অনেক দিন আগের কথা তেওতা জমিদার বাড়ির মহারাজের সদর দরজার সামনে ছিল একটি নারিকেল গাছ ৷ সেখানে ছিল একটি খোরল, সে খোরলে থাকত একটি কোকিল ৷ সে সকালে দুপুরে মধুর সুরে ডাকতো ৷ তা শুনে মহারাজ পাগলপ্রায় হয়ে গেলেন ৷ মনে মনে চিন্তা করলেন — এই পাখিকে আমি ধরবো ৷ মধুর সুরেলা এই পাখিটাকে আমার কাছে রাখবো ৷ সকাল সন্ধ্যায় পাখির সুরে ভরবে আমার প্রাণ ৷
এবার রাজা রূপার খাঁচা তৈরি করলেন ৷ ব্যাধকে ডেকে পাখিকে ধরতে আদেশ দিলেন ৷
রাজা আর ব্যাধের কথোপকথন গাছের উপর থেকে কোকিলটি শুনলো ৷ কোকিল বিকেলবেলা সবার কাছে বিদায় নিয়ে বাসা ত্যাগ করলো ৷
এদিকে কোকিলের বাসার অদূরে রাজপ্রাসাদের কোনায় থাকতো একটা লোভী ফ্যাঁচা ৷
ফ্যাঁচা চিন্তা করল—আমি এখানে থাকি, বৃষ্টি এলে বৃষ্টিতে ভিজি ৷ কোকিল তো আর ফিরে আসবে না, আমি তাহলে ওই বাসায় যাই,একটু শান্তিতে থাকি ৷
যেই ভাবা সেই কাজ ৷ সে ওই বাসায় চলে গেল ৷ সন্ধ্যার সময় ব্যাধ গাছে উঠে পাখিটি ধরে মহারাজের কাছে এসে বলল—”মহারাজ, মহারাজ মহারাজ ! এই নিন আপনার পাখি ৷”
মহারাজের পাখি দেখে সে কি আনন্দ ! তিনি বললেন— “বাহ, পাখিটাতো খুউব সুন্দর ৷ তাই তো সুমধুর সুরে ডাকে ৷”
সে পাখিটাকে রুপার খাঁচায় রাখলো ৷ নানারকমের ভালো ভালো খাবার এনে পাখির সামনে রাখলো ৷ পাখি খায় না, ডাকেও না ৷ পাখি মনে মনে ভাবতে লাগল, কেন আমি ওই বাসার প্রতি লোভ করলাম ? তাইতো আজ আমার এমন পরিনতি ৷
পাখিটি মনে মনে বলতে লাগলো, “হে ভগবান, আমি আর লোভ করব না ৷ আমাকে মুক্তি দাও ৷ এই ভাবে দুইদিন কেটে গেল ৷ পাখি খায় না, ডাকেও না ৷ তখন সবাই মিলে চিন্তা করলেন পাখি কেন ডাকে না ? মহারাজকে তার মন্ত্রিপরিষদের লোকজন বললেন, “মহারাজ আপনি কোন চিন্তা করবেন না, আমরা ব্যবস্থা করছি ৷ আমরা পাখিকে ডাকাতে পারি ৷
মহারাজ ভাবল,তাইতো ওরা যদি পারে দেখুক না চেষ্টা করে ৷ তখন ওই লোকেরা বড় বড় কঞ্চি দিয়ে পাখিটাকে এদিক থেকে ওদিক থেকে খোঁচা দেয় ৷ পাখিটার খুব কষ্ট হয় ৷ পাখিটা ভগবানকে বলছে,—হে ভগবান,আমার বাক্য খুলে দাও না হয় আমার মৃত্যু দাও ৷ আমি যেন মানুষের মত কথা বলতে পারি ৷
ভগবান পাখির পাখির কষ্ট দূর করার জন্য পাখির বাক্য খুলে দিল ৷ তখন পাখি বললো— মহারাজ,
কুহু কুহু রব করে
কোকিলের নন্দন,
দৈবযোগে ধরা পড়লো
ফ্যাচারও নন্দন ৷
খাঁচার জ্বালায় মরি না, মহারাজর
খুঁচার জ্বালায় মরি ৷
মহারাজ যদি কোন উপদশে করেন
তাহলে কিছু ফ্যাচুর ফ্যাচুর করতে পারি ৷
পাখির কথা শুনে মহারাজের মনে খুব মায়া হল ৷ তিনি পাখিটাকে ছেড়ে দিলেন ৷ পাখিটা উড়ে গেল ৷


