রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

অজয় রায়ের গল্প ‘উল্টোরথ’

বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে বসে ভাবছে সীমন্ত ৷ একটু ফুরসুৎ পেলেই মস্তিষ্কে ভাবনার ঝড় ৷ তার সবকিছু ওলট পালট করে দেয় ৷ যন্রণাদগ্ধ জীবন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা এর অবসান কোথায় ? উদ্দেশ্য বিধেয় কিছুই নেই, শুধু অথৈ সাগরে সাঁঁতার কাটার মহড়া ৷

সামনে বাগানে কত হরেক রকমের ফুল ফুটে আছে ৷ মৃদু মন্দ হাওয়া ৷ নটিনীর মত নৃত্যকলায় সীমন্তের দৃষ্টি আকর্ষন করতে ওদের কি আকুলতা ! একদিন ছিল যখন সীমন্ত ওদের সৌন্দর্য দৃষ্টি দিয়ে অন্তরে শুষে নিত ৷ কিন্তু আজ তার উন্মাসিকতা ওদের হয়তো যন্রনা দেয় ৷

হঠাৎ নজর কাড়ে ফটকের পাশে প্রতিবেশী সেই মা কুকুরটি ৷ তার গর্ভজাত তিনটি ছানার সাথে স্নেহ আবেগ উল্লাসের অন্তরঙ্গ দৃশ্য ৷ খাদ্য সংগ্রহের জন্য হয়তো বাইরে গিয়েছিল ৷ শীর্ণ দেহ ৷ কি অভিনব কৌশল ! ওগরিয়ে দিল কিছু খাদ্যদ্রব্য ৷ জঠরে নয় খাদ্য নালীর ঝুলিতে বয়ে এনেছে ক্ষুর্ধাত ছানাদের জন্য ৷ মহানন্দে ওরা ক্ষুধা নিবৃত্তিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো ৷ মায়ের তৃপ্তি আর প্রশান্তির চাহনি দেখে সীমন্তের বুকটা তোলপাড় করে উঠলো ৷ নিজের জঠর শূন্য করে সন্তানের জন্য এই ত্যাগ হ্নদয় দিয়ে অনুধাবন করলো সীমন্ত ৷
এই কি মাতৃস্নেহ ? রক্তের সম্পর্ক ?
সহজ উত্তরটি খুঁজতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে উঠলো সে ৷ একটা দীর্ঘশ্বাস, কিছুটা স্বস্তি ৷

পাশেই টিভির খালি বাক্সটা সযতনে রক্ষিত, ভিতরে অন্তরের শিশুবেলার মলিন তোষকখানি,ওপরে মোটা পলিথিন টাঙানো ৷ ওদের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা ৷ তাহলে অন্তরই করে দিয়েছে ৷ অন্তর কি তাহলে মা-সন্তানের পবিত্র সম্পর্কের দৃশ্য দিয়ে হ্নদয়াঙ্গম করে ৷

মাথাটা ঝিমঝিম করে ওঠে সীমন্তের ৷ কয়েক সেকেন্ড চোখ মুদে বসে রইলো সে ৷ কুকুরটা বাক্সে ঢুকে দেহ এলিয়ে দিল ৷ বাচ্চাগুলি হুড়মুড় করে মায়ের শুকনো স্তনে মুখ লাগিয়ে লোহন করছে ৷ কুকুরটি চোখ পিটপিট করছে, আর মুখ দিয়ে ওদের ওদের আদর করছে ৷

সীমন্তের ভালো লাগছে না ৷ উঠে পড়লো সে ৷ দ্রুত ঘরে ঢুকে চমকে উঠলো ৷ তার ভাবনা তা’হলে সত্যি ৷ জানালায় দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে আছে অন্তর ৷ সে যেন কোথায় কোন নিবিড় জগতে হারিয়ে গেছে ৷
ধীরে ধীরে এগিয়ে অন্তরকে জড়িয়ে ধরলো সীমন্ত ৷ অন্তর চমকে উঠলো ৷ থতমত খেয়ে বলল : বাবা দেখ ঐ যে…,
অন্তরের কথাগুলি যেন বুলেট ৷ সীমন্তের পাঁজর ঝাজরা করে বেরিয়ে গেল ৷ ওকে বুকে চেপে ধরে দু’ফোটা চোখের জল ফেলতে চেষ্টা করলো ৷ কিন্তু চোখে জল নেই শুষ্ক মরুভূমি ৷

