শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

নারীর চোখের জল

“পুষ্পা, আই হেইট টিয়ার্স”– ১৯৭২ সালে “আমার প্রেম” ছবিতে রাজেশ খান্নার দেওয়া এই ডায়লগটা কি জানা আছে আপনার? সেইসময় এই ডায়লগটাই তুমুল ঝড় তুলেছিলো। আবার বাংলা সিনেমায় নায়কের একটা কমন ডায়লগ থাকে, ” আমি সবকিছু সহ্য করতে পারবো কিন্তু তোমার চোখের পানি সহ্য করতে পারবো না।” তাছাড়া লোকমুখেও তো এই কথা প্রচলিত আছে যে, মেয়েদের চোখের পানি দেখলে নাকি ফুটন্ত তেলের মতো মেজাজের পুরুষও বরফে পরিণত হয়। কিন্তু এই প্রচলিত কথাই এখন বৈজ্ঞানিকভাবে সত্যি প্রমানিত হয়েছে। চলুন, এবার জেনে নেই তবে।

সম্প্রতি ‘PLOS বায়োলজি’ নামক জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণা দেখায় যে, ” নারীদের চোখের পানিতে এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত থাকে যা পুরুষের রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণকে বাধা দেয়।” যা ‘ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স’- এর বিজ্ঞানী শনি অ্যাগ্রনের নেতৃত্বে করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, মহিলাদের চোখের জলের ঘ্রাণ নিলে মস্তিস্কের যে অংশ পুরুষের আগ্রাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেই অংশের কার্যকালাপ হ্রাস পায় এবং এর ফলে পুরুষের আক্রমণাত্মক আচরণ কমে যায়। তবে মহিলা ইঁদুরের কান্নার জলের গন্ধ পুরুষ ইঁদুরের আক্রমণাত্মক আচরণ কমিয়ে দেয়- এমনটা বিজ্ঞানীরা আগেই জানতো। মানুষের মধ্যে কান্নার এই একই রকম প্রভাব আছে কিনা তা জানার জন্য গবেষকেরা পুরুষদের একটি দলকে মহিলাদের আবেগপূর্ণ অশ্রুর সংস্পর্শে এনে পরীক্ষা চালিয়েছেন। গবেষকরা ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সী ছয়জন মহিলার কাছ থেকে অশ্রু সংগ্রহ করেছিলেন এবং প্রতিটি পুরুষ অংশগ্রহণকারীকে কমপক্ষে এক মিলিলিটার অশ্রু সরবরাহ করা হয়েছিল। আর পুরুষদেরকে পরীক্ষার জন্য এমনভাবে একটি গেইম ডিজাইন করা হয় যেন দুইজন ব্যক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। সেই সাথে তাদের মস্তিষ্কের পরিবর্তন বোঝার জন্য প্রতিনিয়ত MRI স্ক্যানিং করা হয়।

খেলা শুরুর পর পুরুষদের মধ্যে যখন আক্রমণাত্মক মনোভাব তৈরি হয় তখন তাদের স্যালাইন এবং নারীদের চোখের পানির ঘ্রাণ নিতে বলা হয়। উভয় পদার্থই বর্ণ ও গন্ধহীন হওয়ায় পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকরা বুঝতে পারেনি তাদের কিসের ঘ্রাণ নিতে দেরওয়া হয়েছিল। স্যালাইনের ঘ্রাণে কোনো পরিবর্তন না আসলেও অশ্রুর ঘ্রাণে পুরুষদের প্রতিশোধমূলক এবং আক্রমণাত্মক আচরণ প্রায় ৪৩.৭ শতাংশ কমে যায়। MRI স্ক্যানিং এর মাধ্যমে জানা যায় যে,আক্রমণাত্মক আচরণের সাথে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের দুটি অঞ্চল ‘প্রিফন্ট্রাল কর্টেক্স’ এবং ‘অ্যান্টেরিওর ইনসুলা’, গেম খেলার সময় পুরুষদের মধ্যে সক্রিয় হয়েছিল। কিন্তু অশ্রুর ঘ্রাণ পাওয়ার পর মস্তিষ্কের সে অংশগুলো সক্রিয় থাকে না। মোটকথা, চোখের পানির এই কেরামতি আসলে তার ঘ্রাণে।

তাই, আপনি যদি ছিচকাদুনে স্বভাবের হোন এবং অল্পতেই চোখে পানি চলে আসে তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই- আপনার কান্না আপনার স্বামী বা প্রেমিকের উপর অস্ত্রের মতো কাজ করবে ৷

Science Bee

লেখক পরিচিতি

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা