❑ রক্তস্নাত একুশ
ঘুম ভাঙে শব্দের,
নিস্তব্ধতার বুকে এক টুকরো গর্জন—
“রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই!”
ষড়যন্ত্রে ফাটল ধরে,
বুলেটের আঘাতে রক্ত ঝরে,
আর আকাশ জানে,
কোনো সংগ্রাম মৃত্যুহীন হয় না!
তুমি কি শুনেছ?
একুশের পদচিহ্ন এখনো রাস্তায়,
হৃদয়ের ভাঁজে ভাঁজে,
কাগজের পাতায়,
তখনকার সূর্যও কেঁপে উঠেছিল
যখন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার
একেকটি শব্দের মতো
লুটিয়ে পড়ল বাংলা মাটির ওপরে!
তখনো কোলাহল ছিল,
শ্লোগানের ঢেউয়ে নতজানু সময়
জলঘোলা চোখের শিশির-শপথ,
“বাংলা আমাদের অধিকার!”
বুলেট বুঝতে পারেনি কবিতার ভাষা,
সেই গোলার আওয়াজও বোবা হয়ে গিয়েছিল
যখন সেদিন শহীদেরা
রক্ত দিয়ে একেকটি বর্ণ লিখেছিল
এই বাংলার বুকে!
কোথাও কেউ কি শুনতে পাচ্ছে?
ধুলোর নিচে,
সময়-পথের গহীনে
একটি ভাষা শেকল ভেঙে
তখনো হাঁটছিল ভবিষ্যতের দিকে!
আজও সে ভাষা বেঁচে আছে—
উচ্চারণে, কবিতায়, গানে,
প্রতিটি শিশুর প্রথম ডাক-
“মা!”
আর আমরা?
আমরা কি শপথ নিয়েছি?
সেই রক্তের ঋণ কি শোধ হবে
শুধু একদিন ফুল দিয়ে?
নাকি প্রতিটি উচ্চারণে
আমরা শহীদের ভাষা বহন করব?
জেনে রেখো—
একটি ভাষার জন্য দেওয়া রক্ত
কখনো বৃথা যায় না!
একটি সত্য ভাষার মৃত্যু হয় না!
[একুশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন]


