প্রায় দুই শত পঞ্চাশ বছর পূর্বের কথা, তৎকালীন সময়ে মানিকগঞ্জ সদরের ‘পটল’ গ্রামে হেম সেন নামে একজন অত্যাচরী জমিদার ছিলেন। কথিত আছে এই এলাকার কেউ জুতা পায়ে, ছাতা মাথায় দিয়ে হাটতে পারতো না তার পরগনায়। অত্যাচরী জমিদার হলেও পিতৃভক্তির উজ্জল দৃষ্টান্ত স্বরূপ আজ থেকে প্রায় দুইশত পনের বছর পূর্বে জমিদার হেমসেন তার পিতার শেষ কৃত্ত স্থলে এই মঠটি নির্মাণ করেন।
জানা যায়, মঠটি নির্মাণ করতে সূদূর ইরাক থেকে কারিগর (মিস্ত্রি) এনে নীটল দীঘির পাশে প্রায় দুইশত ফুট উঁচু আর পনের শতাংশ জমির উপর অপরূপ মঠটি নির্মাণ করা হয়।
সুনিপুন কারুকার্য আর সুউচ্চ মঠ তৎকালীণ অবিভক্ত পূর্ব বাংলার বিশাল স্থাপনা নিদর্শন হিসেবে দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়।
জমিদার হেমসেন এর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী হিসেবে তার ছেলে (নাম জানা যায়নি) থাকলেও উদাসীনতা এবং পরবর্তীতে মানসিক ভারসাম্যতা নষ্ট হওয়ার কারণে তখন থেকেই এই ঐতিহ্যটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ভাটা পড়ে।
বাংলা ১৩২৬ সালে আশ্বিন মাসের কোনো এক ঝড়ের বিকেলে মঠটির উপরের ০৫টি কলসিসহ উপরের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে নীটল দীঘির মধ্যে পড়ে যায়। লোকমুখে শোনা যায়, ভেঙে পড়া ০৫ টি কলসির মধ্যে ০৩টি কলসি সোনার তৈরি ছিল। যা হেমসেন তার বাবার শেষকৃত্ত অনুষ্ঠানের স্থলে রেখেছিল। পরবর্তীতে মঠ নির্মাণ কালে মঠের উপরে এই তিনটি কলসসহ মোট পাঁচটি কলস স্থান পায়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের আগমন লক্ষ করা যায়। ১৯৬৫-৬৬ সালের দিকে আমেরিকার একদল পর্যটক এই মঠ (প্রথম হেলিকপ্টার অবতরণ) দেখতে এসেঃ মেরামতের আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু এলাকার খ্যাতনামা হিন্দু পরিবার শিশির কুমার দাস গুপ্ত, প্রমোদ চন্দ্র দাস গুপ্ত, প্রভূত ব্যক্তিদের ধর্মীয় গোড়ামীর কারণে তা সম্ভব হয়নি।
আরও জানা যায়, ১৯৭২ সালের দিকেও চীনের একদল পর্যটক মঠটি দেখতে এসে এর নির্মাণ শৈলী নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য মঠটির ৩০০ গজের মধ্যেই প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ নোবেল জয়ী ড. অর্মত্যসেনের বাড়ি। অর্মত্য সেনের এই বাড়িটি হাসপাতাল করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এলাকার বর্তমান প্রজন্মের দাবী এই মঠটিকে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সংরক্ষণ করে এর ঐতিহ্য ধরে রাখার। এই অতীত ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারলে নতুন প্রজন্ম ফিরে পাবে অতীত ইতিহাস। টিকে থাকবে জাতি স্বত্তার অপরূপ নিদর্শন।


