রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

অজয় কুমার রায়ের কবিতা

সেই বিজয়ের দিনে

আমি আছি তোমাদেরই পাশে
অদৃশ্য অন্ধকারে-
শুনছি তোমাদের গলাবাজি,
দেখছি মঞ্চ নাটকের নিখুঁত অভিনয়-
স্তব-বন্দনা, আর পুষ্পস্তবক সারি সারি;

আমাকে স্মরণ করছো বিশেষ দিনে
নানা আয়োজনে,
আমার ত্যাগ, গর্ব যত ম্লান হয়ে যাচ্ছে,
বুকে হাত দিয়ে বল তো দেখি-
আদর্শের উদ্দীপনা চিত্ত শুদ্ধি করে
চেতনায় গেড়েছে শিকড়?

গতানুগতিক ধারা-
ইতিহাসের গৌরব গাঁথা মুখস্থ করে
উগড়ে দিচ্ছ সভা সমাবেশে,
ইতিহাস গড়ার নেই কোন প্রয়াস;
জনকের স্বপ্ন পেরেছ কি পূরণ করতে?

কতটুকু ভূমিকা তোমার
শুধাও আপন সত্ত্বাকে,
তুমি না উত্তরসূরি, তোমার কর্তব্য তো বটেই,
তাঁর প্রত্যাশার আশ্রয় তোমাকে ঘিরে;
শুধু অনুষ্ঠান নয়,
ত্যাগের আদর্শ চেতনায় ধরে
মাতৃপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে-,
শকুনের দুটি চোখ চিরতরে দাও অন্ধকরে,-
শঙ্কামুক্ত মাকে নিয়ে মেতে ওঠো
বিজয় উৎসবে-

সেই বিজয়ের দিনে, তোমাদের হয়ে
পতাকার ছায়ে, শক্তি যোগাব আমি
আলোর মিছিলে।

লেখক পরিচিতি

অজয় কুমার রায়
অজয় কুমার রায়
কবি গল্পকার ও প্রাবন্ধিক অজয় কুমার রায় মানিকগঞ্জ জেলায় ঘিওর উপজেলার নারচি গ্রামে ১৯৪৮ সালের ৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-প্রয়াত অক্ষয় কুমার রায়,মাতা-দিভা রায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে ২০০৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা,সাময়িকীতে ও যৌথ গ্রন্থে কবিতা,গল্প,নাটক প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর অসংখ্য ফাইলবন্দী লেখা থেকে প্রথম গল্পগ্রস্থ ‘শতাব্দীর ক্ষুধা’ একুশে বইমেলা‘১৫ তে প্রকাশ হয়েছে। পরবর্তী বছর একক কাব্যগ্রন্থ 'রংধনু' প্রকাশিত হয়েছ ৷ তিনি অন্তরঙ্গ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ৷ তিনি শিল্প সাহিত্য ও মননের অনলাইন মাসিক'পলিমাটি'র উপদেষ্টা সম্পাদক ৷ এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। বিভিন্ন সংগঠন হতে বহু সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন ।

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা