রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ সংখ্যা “স্বাধীনতার পংক্তিমালা”

সেই বিজয়ের দিনে

—অজয় কুমার রায়

আমি আছি তোমাদেরই পাশে
অদৃশ্য অন্ধকারে-
শুনছি তোমাদের গলাবাজি,
দেখছি মঞ্চ নাটকের নিখুঁত অভিনয়-
স্তব-বন্দনা, আর পুষ্পস্তবক সারি সারি;

আমাকে স্মরণ করছো বিশেষ দিনে
নানা আয়োজনে,
আমার ত্যাগ, গর্ব যত ম্লান হয়ে যাচ্ছে,
বুকে হাত দিয়ে বল তো দেখি-
আদর্শের উদ্দীপনা চিত্ত শুদ্ধি করে
চেতনায় গেড়েছে শিকড়?

গতানুগতিক ধারা-
ইতিহাসের গৌরব গাঁথা মুখস্থ করে
উগড়ে দিচ্ছ সভা সমাবেশে,
ইতিহাস গড়ার নেই কোন প্রয়াস;
জনকের স্বপ্ন পেরেছ কি পূরণ করতে?

কতটুকু ভূমিকা তোমার
শুধাও আপন সত্ত্বাকে,
তুমি না উত্তরসূরি, তোমার কর্তব্য তো বটেই,
তাঁর প্রত্যাশার আশ্রয় তোমাকে ঘিরে;
শুধু অনুষ্ঠান নয়,
ত্যাগের আদর্শ চেতনায় ধরে
মাতৃপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে-,
শকুনের দুটি চোখ চিরতরে দাও অন্ধকরে,-
শঙ্কামুক্ত মাকে নিয়ে মেতে ওঠো
বিজয় উৎসবে-

সেই বিজয়ের দিনে, তোমাদের হয়ে
পতাকার ছায়ে, শক্তি যোগাব আমি
আলোর মিছিলে।



স্বাধীনতার স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ

—ভজন সরকার

আমরা পালাচ্ছি মধ্যরাতের কুয়াশা পেরিয়ে
দূরের কোনো গ্রামে কিংবা কোনো স্বপ্নরাজ্যে
আমরা পালাচ্ছি।
হেমন্তের রাতে সোনালী ধানের ডগা মাড়িয়ে
আমরা পালাচ্ছি।
প্রিয় লাটিম-ঘুড়ি-ফুটবল
প্রথম পড়া বাল্যশিক্ষা সব ফেলে
আমরা পালাচ্ছি।
বাড়ির উঠোন, আম-জাম-নারকেল
ফুলের বাগান প্রজাপতি ফড়িং সব পেছনে ফেলে
আমরা পালাচ্ছি।
খেলার সাথীদের ছেড়ে
আমরা পালাচ্ছি।
ছোটো ছোটো পায়ে ঘুম চোখে
মায়ের হাত ধরে
আমরা পালাচ্ছি।

আমরা পালাচ্ছি কোথায় জানি না
তবুও আমরা পালাচ্ছি
পেছনে হায়েনা দস্যু
আমরা পালাচ্ছি
কখন পংখীরাজের ঘোড়ায় চড়ে
এক রাজকুমার উড়িয়ে নেবে স্বপ্নরাজ্যে
সেই আশায় ভোরের কুয়াশার দিকে
ছোটো ছো্টো পায়ে ঘুম চোখে
মায়ের হাত ধরে
আমরা পালাচ্ছি।

(সেই থেকে মুক্তিযোদ্ধারাই আমার স্বপ্নের রাজকুমার। বাংলাদেশ এক স্বপ্নরাজ্য।)

কিন্তু  তবু আমরা পালাচ্ছি
স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে
এখনও পালাচ্ছি।

আমরা পালাচ্ছি
স্বাধীন দেশ থেকে
স্বাধীনতার স্বপ্ন থেকে
জাতীয়তাবাদ ও গনতন্ত্র থেকে
ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র থেকে
সাম্য-সৌহার্দ্য ও পরমত সহিষ্ণুতা থেকে
নাগরিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা থেকে
আমরা ক্রমশঃ পালাচ্ছি চুপিসারে।

