গ্রামের শেষ মাথায় একটি পুরনো বাঁশের ঘর। ঘরের পাশেই বর্ষার শেষ দিকে বোনা আমন-আউশ ধান হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিকে পরিপক্ব হয়ে উঠেছে ৷ সেখানেই থাকতো সীতু, একটি ছোট মেয়ে। তার ঘরের পাশেই সে মনের মতো করে একটি বাগান করেছে ৷ সে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাগানে ছুটে যেত। গন্ধরাজ,মল্লিকা,শিউলি,বকফুলে ভরে গেছে তার বাগান ৷
হেমন্তের রোদ যেন সীতুর মনকে আনন্দে ভরিয়ে দিত। সে ভালোবাসতো সেই সময়টাকে, যখন বাতাসে ফুলের সুভাষ ভেসে আসতো। একদিন সীতু তার দাদুর সঙ্গে বাগানে গিয়েছিল। দাদু বলেছিলেন, “সীতু, হেমন্তের সময়ে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে ওঠে। তুমি দেখো, এই সময়ের রঙগুলো কেমন আলাদা!”
সীতু বাগানের প্রতিটি ফুলের দিকে তাকিয়ে ভাবতে শুরু করল। দাদু বললো, ”তুমি ফুলের ছবিগুলো আঁকতে পারো ৷” সে ঠিক করলো, এই হেমন্তের শেষ দিনগুলোতে সে প্রতিদিন নতুন করে কিছু আঁকবে। সোমা ম্যাডাম তাকে স্কুলে ছবি আঁকা শিখিয়েছিলো ৷ সে চিত্রকলার রঙ নিয়ে বাগানে বসে পড়লো। প্রতিদিন ফুল, পাতা, আকাশ—সবকিছুই তার ক্যানভাসে জীবন্ত হয়ে উঠতে লাগল।
হেমন্তের শেষ দিকে, একদিন সে একটি বিশেষ ছবি এঁকেছিল। ছবিটিতে ছিল তার প্রিয় ফুলগুলোর সঙ্গে একটি বড় আকাশ, আর মাঝখানে তার দাদু ও সে। ছবি দেখে দাদুর চোখ কি কারনে যেন অশ্রুসিক্ত হয়েছিল ৷ সেতু তা বুঝতে পারে নি ৷
কিছুদিন পর সীতুর মন খারাপ হয়েছিল যখন সে বুঝতে পারল, হেমন্ত বিদায় নিতে চলেছে। কিন্তু দাদু তাকে আশ্বস্ত করলেন, “হেমন্ত আসবে আবার, সীতু। প্রকৃতি সবসময়ই ফিরে আসে। তোমার আঁকা ছবিগুলো তোমার হেমন্তের স্মৃতি হয়ে থাকবে।”
হেমন্তের শেষ দিনগুলোতে সীতু তার বাগানের সব ফুল সংগ্রহ করে দাদুকে উপহার দিল। তারা দুজনেই একসঙ্গে বসে সেই সব ফুল নিয়ে নতুন গল্পের শুরু করল। প্রকৃতি ও সম্পর্কের এই মায়ায় সীতু বুঝতে পারল,হেমন্ত শুধু একটি ঋতু নয়, বরং জীবনের একটি অধ্যায়।


