এক সময় সাহিত্য নিয়ে মানুষের বিপুল আগ্রহ ছিল। সময় পরিক্রমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে মানুষ নিয়তই বিচ্ছিন্ন হতে থাকে এই সৃজনশীল ধারা থেকে। বর্তমান সময়ে যা প্রতীয়মান হচ্ছে আরও দৃঢ়ভাবে। এখন সাহিত্য পত্রিকার পাঠক মূলত লেখকরাই। আবার কিছু লেখক তো শুধুমাত্র নিজের লেখাটাই দেখে থাকেন, অন্যেরটা পড়ে দেখেন না ৷ মূল ধারার পাঠক কমতে কমতে শূন্যের গোড়ায় গিয়ে ঠেকেছে। এর পেছনের সবচেয়ে বড় কারণ যান্ত্রিক জীবনের আবহ, মানুষ যন্ত্রের মতো খাটতে গিয়ে অবসরের খুব একটা সময় পাচ্ছে না। অবসর পেলেও পত্রিকার সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ থাকছে খুব কমসংখ্যক মানুষের।
বর্তমান আমাদের দেশের যে দুরূহ অবস্থা তা চোখে পড়ার মতো। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে টিকে থাকার জন্য মানুষকে অতিরিক্ত সময় ধরে কাজে নিমগ্ন থাকতে হচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করাই কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে, সেখানে কি করে সাহিত্যের জন্য আলাদা সময় বের করবে? সাহিত্যপাঠ করে নিজেকে আনন্দ দেয়ার জন্য, নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য, সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগ্রত করার জন্য।
পলিমাটি’র উদ্দেশ্য ছিল পাঠক সমাজের হাতে সুন্দর, রুচিশীল ও মান সম্মত লেখা তুলে দেওয়া, সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগ্রত করার চেষ্টা করা ৷ পলিমাটি সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে ৷ পলিমাটি’ সব সময়ই নতুনদের নিয়ে পথ চলে থাকে। তাই নতুনদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বেশি ৷
সৌন্দর্য বৃদ্ধির প্রয়াসে সকলের লেখা, মতামত ও পরামর্শ কামনা করছি। পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সকলকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
সকলের ভালোবাসায় এগিয়ে যাক ‘পলিমাটি’ এই প্রত্যাশা করি ৷
পংকজ পাল
সম্পাদক
www.palimati.com


