রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

বার্লিন || ম্যারি বয়লি ও’রেইলি

অনুবাদ : মোজাফফর হোসেন

একটি ট্রেন হামাগুড়ি দিয়ে বার্লিন ছেড়ে আসছিল। ট্রেনের প্রতিটি বগি নারী ও শিশুতে গিজগিজ করছে। সুস্থ-সবল দেহের পুরুষ মানুষ সেখানে ছিলো না বললেই চলে। একজন বয়স্ক মহিলা ও চুলে পাকধরা সৈনিক পাশাপাশি বসা। মহিলাটিকে বেশ রুগ্ন ও অসুস্থ দেখাচ্ছিল। তিনি গুনে চলেছেন, ‘এক, দুই, তিন’— ট্রেনের মতোই আপন ধ্যানে ক্ষণিক বিরতি দিয়ে। ট্রেনের একটানা ঝিকঝিক শব্দের ভেতরেও যাত্রীরা তার গণনা দিব্যি শুনতে পায়। দুটি মেয়ে বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করছিল। বোঝায় যাচ্ছে, তারা মহিলার গণনা শুনে বেশ মজা মেয়েছে। মেয়ে দুটোকে উদ্দেশ্য করে একজন মুরুব্বী গোছের লোক বিরক্তিসূচক গলা খ্যাঁকানি দিয়ে উঠলে কক্ষটিতে একধরনের হালকা নীরবতা এসে ভর করলো।

‘এক, দুই, তিন’— মহিলাটি শব্দ করে গুনলেন, যেন পৃথিবীতে তিনিই একমাত্র বাসিন্দা। মেয়ে-দুটি আবারও খুকখুক করে হেসে উঠলো। বোঝা গেল তারা হাসিটা চেপে রাখার যথেষ্ট চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। পাশে বসা বয়স্ক সৈনিক সামনের দিকে কিঞ্চিৎ ঝুঁকে ভারী গলায় বললেন: ‘শোনো মেয়েরা, আশা করি আমার কথাগুলো শোনার পর তোমরা আর হাসবে না। এই অসহায় মহিলাটি আমার স্ত্রী। কিছুক্ষণ আগেই আমরা যুদ্ধে আমাদের তিন সন্তানকে হারিয়েছি। যুদ্ধের সম্মুখভাগে অগ্রসরের আগে আমি তাদের মাকে একটা বিকারগ্রস্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে রাখতে যাচ্ছি।’

কক্ষটিতে ভয়ঙ্কর নীরবতা এসে ভর করলো।

লেখক পরিচিতি

আরও লেখা

spot_img

সাম্প্রতিক লেখা