হায়েনা দস্যুর ভয়ে
পরাজিত শত্রুর ভয়ে
আমরা  আবার পালাচ্ছি
প্রতিদিন একটু একটু করে  আমরা পালাচ্ছি।

আমাদের কন্ঠ আকন্ঠ নোনাজলে ডুবছে প্রতিদিন
আমরা প্রতিবাদহীন পালাচ্ছি।
আমরা কোথায় পালাচ্ছি জানি না
শুধু জানি স্বপ্নভঙ্গের বেদনার নীল নিয়ে
আমরা একযোগে আবার পালাচ্ছি।

এবারও কি আসবে কোনো  রাজকুমার?
এবারও কি গর্জে উঠবে কোনো বজ্রকন্ঠ?
সমগ্র বাংলাদেশ হয়ত  সেই স্বপ্নের পথে ধরে
আজ আবার পালাচ্ছি ।
পলায়ণপর পথের এক সার্বজনীন সমাপ্তির আশায়
আমরা যেন আজ একযোগে সবাই পালাচ্ছি

আবার  আসবে কোনো রাজকুমার
পংখীরাজের ঘোড়ায় উড়িয়ে নেবে এক  স্বপ্নের দেশে
সেই আশায় ভোরের কুয়াশার দিকে
এখনও  আমরা পালাচ্ছি ।



স্বাধীনতা আমার

বেগম শামসুন্নাহার

স্বাধীনতা আমার যদি তোমার অর্থ হয়
মায়ের বুক ফাটা আর্তনাদ
যার পরশে দেশ মাতৃকা,
হবে মরুভূমি তাহলে-সেই স্বাধীনতা চাই না,
আমি যে মায়ের চোখের জল সইতে পারি না। স্বাধীনতা আমার, যদি তুমি হও উচ্ছশঙ্খলতার বীজ আর সে বীজে জন্ম নেয় বিষবৃক্ষ, তাহলে,
সেই বৃক্ষকে দু’হাতে উপরে ফেলে
এগিয়ে যেতে চাই সম্মুখে
যেখানে পাবো আলোর নিশানা।
স্বাধীনতা আমার, তোমাকে জাপটে ধরে
যদি দেশ মাতৃকার সন্তানেরা পায়ে পায়ে
এগিয়ে যেতে চায়, সেই ঘৃণ্য অসমতল পথে, তাহলে তোমার কাছে থাকবে অভিযোগ-
কোন অধিকারে ইস্রাফিলের শিঙ্গা ফুঁকে
মায়ের সন্তানকে-
নিয়ে যাচ্ছ সেই অজানা মহাপ্রলয়ের পথে?
অথচ যেদিন মায়ের সন্তান,
বুকের তাজা রক্তে এনেছিল স্বাধীনতা,
সেদিন তো কথা ছিল-আমরা ভাল হবো
ভেসে যাবনা কোনদিন পঙ্কিলতার আবর্জনায়- স্বাধীনতা আমার, আমি যে তোমায় ভালবাসি
তাই সইতে পারি না এই অবমাননা,
তোমার কাছে চাই ভালোবাসার সেই মন্ত্র
যে মন্ত্রের আলোকে তোমার অধম সন্তান
হবে সোনার মানুষ।
যদি তাই হয়, এসো স্বাধীনতা তোমায় আকড়ে ধরে
মেটাবো শত জনমের পিপাসা ৷



অবাঞ্ছিত জন্মের পাপ

—সোহরাব আহমেদ

আমাকে কেউ চিনুক আর না চিনুক-
যারা “৭১” দেখেছে অন্তত তারা চিনবে।
পিতৃ পরিচয় জানিনা কো, শুধু জানি
মমতাময়ী মা আমার
লাঞ্ছনার গ্লানি মুছতে-
আমার জন্মোত্তর পলাতক
আজোবধি-পলাতক সে।