গাড়ী এগিয়ে চলেছে ৷ ইদানিং ফেসবুক ঘাটাঘাটি রীতিমতো অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমন্তের ৷ বিভিন্ন আইডি থেকে নানাজনের প্রকাশিত মনের ভাবের মাঝে পরিচিত হতে ভালো লাগে ৷ অদ্ভূত এক নেশা কিছু একটার মাঝে ডুবে থেকে নিজেকে আড়াল করার উদ্ভাবিত কৌশল ৷

হঠাৎ চমকে উঠলো সীমন্ত ৷ সেট বন্ধ করে চোখ মুদলো ৷ কে যেন গতি ঘুরিয়ে দিয়েছে গাড়ী উল্টো দিকে ছুটছে ৷

পাঁচ বছর পার হয়ে গেল ৷ সেদিন বিনা মেঘে অশনি সম্পাৎ ৷ সীমন্তের জীবনে প্রচন্ড ভূমিকম্প ৷ রিখটার স্কেলে যা মাপা যায় না ৷ তার আলো ঝলমলে সাম্রাজ্য মুহূর্তে ভূগর্ভে বিলীন হয়ে গেল ৷ অন্তরের বয়স তখন সবে দু’বছর ৷ অঞ্জনা বড় মিষ্টি মেয়ে ৷ প্রশান্ত তটিনীর বুকে প্রবাহিত প্রেমের ফুল্গুধারা ৷ স্বচ্ছ নীল জলে অবগাহনের প্রমত্ত ইচ্ছা অবদমন সীমন্তের পক্ষে সম্ভব ছিল না ৷ সিক্ত সর্বাঙ্গ ৷ বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে দেখেছিল সে আকাশে পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ ৷ কি অপরূপ সুন্দর !ঢলঢল, আখি যুগল ৷ মনোমুগ্ধকর দ্যূতি বিচ্ছুরিত ৷ দিশেহারা সীমন্ত ৷

ড্রাইভার কষে ব্রেক করলো ৷ কড় কড় শব্দে গাড়ী থেমে গেল ৷ সামনে কিসের একটা জটলা ৷ হয়তো কোন দুর্ঘটনা ৷ কিন্তু রাস্তার লোকগুলির দৌড়ে পালাচ্ছে কেন ? মুহূর্তে দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেল ৷ উৎসাহী দৃষ্টি দিয়ে কেউ কেউ ফাঁকফোকর গলিয়ে আড়াল থেকে উঁকি ঝুকি দিচ্ছে ৷ জানালার কাঁচ নামাতেই সীমন্তের চোখ ছানাবড়া ৷ একটি ছেলে দৌড়ে এদিকেই আসছে ৷ রক্তাক্ত দেহ ৷ পিছে কয়েকজন অস্ত্রধারী ওকে তাড়া করছে ৷

লক খুলে রাস্তায় দাঁড়াল সীমন্ত ৷ ওর নিরাপত্তা বিধানে উদ্যত হলো ৷ একটু থেমে প্রাণ ভয়ে আবার দৌড়াতে লাগলো ছেলেটি ৷ অস্ত্রধারীদের নিরস্ত্র করতে চেষ্টা করল সে ৷ কিছু নীতিবাক্য শোনাতে গেল ৷ ততক্ষণ ওরা তার গাড়ীর কাঁচ দমাদম ভেঙ্গে চূড়মার করে দিয়ে ছেলেটির পিছু নিল ৷ রাস্তার পালায়নপর লোকগুলি ছুটে এসে তাকে ঘিরে গাড়ীটির জন্য আহা-উহু করতে লাগলো ৷ জীবন-মরনের সন্ধিক্ষণে পতিত ছেলেটির জন্য কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই ৷ ফাঁকা মাঠে যে যার মত বীরত্ব গাঁথা বর্ণনা করে চললো ৷ সীমন্ত কষে একটা ধমক দিয়ে লোকগুলোকে হতবাক করে দিল ৷ চোখের সামনে ভেসে উঠলো আদিম বর্বরতার দৃশ্যপট ৷ গভীর দীর্ঘশ্বাসের সাথে নিজেকে নির্ভার করার চেষ্টা করলো সে ৷ ঘটনার উৎস জেনে ঘৃণায় তার মন রি-রি করে উঠলো ৷

