এটি হচ্ছে রাশিয়ায় অবস্থিত সাইবেরিয়ার বরফময় অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা পৃথিবীর সব থেকে রহস্যময় হ্রদ বৈকাল হ্রদ ! শুধু তাই নয়, এটি পৃথিবীর গভীরতম হ্রদও !! প্রায় দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীর হৃদয়ে সৃষ্টি হয়েছিল বিশাল আকৃতির এক ফাটল—সেই ফাটলের মাঝেই জন্ম নেয় বর্তমানের রহস্যময় হ্রদ বৈকাল ৷
এর গভীরতা ১,৬৪২ মিটার এবং এটি প্রতি বছরই গড়ে প্রায় ২০ মিলিমিটার করে গভীরতম হচ্ছে ! প্লেট টেকটনিক মতবাদ অনুযায়ী; এই হ্রদটি দুটি প্লেট এর মাঝে অবস্থিত। যার ফলে প্রতিবছরই ফাটলের প্রসারণের কারণে এটি একটু একটু করে প্রসারিত হচ্ছে !? এ যেন পৃথিবী নিজেই এর বিস্তার ঘটাচ্ছে !
এই হ্রদের জলের স্বচ্ছতা এমন যে, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত বাষ্পীভবনের সময়ও ৪০ মিটার নিচের তলদেশও আশ্চর্য্যজনকভাবে স্পষ্ট দেখা যায়। তবে বছরের প্রায় বেশিরভাগ সময়, বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা এ হ্রদ আরও অদ্ভুত। —এর নিচে টেকটোনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়া প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফাটলের সৃষ্টি করে। ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, একদিন হয়তো বৈকাল হ্রদ পুরো মহাদেশকেই নতুন করে বিভক্ত করে ফেলবে !
রহস্যময় এই বৈকাল হ্রদে রয়েছে এমন সব অদ্ভূত প্রাণী, যার পৃথিবীর আর কোনও অঞ্চলে দেখা মেলে না। সম্পূর্ণ অদ্ভুত একটি প্রাণীজগৎ লুকিয়ে রয়েছে এই রহস্যময় হ্রদে। এর মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় হলো বৈকাল সিল, যা কীভাবে এখানে এলো তা আজও জানা যায়নি।
এই হ্রদের আরেকটি রহস্য হলো প্রত্যেক ঋতুতে এর জলের রং পরিবর্তিত হয় ! ঋতু এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে এটি নীল, সবুজ, পীতাভ, এবং কালো বর্ণ ধারণ করে আবার কখনো কখনো হালকা সোনালী বর্ণও হতে দেখা যায় ! অনেকের ধারণা বৈকালের গভীরে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সৃষ্টিতত্বের বহু অজানা তথ্য ও তত্ত্ব
১৯৯৬ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান বা World Heritage Sites – হিসেবে ঘোষণা করেছে। লেক বৈকাল পৃথিবীর এক অনন্য রহস্য, মায়াবী জগতে লুকিয়ে থাকা এক বাস্তব রূপকথা ৷