অবাঞ্ছিত জন্মের পাপ আর গ্লানিবোধ ব্যয়
এই আমি আজোবধি নিজের পরিচয় খুঁজি
খুঁজি মাকে, সেই মাকে-
আমাকে দশ মাস পুশেছে জঠরে।
পিতাকে খুঁজতে গিয়ে উগ্রে উঠে ঘৃণা
পশ্চিমা মদদ পুষ্ট দুষ্ট পাপাচারী এক,
সৈনিকের ছদ্যবেশে পিশাচের
লাম্পট্ট উপমা।
আমাকে কেউ চিনুক আর না চিনুক
যারা “৭১” দেখেছে অন্তত তারা চিনবে।
ফলবতি বৃক্ষের আবার কলঙ্ক কিসের
মা এদেশের মানুষ তোমাকে দিয়েছে স্বীকৃতি
দিয়েছে সম্মানিত উপাধী “বীরঙ্গনা”
তোমার কলঙ্ককে কোরেছে মহিমান্বিত।
তুমি ফিরে এসো মা-
তোমাকে খুঁজছে আজো তোমারি সন্তান-
৫৩ বছরের খোকা অক্লান্ত-
শুধুই একটি বার
কিযে অনড় বাসনা তোমাকে ছোবার।
আমাকে কেউ চিনুক আর না চিনুক
যারা “৭১” দেখেছে অন্তত তারা চিনবে।
আমার মননে তবু অবাঞ্ছিত জন্মের পাপ
ঘৃণা ঘামে উৎবেলিত, খুঁজে ফিরি-
স্নেহের উত্তাপ।



স্বাধীনতা

—ঝর্ণা হক

শত কোটি রক্তে ভিজা তুমি
মায়ের শাড়ির আঁচল আজও লাল।
শহীদের আর্তনাতের চিৎকারে,
কাঁপিয়ে তোলে বাংলাকে।
তুমি বড় ত্যাগের, সাধনার স্বাধীনতা।
তোমার আগত বার্তায় ক্ষেতে ক্ষেতে
হাসছিল সরিষার ফুলেরা।
শেফালি গন্ধ ছিটালো ধরার ধূলায়।
কুয়াশার বিন্দু কনা তোমার পিয়াসে অপেক্ষিত
তুমি সেই স্বাধীনতা।
বৎসর শেষে প্রতিবার ফিরে আসো
আহত চিত্ত্বের ক্ষত জুরাতে
বন্দী বিহঙ্গের শৃঙ্খল তুটে, ডানা মেলে উড়াতে
রক্তের লোনা স্বাদ আজও মিশে আছে।
বাংলা মাটিতে
তুমি সেই স্বাধীনতা।
সবুজ ঘাসের মাদুর বিছায়ে অপেক্ষায় ধরিত্রী
গুনছে প্রহর আসা আগমনে
কঁচিকাঁচা আনন্দে উল্লাস,
গাবে বিজয়ের গান।
শিহরে প্রবীণের প্রাণ বিভৎস স্মৃতি চারণে
তুমি ত্যাগের তুমি আশার তুমি প্রতীক্ষার, স্বাধীনতা তুমি আমার স্বাধীনতা,
তুমি আমার স্বাধীনতা,
তুমি আমার স্বাধীনতা।



মঙ্গল আলোকে হোক শুভ উৎসব

—আব্দুস সাত্তার

স্বাধীনতা পেয়েছি, স্বাদ তার পাইনি
এ রকম স্বাধীনতা আমরা তো চাইনি
চেয়েছিলাম নিরঙ্কুশ সত্যের জয়
চেয়েছিলাম চিত্তাকাশ দীপ্তালোকময়
চেয়েছিলাম বাংলার বাঙ্গালির জয়
চেয়েছিলাম অসত্যের চির পরাজয়
আমাদের সে স্বপ্ন পরাভূত আজ
যারা যতো ধড়িবাজ, তারা মহারাজ
লজ্জায় ম্লান হয় নীতি-মানবতা
আমরা কি চেয়েছিলাম এই স্বাধীনতা ?
অরুন আলোয় এসো হে তরুণ-দল
দূর করি মন থেকে দ্বেষ-হলাহল
সজীব সুবাসে করি সুরভিত সব
মঙ্গল আলোকে হোক শুভ উৎসব।



