সাহায্য করবো ৷


