মা দুর্গা
— নগেন্দ্র কুমার গোস্বামী, মানিকগঞ্জ ৷
স্মরি মা দুর্গা, তোমায় জগজ্জননী,
তব আগমন বারতায় উঠছে আনন্দ ধ্বণি।
দুর্গতি হইতে ভক্তজনে রক্ষাকর তাই,
দুর্গা নামের এ অর্থ আমরা খুঁজে পাই।
মঙ্গল কর বলে তাই ‘শিবাথ নাম ধরি,
মহামায়া নামটি তোমার নম্র শিরে স্মরি।
তুমি সৃষ্টি তুমি স্থিতি সংহার কারিণী,
বিরাজিতা এ জগতে মায়া সনাতনী।
স্বীয় ঐশ্বর্য্যতে তুমি ব্যাপ্ত বিশ্বময়,
কায্যর্হেতু বহুরূপে তব প্রকাশ হয়।
চন্ডীর তামসী রাজসী সাত্ত্বিকীমূরতি,
মহাকালী মহালক্ষ্মী আর মহাসরস্বতী।
যখন হয়েছে দানবের উত্থান—অত্যাচার,
ত্রিমূর্ত্তি ধরি করেছো অসুর সংহার।
ভক্ত রক্ষা অসুর ধ্বংস—তোমার এ নীতি,
অবতীর্ণ হইয়া কর জগতে সম্প্রীতি।
তোমার আগমনে যেন আনন্দিত প্রাণে,
পূজা উৎসব কাটে সবার হাসি—খুশি মনে।
ভক্ত মনে আছে যত, কামনা বাসনা,
পূর্ণ করিও মাগো, শ্রীচরণে এ প্রার্থনা।
ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ—চর্তুবর্গ ফল,
তুমিতো ভক্তেরে মা, দাও এ সকল।
আমি দীন জ্ঞানহীন, মূঢ়মতি অতি,
না জানি সাধন—ভজন ভক্তি ও স্তুতি।
ধর্মে যেন মতি থাকে এ প্রার্থনা করি,
সুস্থ দেহে ‘মা দুর্গাথ ডাকতে যেন পারি।
দুর্গাপূজা
—সুমী হালদার,ঘিওর
শিউলি ফুলের গন্ধে আমার মন যে কেমন করে
একটি বছর পরে আবার আসছে দেবী ঘরে।
কাশফুল আর নীলাকাশে শরৎরানী ঐ হাসে
কাশফুলের দোলায় বাতাস ধেয়ে আসে ।
দীঘির জলে পদ্ম শালুক দিচ্ছে উঁকি তাই
এবার পূজায় আনন্দেতে মাতবো রে সবাই ৷
পুত্র কন্যা সঙ্গে নিয়ে তিনটি দিনের তরে
গৌরী আসবে মর্ত্যলোকে আনন্দ ঘরে ঘরে।
ত্রিনয়নী মাগো
—সুবর্ণা রায় মন্ডল, বানিয়াজুরী
দুর্গা মা আমার মা, হয় না তোমার তুলনা,
ত্রিভুবনের মা তুমি, তুমি সর্বগুণ সম্পূর্ণা ৷
ধরাধামে আসো মাগো, তুমি আশ্বিন মাসে,
মানুষসহ সব জীব আনন্দ জোয়ারে ভাসে ৷
সবে মিলে দেই অঞ্জলি তোমার রাঙ্গা চরণে,
সাহস দিয়ো মনে, শত দুঃখ কষ্টের দিনে ৷
নবমীতে মন খারাপ তুমি চলে যাবে বলে,
দশমীতে সিদুঁর খেলার মধ্যে বিদায় নিলে ৷
আগমনি
— সুব্রত সরকার,ঘিওর
শরৎ এসেছে
বাতাসে ভেসেছে
মিষ্টি একটা গন্ধ
শুভ হোক শুভ ৷
পদ্ম ফুটুক ইচ্ছা ছুটুক
কুমোর বাড়ির দিকে
নতুন পোশাক ধুনছি ঢাঁক
দুলছে নাড়ুর ছিঁকে ৷
মহামায়ার মহালয়া
পতিতের তুমি হও অভয়া
অসুর সকল দন্ড পাবে
সন্তনেরা পাবে দয়া ৷
পথ রাঙ্গুক শিউলি ফুলে
দুলে থাকা কাঁশের বন
মন্দিরে মন্দিরে
মায়ের বিশাল আয়োজন ৷
ত্রিনয়নের প্রভা তোমার
আলো করুক মোদের প্রাণ ৷
আনন্দ আগমনী
—সৌরভ দাস,তেরশ্রী
মা তুমি আসবে বলে,শুভ্র মেঘে
সেজেছে নীল আকাশ ৷
সবার আগে জানিয়ে দিল
আগমনীর আভাস ৷
সোনালী সূর্যের হাসি পড়েছে
শিউলি অতসীর বুকে ৷
সেই হাসিটি দেখতে পাই
জগৎ জননীর মুখে ৷
কাশবনের ছায়া শিরে
স্রোতস্বিনী নদী তীরে,
রক্তপদ চিহ্ন দেখি
কাঁদামাটি ঘিরে ৷
একি আগমন বার্তা দিলে
ঢাক-কাসরের শব্দ শুনি,
কোমল সুরে শঙ্খধ্বনি
এই তো মায়ের আনন্দ আগমনী ৷
মা দুর্গা এলো
—বিনীতা সাহা,তেরশ্রী
মা দুর্গা এলো
সকল দুঃখ সরে গেল,
মা দুর্গা এলো
আনন্দে জগৎ ভরে গেল ৷
মা দুর্গা এলো
সবাই নতুন পোশাক পরলো,
মা দুর্গাএলো
ঢাকে ঢোলে বাড়ি পড়লো ৷
মা দুর্গা এলো
নাড়ু মোয়া বানানো হলো,
মা দুর্গা এলো
মা-বাবা নিয়ে জগৎ ধন্য হলো ৷
মা দুর্গা এলো
শরতে শিউলি পদ্ম ফুটলো,
মা দুর্গা এলো
সবাইকে নিমন্ত্রণ দেওয়া হলো ৷
-
নারীশক্তি
—নবনীতা দাস, তেরশ্রী ৷
ধিক্কার জানাই হে পুরুষ
তোমায় জানাই ধিক্কার,
যে হাতে দিয়েছো যন্ত্রণা
নারীদের করেছো শিকার ৷
লোভের বশে মত্ত হয়ে
খেলেছো নারীর মান নিয়ে
আবার করছো দেবীর পূজা
ফুল-জল দিয়ে ৷
হে পুরুষ প্রার্থনা জানাই
তোমায় করজোড়ে,
নারীশক্তিকে পূজা দাও
মাতৃ রূপে প্রাণ ভরে ৷


