ঘুম থেকে ওঠার পরই মায়ের ফোনটা নিয়ে বিছানায় উঠে পড়লো টুবলু। আর কদিন বাদেই মহালয়া তারপরই পূজো। স্কুল ছুটি পড়বে কি মজা। কয়েক দিন ধরে দেখছে আগমনী শুট না কি একটা যেন খুব ট্রেন্ড হচ্ছে। লাইক কমেন্টও নাকি আসছে তাতে প্রচুর। এই তো সেদিন ঘন্টুর দিদিকে ঘন্টু ছবি তুলে দিচ্ছিল এই রকম ভাবে। ছাদ থেকে দেখেছে ও।
— অ্যাই তুই ফোনটা রাখবি নাকি আমি যাবো ?
মায়ের গলা পেয়েই বিছানা থেকে এক লাফে নিচে নামলো টুবলু।
— আজ তো সোমবার। পরশু মহালয়া। একটু দেরি করে বসবো, কি রান্না করছো দাও দেখি।
বলতে বলতেই একটা জিনিস লক্ষ্য করে প্রায় হাততালি দিয়ে উঠলো ও।
— অসাধারণ!
— কি হলো আলুরদম দেখে চেঁচাচ্ছিস কেন ?
— আরে আলুরদম না, আলুরদম না তোমার শাড়ি টা দেখে।
— লালপাড় সাদা শাড়ি দেখে এমন ভূত দেখার মতন চেঁচানোর কি আছে ?
— ও তুমি বুঝবে না, তুমি দাঁড়াও আমি এক্ষুনি আসছি।
ততক্ষণে মাথায় অন্য বুদ্ধি খেলে গেছে ওর। মনে পড়লো আগের বছর শান্তিনিকেতন থেকে কিনে আনা দুর্গা ঠাকুরের শোপিস টার কথা। ও দিয়েই হবে আর মা তো লালপাড় সাদা শাড়ি পরেই আছে।
— ওমা তোমার রান্না কতদূর ?
— এই নামাবো এবার তুই কি এক্ষুনি খাবি ? তাহলে দুটো মু…
— আরে ওসব হবে ক্ষণ তুমি এটা নামিয়ে একটু বাগানে এসোনা প্লিজ।
— বাগানে কেনো ? আমার কাজ আছে অনেক, এখন তোর কোন এক্সপেরিমেন্ট দেখতে পারবো না ।
— আরে আসোই না।
— তাড়াতাড়ি দেখা কি দেখবি।
শোপিসটা বের করে মায়ের হাতে দিলো ও।
— এটা নাও, আমি যখন বলবো ঠিক তোমার মুখের সামনে ধরবে বুঝলে যাতে তোমার মুখটা না দেখা যায়।
— কি হবে এসবে ?
—আরে তুমি দাওই না শুধু দু এক মিনিট লাগবে আমি দুটো ছবি তুলবো ব্যাস। একটু দাড়াও প্লিজ… আমার সোনা মা..।
অগ্যতা একমাত্র ছেলের কথায় শোপিস টা নিজের মুখের সামনে নিলেন রিতা দেবী। টুবলু শুয়ে, বসে, হামাগুড়ি দিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় কটা ছবি তুলে নিলো পটাপট। ছবি গুলো একবার দেখে গম্ভীর মুখ করে বললো।
— উমম ভালোই উঠেছে, পুরো মা দুগ্গা। তবে চুলটা একটু খুলে দাও তো আরো সুন্দর আসবে।
ছেলের অদ্ভুত কর্মকাণ্ডে মনে মনে বিরক্ত হচ্ছিলেন রিতা দেবী এবার তিনি আরো চটে গেলেন।
— হতচ্ছাড়া ছেলে। আমাকে কি মডেল পেয়েছিস, যে মুখে এসব দিয়ে ছবির পোজ দেবো সারাদিন!
ছবি গুলো টুবলু এতটাই মন দিয়ে দেখছিল যে মায়ের এই আকস্মিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেনি ও জোরে ছুট লাগালো এবার।
— আশ্বিনের শারদপ্রাতে মার খেতে হবে মায়ের হাতে ?
— তবে রে, হতচ্ছাড়া।
— ওবাবা বাঁচাও। মা দুগ্গা এখন মা কালী হয়ে গেছে।