স্বাধীনতা

—পারিজাত দেবনাথ সুমা

স্বাধীনতা
শহীদদের বিজয় গাথা
স্বাধীনতা
আমার পতাকার কথা।
স্বাধীনতা
স্বপ্ন দিয়ে আঁকা।
স্বাধীনতা
শহীদের রক্তে মাখা।
স্বাধীনতা
পবিত্র ভালবাসা
স্বাধীনতা
সবার প্রাণের আশা।
স্বাধীনতা
লাল সবুজের বেশ
স্বাধীনতা
হৃদয়ে বাংলাদেশ।
স্বাধীনতা
মুক্ত বিহঙ্গের ওড়া
স্বাধীনতা
আনন্দের ফল্গুধারা।
স্বাধীনতা
বাংলার আকাশ সমুদ্দুর
স্বাধীনতা
রাখালিয়ার বাঁশির সুর।
স্বাধীনতা
নদীর কলতান
স্বাধীনতা
মাঝির ভাটিয়ালি গান।
স্বাধীনতা
পদ্মা-মেঘনার কূল
স্বাধীনতা
গাছে হাজারো ফুল।



বাংলা আমার সোনার বাংলা

—সুবর্ণা রায়

বাংলা আমার জন্মভূমি
বাংলা আমার ভাষা,
বাংলা আমার মায়ের বুকে
ছোট্ট একটা বাসা।

শীতের সকালে সোনালী রোদে
একটু খানি বসা,
আমার মায়ের আঁচল তলে
অনেক ভালবাসা।

সোনালী ফসল আনে বয়ে
কৃষকের মুখে হাসি,
গোলাভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ
সকলেই দেখতে ভালবাসি।

আমার দেশের বুক ভরে রয়েছে
ফুলে আর ফলে,
নদী আর দীঘি ভরা মাছ আর
সুনীল জলে।

আমার দেশের মুক্তিযুদ্ধ
চোখে আনে জল,
আমাদের স্বাধীনতার আনন্দ
কোথায় পাবি বল?

২৬ মারচ এক সাথে হয়ে,,,,,
ফুল দেই সবে শহীদ মিনারে,
স্মরণ করি যত ভাই ও বোনেদের
অমর থাকুক সবে হৃদয় মাঝারে।

বাংলা আমার মাতৃভাষা, বাংলা মাতৃভূমি
বাংলা স্বর্গ সুখের রাণী,
বাংলা আমার সোনার বাংলা
সকলে মোরা তা জানি।



চেতনায় একবার কান পেতে শোন

—এম.আর.লিটন

চেতনায় একবার কান পেতে শোন
আজ বাংলার আকাশে বাতাসে
জল স্থলে ফসলের মাঠে
পাকা ধানের ঝন ঝন শব্দে
পাখির কণ্ঠে-ভোরের বাতাসে
ফুলের বাগানে-ভ্রমরে গুঞ্জনে
পাহাড়ি ঝর্ণা ধারায়-সুমদ্র সৈকতে
বৃষ্টির জল ধারায়-হিজলের বনে
মরা পাতার মর মর শব্দে
তটিনীর বুকে মৃদু ছন্দে
চেতনায় একবার কান পেতে শোন,
কী সুমধুর গান
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান।



৭১ এর দিনগুলো

—রঞ্জন হালদার

তুমি কি দেখেছিলে ? রক্তে রাঙানো সেই ৭১ এর দিনগুলি,
যা আছে আমাদের হৃদয়ে গাঁথা
যে মাটিতে মিশে আছে ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণ।
যা কখনো আমাদের হৃদয়ে থেকে ভুলবার নয়।

তুমি কি দেখেছিলে ? রক্তে রাঙানো সেই ৭১ এর দিন গুলো,
যা বাঙালিরদের শারীরিক অত্যাচার আর মা বোনের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি।

তুমি কি দেখেছিলে ? রক্তে রাঙানো সেই ৭১এর দিনগুলো,
বাঙালির বীরসেনারা অস্ত্র নিয়ে হাতে রাজাকারদের উপর ঝাপিয়ে পড়তো নিত্য দিবসে,

তুমি কি দেখেছিলে ? রক্তে রাঙানো সেই ৭১ এর দিনগুলো
বঙ্গবন্ধু ৭ই এই মার্চের ভাষণে যা ছিলো বাঙালির বিজয়ের জয়ধ্বনি ৷

তুমি কি দেখেছিলে ? রক্তে রাঙানো সেই ৭১ এর দিনগুলো
বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন জাতি বর্ণ মিশে আছে প্রতিটি বীর বাঙালির।

লেখক পরিচিতি

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা