নববর্ষ : বাংলাদেশ ও আমরা
বাংলাদেশের নববর্ষ মানে
ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যাওয়া নয়—
এটা একসাথে বাঁচার নতুন যুক্তি খোঁজা।
এখানে সময় এগোয়
রাস্তায়, লাইনে, খবরে,
আর মানুষের দীর্ঘশ্বাসে।
এই দেশে সকাল শুরু হয়
একজন শ্রমিকের ঘামে,
আর শেষ হয়
একজন প্রেমিকের অপেক্ষায়।
রাষ্ট্র বদলায় ধীরে,
কিন্তু প্রেম বদলায় দ্রুত—
এই বৈপরীত্যেই
আমরা এখনো মানুষ।
নববর্ষ আসে এমন এক সময়ে
যখন দ্রব্যমূল্য বাড়ে,
বিশ্বাস কমে,
তবু কেউ কাউকে ভালোবাসা ছাড়ে না।
কারণ ভালোবাসা এখানে
শখ নয়,
এটা টিকে থাকার কৌশল।
এই দেশের রাজনীতি কঠিন,
কিন্তু ভালোবাসা নরম।
রাস্তায় মিছিল হলে
হাত ধরা নিষিদ্ধ হয় না—
বরং আরো দরকার পড়ে।
একজন মানুষ আরেকজনকে বললে,
“আমি আছি”—
তখনই রাষ্ট্র একটু শান্ত হয়।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ গেলে
আকাশ দেখা যায়,
আর স্বপ্ন গেলে
ভালোবাসা দেখা যায়।
নববর্ষ তাই আমাদের শেখায়—
সব আলো বাইরে নয়,
কিছু আলো মানুষই জ্বালে।
প্রেম এখানে রোমান্টিক নয় শুধু,
এটা প্রতিবাদী।
ভয়, অনিশ্চয়তা আর ক্লান্তির ভেতরেও
একজন আরেকজনকে বেছে নেওয়া—
এটাই সবচেয়ে সাহসী রাজনীতি।
নববর্ষ মানে তাই
ভবিষ্যৎকে আদর্শ বানানো নয়,
বরং বর্তমানকে
একটু মানবিক করা।
একটা নিরাপদ ফেরার প্রতিশ্রুতি,
এক কাপ চা,
একটা নিঃশব্দ চুমু—
এইগুলোই নতুন বছরের ইশতেহার।
বাংলাদেশ সম্পূর্ণ না,
আমরাও নিখুঁত না।
তবু যদি আমরা
এই অসম্পূর্ণ দেশটাকে
ভালোবাসতে পারি—
তাহলে নববর্ষ
শুধু তারিখ নয়,
একটা সম্ভাবনা।