ছিঃ একটি দুর্বল মেয়ের সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে ছেলেটির ঐ দুর্দশা, শুধু দুর্দশাই কেন- হয়তো আগামীকাল পত্রিকায় ছাপা হবে জনরোষে ছিনতাইকারী নিহত ৷

অবিন্যস্ত চিন্তাস্রোতে সীমন্তের সম্বিত মূর্চ্ছিত ৷ সভ্যতার প্রেতাত্মা দগদগে মাড়িতে সংযুক্ত কালো কংক্রিটের দাঁত খিচিয়ে খিস্তি কাটতে কাটতে সীমন্তের দিকে এগিয়ে আসছে ৷ চোখ বন্ধ করে ভাবলো সে পৃথিবী কি উল্টোরথে আসীন ! এই কি সভ্যতার জয়যাত্রা ?

অঞ্জনা ভালোই করেছে এক নয়া দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করে দিয়ে গেছে ৷ কিন্তু যত কষ্ট ঐ অন্তরকে নিয়ে ৷ আবার একটা দীর্ঘশ্বাস ৷ সীমন্তের জীবনে দীর্ঘশ্বাস আর কোনদিন হ্রাস হবে না ৷

ড্রাইভার গাড়ী থামিয়ে ডালা খুলে দিল ৷ কড় কড়াৎ শব্দে আচ্ছন্ন মুক্ত সীমন্ত বাইরে তাকালো—এসে গেছে ৷ নামতে নামতে দেখলো কুকুরের ছানাগুলি গাদাগাদি করে মায়ের বুকে শুয়ে ঘুমাচ্ছে ৷

প্রতিদিনের মত বাইরে থেকে এসে সোজা পশুশালায় ঢুকলো সীমন্ত ৷ অসভ্য প্রাণীগুলি হর্ষোৎফুল্ল চিত্তে গতানুগতিক ধারায় সীমন্তকে অভ্যর্থনা জানালো ৷ কুশল বিনিময় শেষে সে ঘরে ঘরে ঘুরে দেখলো সব ঠিকঠাক ৷ তার অনুপস্থিতিতে অন্তরই ওদের দেখভাল করে ৷

সংঘটিত মিল গড়মিল খুঁজতে খুঁজতে নিজেকে হারিয়ে ফেলে প্রতিদিনের অগনিত ঘটনাপঞ্জীর সাথে ৷ হোক পশু পাখি ৷ যে যাই বলুক ওদের পরিচয় অসভ্য প্রাণী ৷ কিন্তু রাত জেগে বসে আছে প্রিয় মানুষটির জন্যে ৷ কখন ফিরবে ? অন্তরে অস্থিরতা-শঙ্কা ৷ ওদের ভাষা বুঝতে পারে সীমন্ত,আর তাইতো ভাবে কিসের বন্ধন ? যেন আত্মার আত্মীয় ৷

আবার ও বুকফাটা লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ৷ পায়ে পায়ে ঘরে ফিরে এলো সে ৷ মা ঘুমোচ্ছে ৷ অন্তর দিদি ভাইয়ের গলা জড়িয়ে ধরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ৷ অঞ্জনার ছবিটা এখনও দেয়ালে সাঁটা ৷ জীবন্ত অঞ্জনা ৷ হাসিমাখা মুখখানা ৷ একটুও মলিন হয়নি ৷ ঠিক যেন সদ্য প্রস্ফুটিত একটি চন্দ্রমল্লিকা, যে বাসি হয়ে যায় কিন্তু ঝরে পড়ে না ৷

টেবিলে ঢাকা দেয়া আছে রাতের খাবার ৷ খেতে ইচ্ছে করছে না ৷ শরীর ভালো নেই ৷

ঘুম আসছে না ৷ নিঃসঙ্গ সময় বড় নিষ্ঠুর ৷ কিছু একটা অবলম্বন চায় ৷ সেটটি তুলে টাচ করতে গিয়ে হাতটা কেঁপে উঠলো ৷ হাত ফসকে বুকের উপর পড়ে গেল ওটি ৷ অঞ্জনা মাঝে মাঝেই তাকে নির্দয় আঘাতে জর্জরিত করে ৷ হৃদয় উজার করে ভালবাসার এই কি প্রতিদান !

