শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

ডা. তাপস ভৌমিকের কবিতা

জবাব দাও!

হা:হা:হা: হাসির বিস্তীর্ণ শব্দে
থেমে যায় জনগণের চিৎকার।

যারা নগ্ন পায়ে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল
শহীদ মিনারের দিকে।

চারদিকে পিনপতন স্তব্ধতাকে ভেঙে দিয়ে,
ভেসে আসে সুদূর থেকে
বিদেহী আত্মাদের থমথমে কণ্ঠস্বর ।

চমকে উঠে সবাই,
একপ্রস্থ অট্টহাসির পর হঠাৎ –
আবার এসেছো তোমরা,এই নির্দিষ্ট দিনটিতে?
কি তোমাদের উদ্দেশ্য?

কি বললে? আমাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো!
হা: হা:হা:কি ভেবেছো তোমরা,
আমরা কিছু বুঝতে পারিনা মনে করছো?

এই নির্ধারিত দিনটিতেই
আমাদের কথা মনে পড়ে যায় তোমাদের তাইনা?
তারপর বাকি এগারটি মাস
কি চলে তোমাদের সমাজে,
অফিসে-আদালতে, ক্লাসে!

বাহ্ এইতো দ্বিধাহীনভাবেই বললে,ইংরেজি চলে।
লজ্জা করল না বলতে।
ছি: ছি: ছি: মনে পড়ে
আজ থেকে দীর্ঘ ছয় যুগ আগে
আমাদের বুকের রক্ত দিয়ে, হ্যাঁ মোদের জীবন দিয়ে
যে ভাষাকে ছিনিয়ে এনেছিলাম,
সেটা, বাংলা ভাষা।

রক্তস্নাত সেই ভাষাকে
পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবার দায়িত্ব ছিল কাদের?
এইতো অকপটেই উত্তর দিলে, আমাদের;
কিন্তু কি করেছো তোমরা?

বাহাত্তরটি বছর পেরিয়ে গেল
কালের ইতিহাস থেকে,
এখনও, হ্যাঁ এখনও তোমরা কিছুই করতে পারোনি; পারোনি, সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে স্থান দিতে।

কি?কি বললে, এটা করা অসুবিধাজনক!
হ্যাঁ, তাইতো অসুবিধাই বটে!
কিন্তু সেদিন বিদেশি ভাষার কবল থেকে
বাংলা ভাষাকে ছিনিয়ে আনাটা
সুবিধাজনক ছিল কি?

না, ছিল না,
বুকের রক্ত ঢেলে,আমাদের সে সুবিধা
আদায় করতে হয়েছিল।

তাহলে তোমরা কি পারো না
এই সামান্য অসুবিধাকে দূর করতে?
এখনো তোমরা একের সঙ্গে অন্যের দেখা হলে
বল হাউ ডু, ইউ ডু ?

সত্যি নিজেদের অস্তিত্ব,
তোমাদের আজ বিপন্ন হতে চলেছে;
এখনো সময় আছে,
প্রতিরোধ গড়ে তোলো;
বুঝতে শেখো নিজেদের আত্মার চাহিদা।

কেউ ইংরেজি বলতে না পারলে
সে হয় তোমাদের ঠাট্টার পাত্র,
তোমাদের কথা ভাবলে,
করুণা হয় তোমাদের জন্য।

না না না তোমাদের এই অবস্থাকে
আমরা মেনে নিতে পারছিনা,
তোমরা অথর্ব হয়ে পড়েছ,
পঙ্গু হয়ে পড়ছো,
শক্তি হারিয়ে ফেলছো।

আজ তাই তোমরা এসেছ
আমাদের শ্রদ্ধা জানাতে
নগ্নপায়ে, মিছিল করে।

কিন্তু ফেব্রুয়ারি পার হয়ে গেলে,
তোমরা ভুলে যাবে আমাদের;
মনে পড়বে না আর।
চলবে অফিসে-আদালতে
স্কুলে-কলেজে ইংরেজি ভাষার অবিরাম বর্ষণ।

ওই বাহুপাশে আবদ্ধ হয়ে বাংলা ভাষা
তাঁর জীবনী শক্তি হারিয়ে ফেলবে।

জবাব দাও, আমাদের রক্তে ঢালা
বাংলাভাষাকে হারিয়ে ফেলবার
কি অধিকার আছে তোমাদের?

জবাব দাও! কেন? কেন?
বাংলা ভাষার আয়ু
তোমরা কমিয়ে ফেলছো ?

হু হু হু কান্নার একটা চাপা গুঞ্জন
ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে মিলিয়ে গেল।

লেখক পরিচিতি

ডা. তাপস ভৌমিক
ডা. তাপস ভৌমিক
মানিকগঞ্জ জেলার ঝিটকা গ্রামের নৃপেন্দ্র রঞ্জন ভৌমিক ও মিনতি রানী ভৌমিক এর জৈষ্ঠ্যপুত্র ডা.তাপস ভৌমিক। ছোটবেলা থেকেই একজন প্রকৃতি প্রেমিক। আট বছর বয়সে তাঁর কবিতা লেখার শুরু। লেখা পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আলাদা খাতায়-গোপনে কবিতাগুলো সংরক্ষণ করতেন তিনি। ছাত্র হিসেবেও তুখোড় মেধাবী ছিলেন। ১৯৮৯ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন ৷ পরবর্তীতে কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারনে কবিতা লেখায় কিছুটা ভাটা পড়ে ৷ চারিদিকে ঘটমান বিভিন্ন ঘটনা তার মনকে আলোড়িত করে প্রতিনিয়ত। অন্তর্মুখি এই কবি শত ব্যস্ততার মাঝেও নিরলসভাবে লিখে চলেছেন।

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা