ড.দীনেশ চন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যের এক শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিত্বের নাম। ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার সুয়াপুর গ্রামে। পিতা ঈশ্বরচন্দ্র সেন মানিকগঞ্জ আদালতের উকিল ছিলেন। তার মাতার নাম ছিল রূপলতা দেবী।
দীনেশচন্দ্র সেন জগন্নাথ স্কুল থেকে এনট্রান্স (১৮৮২), ঢাকা কলেজ থেকে এফ.এ (১৮৮৫) পাস করেন। ১৮৮৯ সালে বি.এ ডিগ্রি লাভ করেন।
লেখাপড়া শেষে সিলেটের হবিগঞ্জ স্কুলে শিক্ষকতায় যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কুমিল্লার শম্ভুনাথ ইনস্টিটিউশন ও ভিক্টোরিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন কালে গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুঁথি সংগ্রহ করেন এবং সেসব উপকরণের সাহায্যে ১৮৯৬-এ “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য” শিরোনামে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন। ১৯১১ সালে তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থ “হিস্ট্রি অব বেঙ্গলি লিটেরেচার” প্রকাশিত হলে তা সর্বমহলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে “রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোসিপ” প্রদান করে এবং এর আওতায় তিনি মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করেন। ১৯২৬-এ মৈমনসিংহ গীতিকা গ্রন্থটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। শ্রী দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গবেষণাধর্মী “বৃহৎবঙ্গ” গ্রন্থটি বাঙালীর ইতিহাস চর্চায় অনন্য!
১৯২১-এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি.লিট ডিগ্রী এবং ১৯৩১-এ “জগত্তারিণী স্বর্ণপদক” প্রদান করেন। ১৯২১-এ ভারত সরকার তাঁকে “রায় বাহাদুর” উপাধিতে ভূষিত করেন।
১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর কলকাতার বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।


