শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

রহস্যময় দ্বীপ বাল্ট্রা

আমাদের এই পৃথিবীতে প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালের এমন অনেক রহস্যই এখনো কোনো মানুষ বা বিজ্ঞানীদের পক্ষে উম্মোচিত করা সম্ভব হয়নি। এমনই এক অদ্ভুত রহস্যে ঘেরা ইকুয়েডরের ছোট্ট এক দ্বীপ বাল্ট্রা।

বাল্ট্রা মূলত জনবসতি শূন্য একটি দ্বীপ। দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের নিকটবর্তী ১৩টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ। আর এই ১৩টি দ্বীপের একটিই হচ্ছে বাল্ট্রা দ্বীপ। কিন্তু এখানকার অন্য ১২টি দ্বীপ থেকে বাল্ট্রা একেবারেই আলাদা ধরনের, অদ্ভুত এবং রহস্যময়। আর এই ব্যতিক্রমধর্মী কিছু বৈশিষ্ট্যই বাল্ট্রা দ্বীপটিকে অন্য দ্বীপ থেকে আলাদা করেছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক রহস্য ঘেরা এই বালট্রা দ্বীপের সম্বন্ধে অজানা কিছু তথ্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণে এই গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দ্বীপে এয়ারবেস স্থাপন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তখনকার এয়ারবেসের একজন অফিসার ফ্রান্সিস ওয়াগনার এর মাধ্যমেই বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে বাল্ট্রা দ্বীপের অদ্ভুত চরিত্রের কথা। এরপর অনেকেই এই দ্বীপের রহস্যময় আচরণের কথা স্বীকার করেন। কিন্তু কি সেই অদ্ভুত চরিত্র। কেনই বা বাল্ট্রা দ্বীপ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের এত আগ্রহ ?

পুরো গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জ হওয়ায় এখানে বছরের বেশিরভাগ সময়ে প্রচুর বৃষ্টি হয়। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো বৃষ্টির এক ফোঁটাও পড়ে না এই বাল্ট্রাতে। কী এক রহস্যজনক কারণে বাল্ট্রার অনেক উপর দিয়ে মেঘ উড়ে গিয়ে অন্য পাশে ঝরে পড়ে বৃষ্টি হয়ে। বাল্ট্রার অর্ধেক পার হওয়ার পর অদ্ভুতভাবে আর এক ইঞ্চিও এগোয় না বৃষ্টির ফোঁটা। বৃষ্টি যত প্রবলই হোক এ যেন সেখানকার এক অমোঘ নিয়ম। বাল্ট্রাতে এলেই অস্বাভাবিক আচরণ করে নাবিক বা অভিযাত্রীর কম্পাস। সব সময় উত্তর দিক নির্দেশকারী কম্পাস এখানে এসে কোনো কোনো সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আবার অনেক সময় দিক-নির্দেশক কাঁটা ইচ্ছামতো ঘুরতে থাকে অথবা উল্টাপাল্টা দিক নির্দেশ করে।

পলিমাটিসবচেয়ে রহস্যজনক ব্যাপার হলো বাল্ট্রা দ্বীপের উপর প্লেনে থাকাকালীন সময়েও এমন অদ্ভুত আচরণ করে কম্পাস। আবার এই দ্বীপ পার হলেই সব ঠিক। বাল্ট্রার আরেকটি অদ্ভুত দিক হলো- এর “মানসিক” দিক। অন্য বারোটি দ্বীপের তুলনায় “মৃত দ্বীপ” বাল্ট্রায় পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে কারো মাথা অনেক হালকা হয়ে যায়। অজানা অচেনা কোনো এক জায়গায় হারিয়ে যাওয়ার আশ্চর্যরকম ভালো একটা অনুভূতি আচ্ছন্ন করে ফেলে এখানে আশা বিজ্ঞানীদের মনকে। বেশিক্ষণ এই দ্বীপে থাকলে দ্বীপ থেকে চলে আসার পর কিছুদিন সেই আশ্চর্য অনুভূতি থেকে যায়। পরে অবশ্য সেই অনুভূতি আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়।

পলিমাটিঅদ্ভুত দ্বীপ বাল্ট্রায় কোনো বৃক্ষ নেই। নেই কোনো পশুপাখিও। কোনো পশুপাখি এ দ্বীপে আসতে চায় না। দ্বীপের রহস্যময়তার আবিষ্কর্তা ওয়েগনার জোর করে কিছু প্রাণীকে বাল্ট্রা এবং এর পাশের দ্বীপ সান্তাক্রুজের মধ্যবর্তী খালে ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেল বাল্ট্রাকে এড়িয়ে সান্তাক্রুজের ধার ঘেঁষে চলছে প্রাণীগুলো। শুধু তাই নয়, উড়ন্ত পাখিগুলোও উড়তে উড়তে বাল্ট্রার কাছে এসেই ফিরে যাচ্ছে। পাখিগুলি তাদের ওড়ার পথ এমন ভাবেই পরিবর্তন করছে দেখে মনে হয়, যেন অদৃশ্য কোনো দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে ওরা। বাল্ট্রা দ্বীপের এরকম অদ্ভুত আচরণের কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ এখনো কেউ খুঁজে পায়নি। বিজ্ঞানীরাও আজও এ রহস্যের কোন কুলকিনারা করতে পারেনি।

প্রকৃতির এই অদ্ভুত খেয়াল হয়তো একদিন না একদিন উন্মোচিত হয়ে যাবেই। এমন কোনো বিজ্ঞানী যিনি নিশ্চিত করে বলে দিতে পারবেন বাল্ট্রা দ্বীপের এই রহস্যের কারণ। অপেক্ষা করতে হবে আমাদের সেই দিন পর্যন্ত ৷

লেখক পরিচিতি

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা