আবার এসেছে শরৎ
আবার এসেছে শরৎ, যদিও তুমি আসো নি
তাই নীল রং নিয়ে আর মাতিনি এবার !
তোমাকে শোনাবো বলে, লিখিনি নতুন কোন কবিতা
করিনিতো কাশফুলেদের খোঁজ।
মনে পড়ে যায়, সেই হারানো শরৎ
সেই শিউলি গাছটা আজো আছে আমাদের অপেক্ষায়
মনে পড়ে যায় ,সেই শিউলি গাছের তলায়
ফুলের গালিচা বিছিয়ে রেখেছিলো যেন কেউ
তোমার সেই পাগলামি, সে কি ভোলা যায় ?
আমাকে দু’হাত পেতে অবুঝ বালিকার মতো
দাঁড় করিয়ে রেখেছিলে,
আর পরম যত্নে শিউলি ফুলগুলো
কুড়িয়ে দিচ্ছিলে হাতে ।
মনে হচ্ছিলো বুকের ভেতর থেকে
ভালোবাসা নিংড়ে দিচ্ছো তুমি !
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে শুধু দেখেছি তোমায়
মনে পড়ে যায় সেই হারানো বিকেল ,
নদীর তীরে কাশফুলের ছোঁয়ায়, হেঁটেছি অনেকটা পথ
তোমার আবদারে পড়েছিলাম নীল শাড়িটি।
আর তুমি পড়েছিলে আমার প্রিয় রং সাদা,
সাদা পাঞ্জাবিতে কি অপূর্ব লাগছিলো তোমায় !
নীল আকাশের বুকে ভেসে চলছিলো সাদা মেঘের দল
তুমি বললে, সাদা মেঘমালা হলে তুমি ,
আর আমি নীল আকাশ তোমার
কাশফুলেদের সাথে গল্প জুড়ানো প্রেম
সে কি কখনো ভোলা যায় ?
নদীতে নৌকা দেখে বায়না ধরেছিলাম উঠবার,
তুমি পরম যত্নে বৈঠা হাতে নিয়ে গান গাইতে গাইতে
আমাকে ভাসিয়েছিলে, স্বপ্নীল ভালোবাসায়।
আবার এসেছে শরৎ, যদিও তুমি নেই
সব কিছু ঠিকই আছে
সেই শিউলি গাছটা
আমাকে আজো ডেকে যায় ।
সেই কাশফুলের রাজ্যে আজো মন হারায়,
সেই শান্ত নদী যেন শুকিয়ে গেছে তোমার অপেক্ষায়
জানো, এখন আর আকাশ দেখিনা ।
ঐ নীল আকাশ আমাকে ভীষণ কাঁদায় !
কারনে অকারণে তোমার স্মৃতির শহরে নিয়ে যায়
আবার এসেছে শরৎ , হয়তো এভাবেই আসবে আবার
তোমার অপেক্ষায় কেটে যাবে আরেকটি শরৎ ।
তবুও কোন এক শরৎ – এ
হাতে হাত রেখে ‘ভালোবাসি’ বলবার অপেক্ষায়
বেঁচে থাকবে , চাতক পাখির মতো আমার হৃদয়।