এক অদম্য উৎসাহে উদ্ধুদ্ধ হয়ে আবার সেটটি হাতে তুলে নিল সীমন্ত ৷ মেসেঞ্জার অ্যাপ ওপেন করে এক অখন্ড জিজ্ঞাসার মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খেতে লাগল সে ৷ এ কেমন আনন্দ ! কিসের প্রতিশোধ ? তার সাথে কোনদিন কোন প্রশ্নে মতানৈক্য হয়েছে বলে মনে পড়ে না সীমন্তর ৷ বেড়াতে গিয়ে সে ফিরল না ৷ কোনোদিনও ফিরবে না বলে জানিয়ে দিল ৷ বিশ্বাস করতে পারেনি সে ৷ অঞ্জনা নিশ্চয়ই তার সাথে বিচ্ছেদের অভিনয় করছে ৷ অভিনয় যখন সত্য হলো ৷ তখন অন্তরকে সে অফার করেছিল ৷ নিজের কষ্ট যন্ত্রনাকে প্রতিফল হিসেবে মেনে নিয়েও চেয়েছিল অন্তর মায়ের অন্তরেই প্রস্ফুটিত হোক ৷

কিন্তু অঞ্জনা প্রস্তাব প্রত্যাখান করলো ৷ কিন্তু কেন?
জবাব অঞ্জনার কাছেই ৷

পোস্ট করা ছবিগুলি চোখের সামনে অস্পষ্ট ৷ এমন জ্বলন্ত প্রমাণ কি করে অস্বীকার করবে সীমন্ত ৷ অঞ্জনার তৃতীয় বিবাহ বার্ষিকী ৷ বরকে নিয়ে সমুদ্র সৈকতে স্বামী সোহাগিনী লাস্যময়ী অঞ্জনা কেলী করছে ৷ পিছনের দৃশ্যপটে চোখ দুটি আটকে গেল ৷ এ যেন চেনা সময়ের পুনরাবৃত্তি ৷

মুহূর্তের জন্য সীমন্ত হারিয়ে গেল ৷

বদ্ধ বুকের আবদ্ধ বাতাস ফস ফস করে বেরিয়ে এলো ৷
অঞ্জনা কি পায়নি ? কিসের অভাব ছিল তার ?হিসাব মিলছে না ৷ কিছুতেই না—

হঠাৎ গেটের দিকে কুকুরটা আর্তনাদ করে উঠলো ৷ চমকে ওঠে সীমন্ত ৷ নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে ভাবলো— হয়তো ছানাগুলির নিরাপত্তা নিয়ে কোন সংকেত পেয়েছে ৷ কত মমত্ববোধ ৷ সারারাত জেগে জেগে ওদের নিরাপত্তা বিধানে ব্যস্ত রয়েছে ৷ এটাই তো স্বাভাবিক ৷

গলা কাঠ হয়ে গেছে ৷ পুরো এক বোতল জল ঢকঢক করে গিলে বিছানায় উঠে বসলো সীমন্ত ৷

ঘড়ির কাটা টিক টিক করে এগিয়ে যাচ্ছে ৷ আবিষ্টের মত তাকিয়ে আছে ৷ সময়কে দেখা যায় না, ছোয়া যায় না,আটকানো যায় না ৷ শুধু ঘড়ির সংখ্যাগুলির উপর পদাঘাত করে এগিয়ে যায় নীরবে নিভৃতে ৷ প্রতীকী যন্ত্র দিয়ে তার প্রবাহ শুধু অনুমান করা যায় ৷

বন্ধ ঘরে অন্ধকার এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৷ বাইরের কোলাহল শুনে মনে হচ্ছে সকাল হয়েছে ৷ পশুশালায় পশুপাখীদের গুঞ্জন আলোর আগমনী গাইছে ৷

বাইরে করিডরে চেয়ারে বসলো সীমন্ত ৷ সকাল হয়েছে অনেকক্ষণ ৷ গ্রীলের ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে আছে সে ৷ কোলাহল মুখর পৃথিবী ৷ স্বাস্থ্যসচেতন প্রাতঃভ্রমণকারীর দল ফিরতি পথে ৷ সকালের নির্মল বায়ু তত্ত্বটির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি উচিয়ে কর্পোরেশনের আবর্জনা বোঝাই গাড়িগুলি ছুটে যাচ্ছে গন্তব্যে ৷ সূর্যের আলোতে আলোকিত পৃথিবী ৷কোটি কোটি নিষ্প্রাণ যান্ত্রিক রোবট যেন ছুটে চলেছে গড্ডালিকা প্রবাহে ৷ এর নাম জীবন ৷ সীমন্তের ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ৷

অন্তরের ডাকে চমকে ওঠে সীমন্ত ৷ নিজেকে স্বাভাবিক করে ওকে কাছে টেনে নেয় ৷ অন্তর বাবার বুকে মুখ গুজে নির্বাক হয়ে বসে রইলো ৷

সীমন্ত প্রমাদ গুনলো ৷ অন্তরের এ ভাবান্তর তার ভালো লাগছে না ৷ অজানা আতঙ্কে বুকটা কেঁপে উঠছে ৷ উঠে দাঁড়িয়ে ওর হাত ধরে পশুশালায় যেতে উদ্যত হলো সে ৷ উদ্দেশ্য প্রসঙ্গান্তরে চলে যাওয়া ৷ মাথা হেট করে একটু দূরে দাঁড়িয়ে রইলো অন্তর ৷ গোমরা মুখ ৷ পরিনত বুদ্ধিমত্তার একজন যুবকের মত যে উক্তিটি ছাড়লো সে—এর জন্য সেজন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলনা সীমন্ত ৷

: বাবা, আমি ভুল করেছিলাম ৷ আমার কথা তুলে নিচ্ছি ৷ দিদি ভাইয়ের বয়স হয়েছে, তাছাড়া শরীরটাও ভাল যাচ্ছে না ৷ এবার আমাকে একটা মা এনে দাও বাবা প্লিজ…৷

গলা ধরে এল অন্তরের ৷ সীমন্তকে জাপটে ধরে আবার বলল : কথা দাও ৷

মাথায় বাজ ভেঙে পড়লো ৷ অন্তরকে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরল সীমান্ত ৷

অন্তরের মুখটা উল্টো দিকে থাকলেও সীমন্ত বুঝতে পারছে সে কাঁদছে ৷ চাপা কান্না ৷ অবাস্তব প্রতীক্ষার পালা শেষ করে আজ বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সে ৷

চোখ দুটি জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে ৷ দু’ফোটা জল যদি গড়াতো ?

লেখক পরিচিতি

অজয় কুমার রায়
অজয় কুমার রায়
কবি গল্পকার ও প্রাবন্ধিক অজয় কুমার রায় মানিকগঞ্জ জেলায় ঘিওর উপজেলার নারচি গ্রামে ১৯৪৮ সালের ৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-প্রয়াত অক্ষয় কুমার রায়,মাতা-দিভা রায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে ২০০৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা,সাময়িকীতে ও যৌথ গ্রন্থে কবিতা,গল্প,নাটক প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর অসংখ্য ফাইলবন্দী লেখা থেকে প্রথম গল্পগ্রস্থ ‘শতাব্দীর ক্ষুধা’ একুশে বইমেলা‘১৫ তে প্রকাশ হয়েছে। পরবর্তী বছর একক কাব্যগ্রন্থ 'রংধনু' প্রকাশিত হয়েছ ৷ তিনি অন্তরঙ্গ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ৷ তিনি শিল্প সাহিত্য ও মননের অনলাইন মাসিক'পলিমাটি'র উপদেষ্টা সম্পাদক ৷ এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। বিভিন্ন সংগঠন হতে বহু সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন ।

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা